•       ফরিদপুরের সালথায় দুই ইউপি চেয়ারম্যান সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ১
যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি
‘ষড়যন্ত্রকারীদের’ খুঁজতে কমিশন গঠনে সময় পেল সরকার
পদ্মা সেতু প্রকল্পে ‘দুর্নীতির মিথ্যা গল্প’ সৃষ্টির নেপথ্যে ‘প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের’ খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি বা কমিশন গঠনে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তার অগ্রগতি জানাতে সরকারকে দেড় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৯ মের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ইউনূসের বিচার দাবি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন আমলে নিয়ে একই বেঞ্চ ১৫ ফেব্রুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। রুলে ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে ১৯৫৬ সালের ইনকোয়ারি অ্যাক্টের তৃতীয় অনুচ্ছেদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন অনুযায়ী কমিটি বা কমিশন গঠনের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়। ওই দিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সেতু সচিব, দুদক চেয়ারম্যান ও আইজিপিকে ২ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। পাশাপাশি কমিটি বা কমিশন গঠনে কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেন আদালত।
এক মাস পার হওয়ার পর সরকার পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস সোমবার আদালতে ৮ সপ্তাহ সময় আবেদন করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমিটি বা কমিশন গঠনে কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে সোমবার প্রতিবেদন দেয়ার কথা ছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবের পক্ষ থেকে ৮ সপ্তাহের সময় চাওয়া হলে আদালত ৯ মের মধ্যে এ বিষয়ে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন।’
জানা যায়, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে। পরে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ওই চুক্তি বাতিল করে। এ সেতু প্রকল্প তদারকির পাঁচ কোটি ডলারের কাজ পেতে এসএনসি-লাভালিনের কর্মীরা ২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে মামলা হয়েছিল কানাডার আদালতে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কানাডার আদালত ওই মামলা খারিজ করে দেন। রায়ে বিচারক বলেন, এই মামলায় প্রমাণ হিসেবে যেগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো ‘অনুমানভিত্তিক, গাল-গল্প ও গুজবের বেশি কিছু নয়।’
এ রায় প্রকাশের পরই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. ইউনূসের বিচারের দাবি জানায়। এ নিয়ে ‘ইউনূসের বিচার দাবি’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিশ্বব্যাংক। এ ঘটনা তখন গোটা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করে। সাড়ে ৩ বছর আগের ওই ঘটনার পর বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী কিছু ব্যক্তিত্বের দৌড়-ঝাঁপ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়াকর্ম ও মিডিয়ার অতি উৎসাহ পদ্মা সেতু ইস্যুতে সরকারকে বিপাকে ফেলে দেয়। যা ছিল সরকারের জন্য চরম অবমাননাকর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর্দার আড়ালে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস কলকাঠি নেড়েছেন বলে মনে করে সরকার। কানাডার আদালত পদ্মা সেতু দুর্নীতির মামলা খারিজ করে দেয়ার পর সরব হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা দলগুলো। তারা এখন মনে করছে, ওই সময় পদ্মা সেতু ইস্যুতে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ সরকারের ভাবমর্যাদা নষ্ট করায় ড. ইউনূসকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। দলটি জাতীয় সংসদ ও সংসদের বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ড. ইউনূস ও জার্মানির অর্থে পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা টিআইবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পরে এ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।




  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by