প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
হৃদরোগীদের জিম্মিকরণ
ধর্মঘটী আমদানিকারকদের শাস্তি দিন
হৃদরোগীদের জরুরি চিকিৎসা এনজিওপ্লাস্টির ক্ষেত্রে ব্যবহার্য করোনারি স্ট্যান্টের (হার্টের রিং) দাম কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এর আমদানিকারকদের ধর্মঘট আমাদের হতবাক করেছে। বুধবার তাদের এ অঘোষিত ধর্মঘটের কারণে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউটসহ সরকারি হাসপাতালগুলোয় হৃদরোগীদের রিং পরানো সম্ভব হয়নি। এতে জটিল হৃদরোগীদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। হৃদরোগীদের ঝুঁকিতে ফেলে, তাদের জিম্মি করে নিজেদের মুনাফার স্বার্থে যারা অমানবিক ধর্মঘটের আশ্রয় নেয়, তারা নিঃসন্দেহে বিবেকহীন। তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
জানা যায়, অনুমোদিত ২১টি প্রতিষ্ঠান ৪৭ ধরনের রিং আমদানি করে থাকে। তারা তাদের ইচ্ছামতো দামে সেগুলো বিক্রি করে। উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে একটি করোনারি স্ট্যান্টের জন্য রোগীকে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা গুনতে হয়। বেসরকারি হাসপাতালে এর দাম রাখা হয় প্রায় দ্বিগুণ। স্বভাবতই দরিদ্র রোগীদের জন্য এ ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন। এ বিবেচনায় সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর হার্টের রিংয়ের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ অনুযায়ী ২৫ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা দামে দু’ধরনের রিং বিক্রি করার কথা। কিন্তু আমদানিকারকরা বলছে, সরকার নির্ধারিত দামে নয়, তারা আগের দামেই রিং সরবরাহ করবে। আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে কোনোরকম স্বেচ্ছাচারিতা বরদাশত করার সুযোগ নেই। এ প্রসঙ্গে আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধসহ সব ধরনের ওষুধের দাম তাদের ইচ্ছামতো বাড়িয়ে আসছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা নেই ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের। যে ক্ষমতা আছে তা অত্যন্ত সীমিত। ফলে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থই রক্ষিত হচ্ছে এক্ষেত্রে। এটি মেনে নেয়া যায় না। চিকিৎসা অন্যতম মানবাধিকার। সাধারণ মানুষের স্বার্থ দেখতে হবে সর্বাগ্রে।
জানা যায়, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে হার্টের একটি রিংয়ের সর্বোচ্চ দাম ৩০ হাজার রুপি। দেশে এর দাম বেশি বলেই অনেক হৃদরোগী ভারতে যাচ্ছেন। বস্তুত দেশে সব ধরনের চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনা না গেলে রোগীদের বিদেশনির্ভরতা কমানো যাবে না। এই সাধারণ যুক্তিটি অনুধাবন করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে প্রকৃত জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেবে সরকার, এটাই কাম্য।



  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by