প্রকাশ : ০৯ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ০৯ জুলাই, ২০১৭ ০১:২৫:৪৯
চাল নিয়ে ভয়ানক কারসাজি
অপরাধী চক্রের বিচার করতে হবে
দেশের প্রধান খাদ্য চালের আমদানি শুল্ক কমানোর লক্ষ্য স্থির করে এক ভয়ানক আর্থিক কারসাজি ঘটানো হয়েছে দেশে। এই কারসাজিতে ব্যবসায়ীদের একটি চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম বাড়িয়ে বাজার থেকে অতিরিক্ত প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। শুল্ক কমানোর আগের আড়াই মাসে চক্রটি ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা চালে কেজিপ্রতি আট টাকা ও সরু চালে ছয় টাকা বেশি আদায় করে এই বিপুল অংকের টাকা হাতিয়েছে। এ সময়ে প্রতিদিন তারা বিক্রি করেছে গড়ে প্রায় ৩৫ হাজার টন চাল।

বলা বাহুল্য, বর্তমানে দেশের কোথাও চাল সংকট নেই। রোববার সরকারের সঙ্গে দেশের ৫৪ জেলার শীর্ষ চাল ব্যবসায়ী ও চেম্বার নেতাদের মধ্যে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, সেখানেও উঠে এসেছে এই তথ্য। উপরন্তু মোকামগুলোর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও ছিল না কোনো প্রতিকূলতা, সচল ছিল পরিবহন খাত। ফলে চালের মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের যে ঘটনা ঘটেছে, তার পেছনে কোনো যুক্তিই থাকতে পারে না। তারপরও ঘটনা ঘটেছে এবং সেটা পরিকল্পিতভাবেই ঘটানো হয়েছে। অসাধু সিন্ডিকেটটি বাজার থেকে শুধু চালের অতিরিক্ত দামই হস্তগত করেনি, তারা সরকারকে এক ধরনের জিম্মি করে চাল আমদানির শুল্ক হারও ইচ্ছামতো কমিয়ে নিয়েছে।

আমাদের বলতেই হচ্ছে, চাল নিয়ে যে অনৈতিক কারসাজি হয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে বাজেট পাস হওয়ার আগ পর্যন্ত মোটা চালের দাম ছিল কেজি প্রতি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। এই চালের ভোক্তা সাধারণভাবে গরিব শ্রেণী। বর্তমানে কেজিপ্রতি মাত্র দু-এক টাকা কমেছে অবশ্য। প্রশ্ন থেকেই যায়, চালের প্রচুর আমদানি সত্ত্বেও এর দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে না কেন? এই যে কেজিপ্রতি সাত থেকে আট টাকা বেশি দাম দিতে হচ্ছে, এটি দেশের গরিব শ্রেণীর প্রতি এক নিষ্ঠুর তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। অনেক পরিবারকেই এ সময় তিন কেজি চালের চাহিদা কমিয়ে আড়াই কেজিতে নামিয়ে আনতে দেখা গেছে। চালের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে যে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে, সেই দায় কার ওপর বর্তায়? চাল ব্যবসায়ীদের ওপরই শুধু? ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের প্রভাবশালী, এমনকি নীতিনির্ধারকদেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে চালের কৃত্রিম সংকটের হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর চিহ্নিত না হওয়ার কারণে তারা থাকছে আইনের বাইরেও। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ব্যবসায়ীরা সরকারকে অসহযোগিতা করছে। সেই ব্যবসায়ীদের পরিচয় কী, বাণিজ্যমন্ত্রী কি তা জানেন না? চালের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করা এমন কোনো কঠিন কাজ নয়। এই সোজা কাজটি করে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। দেশের প্রধান খাদ্য নিয়ে এ ধরনের অনৈতিকতা বরদাশত করা যায় না।


 
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by