যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
অবকাঠামোসহ ৬ বাধায় বিনিয়োগ বাড়ছে না
এশিয়ায় সর্বনিন্ম বাংলাদেশে
অবকাঠামোসহ অন্যতম ৬ বাধার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে না। এ কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি করতে হলে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ট্যাক্স পলিসি সংস্কার, জমির উচ্চমূল্য, জমির অপ্রতুলতা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ব্যবসা প্রক্রিয়া সহজ না হওয়ায় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে ‘রোড টু ২০৩০ : স্ট্র্যাটেজিক প্রায়োরিটিজ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক হয়। মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খান বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধার কথা তুলে ধরেন। ডিসিসিআই ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করতে হলে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই এ বিনিয়োগ সর্বনিন্ম যা জিডিপির ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অথচ প্রয়োজন ৬ থেকে ৮ শতাংশ। বর্তমানে যেসব অবকাঠামো আছে তা অপর্যাপ্ত, নিন্মমানের এবং পুরনো। অন্যদিকে রফতানি খাতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের বিনিয়োগ জিডিপির ১০ শতাংশ। ফলে মার্সিডিজ বেঞ্জ, স্যামসাংয়ের মতো বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভিয়েতনামে বিনিয়োগ করেছে। এ ছাড়া জ্বালানির অপ্রতুলতাও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা। প্রবন্ধে বলা হয়, কয়লা আমদানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এতে শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলশ্রুতিতে ব্যবসার প্রতিযোগী সক্ষমতা কমবে। তাই নতুন গ্যাস কূপ খনন ও নিজস্ব কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। এতে বেসরকারি খাত বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে।
আবুল কাশেম খান বলেন, শুধু সস্তা শ্রমের ওপর ভিত্তি করে প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না। ঢাকা থেকে পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছতে ১২ ঘণ্টা সময় লাগছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে রেলকে সক্রিয় করতে হবে। প্রয়োজনে বেসরকারি খাতকে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে আনতে হবে। এ জন্য পিপিপি আইনকে কার্যকর করতে হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা আছে যা উতরে যেতে পারব। কারণ বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ ভালো। যদিও ভ্যাট নিয়ে ব্যবসায়ীরা চাপ দিচ্ছে। তবে ভালো দিকটা হচ্ছে আলোচনা চলমান আছে। আমলাতন্ত্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনুশাসনই হোক আর আমাদের ক্ষুদ্র মন্তব্যই হোক ওই মেশিনে ঢোকার পর কোন কারণে হারিয়ে যায়। নিচে গিয়েও খোঁজ পাওনা যায় না। এ কারণে মাঝে মাঝে হতাশা অনুভব করি। কোনো কাজ এখানে সুস্থভাবে, আধুনিকভাবে, বিজ্ঞানসম্মতভাবে করা যায় না।
বৈঠকে আলোচক ছিলেন ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, সিপিডির সম্মানিত ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ডিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক মতিউর রহমান, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, ডিসিসিআই পরিচালক খন্দকার আতিক-ই-রাব্বানী, ডেইলি স্টারের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদুর রহমান, মানবকণ্ঠের বিজনেস এডিটর সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, নিউজ টুডের সিটি এডিটর বাদিউল আলম প্রমুখ।
সিপিডির সম্মানীত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অপ্রতুল অবকাঠামো খাতের কারণে বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত পর্যায়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারছে না। অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে সুশাসন এবং স্বচ্ছতা দরকার। তিনি আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ ১২শ’ মিলিয়ন টন উন্নতমানের কয়লা আছে। এ কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে তা ব্যয়সাশ্রয়ী হবে। তাই কয়লা উত্তোলনের জন্য সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণ করা জরুরি।
আসিফ ইব্রাহিম বলেন, যেসব কাজ ১০ বছর আগে করা উচিত ছিল তা এখন করা হচ্ছে। বিনিয়োগের জন্য সবার আগে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ব্যবসা শুরুর সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ঋণের সীমাবদ্ধতা আছে। এগুলো দূর করতে হবে।



  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by