নজরুল ইসলাম    |    
প্রকাশ : ২০ মে, ২০১৭ ০০:০০:০০
বিএনপিতেও চলছে জোর প্রস্তুতি
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিতে চলছে জোর প্রস্তুতি। নতুন ধারার রাজনীতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ভিশন-২০৩০। এর আলোকেই গঠন করা হচ্ছে আগামী নির্বাচনী ইশতেহার। আগামী নির্বাচনে ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনতে ঘর গোছাতে ব্যস্ত দলটি। তৃণমূলকে উজ্জীবিত ও সক্রিয় করতে কেন্দ্রীয় ৫১টি টিম জেলা সফর করছে। তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা ও প্রতিটি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা করে হাইকমান্ডের কাছে জমা দেবেন তারা। এর সঙ্গে কেন্দ্র থেকে গোপনে চালানো জরিপ থেকে প্রাপ্ত তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করা হবে মনোনয়ন তালিকা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি যে কোনো সময় নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত। সে ক্ষেত্রে জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য আমরা বলেছি, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কথা। যাদের কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ থাকবে না। আর সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের পরাজয় অবধারিত। এ কারণেই সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে আওয়ামী লীগ ভয় পায়। একদলীয় নির্বাচন আর হবে না জানিয়ে মওদুদ বলেন, আগামীতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। সেই নির্বাচনে বিএনপিও অংশগ্রহণ করবে। কাউকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেয়া হবে না।
দলীয় সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে দলকে ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল করে পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। তবে তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে গিয়ে উল্টো সংঘর্ষে আরও চাপের মুখে পড়ে যায় দলটির নীতিনির্ধারকরা। জেলা কর্মিসভাকে কেন্দ্র করে কয়েক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় নড়েচড়ে বসে হাইকমান্ড। এজন্য দলে শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণের কর্মিসভা পণ্ডে দায়ী দুই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চেয়ারপারসনের এ শুদ্ধি অভিযান আরও কঠোর হবে। বিশেষ করে সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও ইন্ধনদাতা নেতাদের কোনোরকম ছাড় দেবেন না। প্রমাণ সাপেক্ষে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে। আর যৌক্তিক কারণ ছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় বা জেলার প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে পদ থেকে সরিয়ে দিতেও কার্পণ্য করা হবে না। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমকে সতর্ক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহ-দফতর সম্পাদকের মধ্যে পরিবর্তন আসছে। এসব সতর্ক বার্তার পরেও যারা নিষ্ক্রিয় এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে, তারা আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোয়নও হারাতে পারেন। নির্বাচন ও আন্দোলন নিয়ে হাইকমান্ডের সুনির্দিষ্ট বার্তা তৃণমূল নেতাদের পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের বার্তা পেয়ে তারা সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেছেন।
জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে অনেক ব্যঙ্গ করছে। সরকারকে বলব, আগামী নির্বাচনে বিএনপি যাবে, বর্জন করবে না। তার আগে সরকারকে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার দিতে বাধ্য করা হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন ধারার রাজনীতির সংস্কৃতি সৃষ্টি করতেই আমরা ভিশন-২০৩০ দিয়েছি। এতে সাধারণ মানুষও উজ্জীবিত হয়েছেন একটি সমৃদ্ধির সোপান হিসেবে নিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র যুগান্তরকে জানান, গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে আসার পর আশির দশকে অল্প সময়ে দলের নেতাকর্মীরা তার প্রতি আস্থা অর্জন করেন। তার আপসহীন নেতৃত্ব ওই সময় দলের মধ্যে দৃঢ় ঐক্য গড়ে উঠে। সানাউল হক নীরুর মতো তৎকালীন তারকা ছাত্র নেতাকে বহিষ্কার করতেও তিনি দ্বিধাবোধ করেননি। বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সময় নানা কারণে তার সেই কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসেন। বাস্তবতার আলোকে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। কিন্তু সম্প্রতি চেয়ারপারসনের মনোভাব সেই আগের মতো দেখা যাচ্ছে। দলের মধ্যে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন উপদল ভেঙে দিতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, দলের শৃঙ্খলার স্বার্থে আমি কাউকে ছাড় দেব না। কেউ যদি ভাবেন আপনি অনেক বড় নেতা আপনাকে কিছুই করব না। সেই ভাবনা ভুল। দলের স্বার্থে আমি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হব না। ঢাকা, জয়পুরহাট, বরিশাল ও রাজশাহী জেলা এবং রাজশাহী মহানগরে কর্মিসভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। এসব ঘটনায় বাঘা নেতারাও সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।



  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by