প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০৩:৩৪:২৭
বিনিয়োগে প্রতিকূলতা
অনুকূল পরিবেশ গড়তে হবে
বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহজীকরণ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই এ বৈঠকে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের বিভিন্ন আলোচনা থেকে বেরিয়ে এসেছে, দুই প্রধান কারণে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অন্যটি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা। বৈঠকটির ইতিবাচক দিকটি হল, এই অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যানরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকটিতে যেসব কথা বলা হয়েছে, তার সত্যতা পাওয়া যাবে বিশ্ব^ব্যাংক কর্তৃক প্রণীত ব্যবসায়ের পরিবেশ সূচক ২০১৭-এ। এই সংস্থার ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম। আরও দেখা যাচ্ছে- নতুন ব্যবসা শুরু করা, বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া, ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশ্বে তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ায়ও বাংলাদেশের অবস্থান অনেক নিচে। এসব তথ্যের আলোকে দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করার প্রশ্নটিই সামনে চলে এসেছে এখন। আমাদের কথা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ব্যবসা সহজীকরণের অঙ্গীকারনামায় বাংলাদেশ স্বাক্ষর করলেও বিষয়টিতে কি যথাযথ মনোযোগ দেয়া হচ্ছে?

বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুব একটা দেখা যায় না। উপরন্তু, উদ্যোক্তারা যদি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে পড়ে এবং ব্যবসাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকে, তাহলে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগে দু’য়ে মিলে বড় ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। গ্যাস, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ইত্যাদি সেবা সহজ করার দাবি দীর্ঘদিনের। ওয়ানস্টপ সার্ভিসের কথাও বলা হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে। অথচ নতুন উদ্যোক্তারা এই তিন সংকটের কথা ভেবে এক পা এগোলেও দু’পা পিছিয়ে পড়েন। বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন- সময়, পদ্ধতি ও উৎপাদন খরচ- এই তিন সমস্যার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। কথা হচ্ছে, এসব সমস্যা তো অনেক আগে থেকেই চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। কাজগুলো ফেলে রাখা হচ্ছে কেন? সম্ভাবনাময় অর্থনীতির এই দেশে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার বদলে তাদের যদি নিরুৎসাহিত করা হয়, তাহলে ‘সম্ভাবনা’র বক্তৃতা দিয়ে লাভ কী? প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর করলেই সেখানকার সমাবেশগুলোয় উপস্থিত সুধীসমাজকে দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে থাকেন। তার আহ্বানে অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেন; কিন্তু কাজে নামতে গিয়ে পদে পদে যে হয়রান হতে হয় তাদের, সেটা শুধু হয়রানিই নয়, অবমাননাকরও বটে।

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার যে টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, অর্থনীতির আকার না বাড়লে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না। আর অর্থনীতির আকার বাড়াতে হলে ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো করতে হবে প্রশস্ত ও সহজপ্রবেশ্য। বলাবাহুল্য, সরকারি বিভিন্ন সেবা, সমুদ্র বন্দরগুলোর সক্ষমতা, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ইত্যাদি বিষয়ের সুষ্ঠু সুরাহা করা গেলে এ দেশের অর্থনীতির আকার বড় হতে বাধ্য। আলোচ্য বৈঠক থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো যথাযথ গুরুত্ব পাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।


 
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by