প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকেও ঋণ!
সরকারি ব্যাংকগুলোতে হচ্ছেটা কী?
আবেদন করা হয়েছে তিন লাখ টাকার, ঋণ অনুমোদন হয়েছে ৩০ লাখের! ঋণ গ্রহীতা ৩ লাখ টাকা পেলেও বাকি টাকা চলে গেছে অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে। শুধু তাই নয়, গণহারে ঋণ অনিয়ম করে হুমকির মুখে পড়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) আশুগঞ্জ শাখা। এর ৭৮ শতাংশ ঋণই খেলাপি হয়ে গেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ব্যাংকে অনিয়ম-জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই একের পর এক সরকারি ব্যাংকে কেলেংকারি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে; যার সর্বশেষ নজির বিডিবিএলে বড় ধরনের ঋণ কেলেংকারি। উদ্বেগের বিষয়, ঋণ কেলেংকারির সঙ্গে জড়িত ওই শাখার এক কর্মকর্তাকেই দেয়া হয়েছে ঋণ আদায়ের দায়িত্ব। এটা যে নিজেদের অপকর্ম আড়াল করার এক ধরনের চেষ্টা তা বলাই বাহুল্য। আমরা মনে করি, সরকারি ব্যাংকগুলোতে বহু কেলেংকারির পরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিয়ে কর্তৃপক্ষ বসে থাকতে পারে না।
বিডিবিএলের প্রধান ও ছয়টি বড় শাখার ওপর বিশদ পরিদর্শন পর্যালোচনা করে ঋণ কেলেংকারি ও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা গেছে, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে নেয়া হয়েছে অনেক ঋণ যা আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে এমন কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে সরকারি সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকে বড় ধরনের ঋণ কেলেংকারি ও পুকুর চুরির ঘটনা ঘটলেও অর্থ মন্ত্রণালয় কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা, উল্টো এক ধরনের প্রশ্রয় দিয়ে আসছে।
অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমান সময়ে ব্যাংক হচ্ছে অর্থনীতি তথা উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। এতে যে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য। তাছাড়া ব্যাংকের টাকা হল কর দেয়া মানুষের শ্রম-ঘামের উপার্জনের আমানত। কাজেই এ সেক্টরে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা মনে করি, হলমার্ক কেলেংকারি থেকে শুরু করে বাংলাদেশ বাংকের রিজার্ভ চুরি- সব অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হলেই এ খাতে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। প্রয়োজনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ কমিশন গঠন করা যেতে পারে। খেলাপি ঋণ উদ্ধার, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও শৃংখলা ফেরানো এবং যে কোনো অনিয়ম রোধে শীর্ষ মহলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবি।



  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by