মুজিব মাসুদ    |    
প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
অবশেষে ৭ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
প্রস্তাবনা যাচ্ছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে
অবশেষে তরল জ্বালানিভিত্তিক প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াটের ৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব যাচ্ছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে। আগামী বৈঠকে এ প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। মোট ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কথা থাকলেও বাকি ৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। জানা গেছে, ওই ৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রক্রিয়াগুলো যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। যে কোনো সময় এসব কেন্দ্রের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সরকার সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো কয়লা নাকি তেলভিত্তিক করা হবে তা নিয়ে। শেষ পর্যন্ত তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, সরকার এ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কিনে জাতীয় গ্রিডে দেবে। তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন লাগবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, প্রতিটি কেন্দ্র থেকে সরকার বছরে কমপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ কিনবে। তিনি বলেন, ১০০ মেগাওয়াটের এ ধরনের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করতে সর্বোচ্চ ৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে। কাজেই প্রথম বছরেই কার্যাদেশপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলো তাদের খরচ উঠিয়ে উল্টো লাভের মুখ দেখতে পারবে। কেন্দ্রগুলো থেকে সরকার আগামী ২০ বছর ধরে বিদ্যুৎ ক্রয় করবে। এতে একটি কোম্পানি ২০ বছরে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি লাভ করতে পারবে। কোম্পানিগুলোর দর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিটি কোম্পানির কাছ থেকে সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ক্রয় করবে গড়ে ৯ টাকা করে। প্রত্যেক কোম্পানির দেয়া দরই ৯ টাকার কাছাকাছি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার ইচ্ছা করলে আরও কম দামে কেন্দ্রগুলোর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে পারত। তবে তাদের মতে, আগে সরকার দরপত্র ছাড়া যেসব রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করত সেখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ত ১৬ থেকে ১৮ টাকার বেশি। সেখানে দরপত্রের মাধ্যমে আসায় এবার সে দর অর্ধেকের কাছাকাছি চলে এসেছে। এতে সরকারের অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। সরকার এখন ইচ্ছা করলে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল কোম্পানির কাছ থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত বাতিলও করতে পারে।
গত বছর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বেসরকারি খাতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ১০০০ মেগাওয়াটের ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দরপত্র আহ্বান করে। দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হবে। এলাকাগুলো হল- চাঁদপুর, নোয়াখালী, বাগেরহাট, বগুড়া, জামালপুর, ফেনী, মেঘনাঘাট, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও শান্তাহার। গত বছর ৬ নভেম্বর এসব দরপত্র যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। মোট ৩৬টি কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে ৫টি কোম্পানির আবেদন বাতিল হয়ে যায়। বাকি ৩১টি কোম্পানি টেকনিক্যালি যোগ্য বিবেচিত হয়। এরপর ফিন্যান্সিয়াল দর যাচাই-বাছাইয়ে ১০টি কোম্পানিকে নির্বাচিত করা হয়। সূত্র জানায়, ময়মনসিংহে এনার্জি গ্রুপের দুটি এবং ইউনাইটেড গ্রুপের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ কারণে এগুলো ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়নি। জানা গেছে, দরপত্রে অংশ নেয়া এনার্জি গ্রুপের কাগজপত্রে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। অপরদিকে ইউনাইটেড গ্রুপ একাই ওই কেন্দ্রে সর্বনিন্ম দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে।
মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য তৈরি প্রস্তাবনা অনুযায়ী দেখা গেছে, রংপুর সাইটের জন্য যৌথ উদ্যোগের কোম্পানি (জেভিসি) কনফিডেন্স সিমেন্ট প্রতি ইউনিট ১০.৪৩৪ মার্কিন সেন্টে সর্বনিন্ম দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে। এ কেন্দ্রের জন্য অংশ নেয়া বাকি কোম্পানিগুলোর দর ছিল- এনার্জি প্যাক ১০.৫২ সেন্ট, লাকথানবি পাওয়ার ১০.৬১ সেন্ট এবং জেভিসি কমোডিটি পাওয়ার লিমিটেড ১০.৬৯ সেন্ট।
চাঁদপুর সাইটের জন্য প্রতি ইউনিট ১০.০৮ মার্কিন সেন্টে সর্বনিন্ম দরদাতা হয়েছে ডোরিন পাওয়ার জেনারেশন। অংশ নেয়া অন্য দরদাতারা হল- প্রিসিসিং এনার্জি ১০.২৮ সেন্ট, সামিট পাওয়ার ১০.৩৩ সেন্ট এবং রিজেন্ট স্পিনিং মিলস ১০.৩৪ সেন্ট।
চৌমুহনী সাইটের জন্য সর্বনিন্ম দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে এনার্জি প্রিমা লিমিটেড। দ্বিতীয় সর্বনিন্ম দরদাতা ছিল ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। তাদের দর ছিল ১০.৭৮ সেন্ট।
বাগেরহাট সাইটে বিজয়ী এক্সিসেল লিমিটেড। তাদের দর মূল্য ৯.৯০ সেন্ট। অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডোরিন পাওয়ার ৯.৯২ সেন্ট, ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ ১১.১৯, অ্যাক্রন পাওয়ার ১০.৪৯, বারাকা পাওয়ার ১০.২৮, পাওয়ার প্যাক ১১.৪৩, সামিট ১০.৩০ এবং মোশাররফ স্পিনিং মিলস একই প্রকল্পের জন্য ১০.২৮ সেন্ট দর দিয়েছিল।
বগুড়া প্রকল্পের জন্য কনফিডেন্স সিমেন্ট ১০.৪৮ সেন্ট দিয়ে সর্বনিন্ম দরদাতা হয়েছে। এর দ্বিতীয় সর্বনিন্ম দরদাতার দরমূল্য ছিল ১০.৫১ সেন্ট। ঠাকুরগাঁও সাইটের ১০.৪৪ সেন্ট দিয়ে সর্বনিন্ম দরদাতা হয়েছে এনার্জি প্যাক। তার নিকটতম দর ছিল ১০.৭৮ সেন্ট। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই আগামী দুই মাসের মধ্যে এ সাতটি কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়জনিত চুক্তি করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে এ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে। জানা গেছে, কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য নিজেরাই ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে পারবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে যদি ফার্নেস অয়েলের দাম বেড়ে যায় তাহলে তারা সরকারের কাছে বেশি দামে বিদ্যুৎ বিক্রির জন্য আবেদন করতে পারবে।



  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by