যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২০ মে, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ
অগ্রণী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর এবার ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন ফাঁসের খবর গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের বিকালের অংশের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তবে সকালের অংশের নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। সকালের অংশের পরীক্ষার বিষয়ে আগামীকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে জানানোর পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আবেদনকারীরা প্রশ্ন ফাঁস ও স্থগিতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা বিবেচনায় শুক্রবার দুই ভাগে এ পরীক্ষার ব্যবস্থা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রথম ভাগের পরীক্ষা শুরুর আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে খবর আসে। ফেসবুকেও অনেকে ‘ফাঁস হওয়া প্রশ্নের’ ছবি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ পরিস্থিতিতে সকালের অংশের পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর আয়োজক কর্তৃপক্ষ বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টায় নির্ধারিত দ্বিতীয় অংশের পরীক্ষা স্থগিত করে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই অভিযোগ ওঠে, অগ্রণী ব্যাংকের এই নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ও এর উত্তর প্রকাশ করা হয়। শুক্রবার সকাল ভাগের পরীক্ষা শেষে মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের মিল থাকার কথা জানান পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাত থেকে তারা হাতে লেখা ও ছাপা প্রশ্নপত্র দেখেছেন। আবার শুধু উত্তরও দেখা গেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে এই প্রশ্নপত্র ও উত্তর বিনিময় করেন।
এ পরীক্ষা আয়োজনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান আবু তালেব বলেন, অনিবার্য কারণবশত বিকালের পরীক্ষা স্থগিত করেছি আমরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির উপ-মহাব্যবস্থাপক আরিফ হোসেন খান যুগান্তরকে বলেন, সকালের অংশের পরীক্ষার বিষয়ে আগামীকাল রোববার গভর্নরকে জানানো হবে। তিনি যদি অভিযোগের সত্যতা পান তাহলে সকালের পরীক্ষা বাতিলসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কমিটি গঠন হয়নি।
অগ্রণী ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা এএম আবিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এই নিয়োগ পরীক্ষার সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংক কোনোভাবেই যুক্ত নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে। ওই কমিটি এবার দরপত্রের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগকে সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের দায়িত্ব দিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে দুই ভাগে সকাল-বিকাল নেয়ার কথা জানিয়ে অধ্যাপক আবু তালেব জানান, দুই সেশন মিলিয়ে দুই লাখ ৩ হাজার পরীক্ষার্থী ছিল।
এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ একাধিক পরীক্ষার্থী গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রথম ভাগের পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। অনেকে পরীক্ষা শুরুর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাত থেকেই এসব প্রশ্নপত্র ফেসবুকে দেখতে পেয়েছেন। শুধু তাই নয় শুক্রবার গণমাধ্যমও প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ করেছে। এ অবস্থায়ও সকালের অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আয়োজক কর্তৃপক্ষ বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টায় নির্ধারিত দ্বিতীয় অংশের পরীক্ষা স্থগিত করে। বহু পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি জানতে পারে। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রবি ইসলাম নামের এক আবেদনকারী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুনছিলাম প্রশ্ন নাকি ফাঁস হয়েছে। শুক্রবার সকালে পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে দেখি আবেদনকারীদের কেউ কেউ প্রশ্ন দেখে দেখে উত্তর মুখস্থ করছে। পরে পরীক্ষার হলে প্রশ্ন পাওয়ার পর দেখি হুবহু মিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র রাকিবুল ইসলাম জানান, এসব দেখে রাগ হচ্ছিল খুব। খাতা জমা দিয়ে বের হয়ে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দায়িত্বরত পরীক্ষক বললেন, এক ঘণ্টার আগে নাকি বের হওয়ার নিয়ম নেই।
হাতে লেখা ও মুদ্রিত ফাঁস হওয়া প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা পোস্ট করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মো. মেহেদী মাসুদ রানা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, অগ্রণী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়নি, বিক্রি হয়েছে। অপর এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তানজিল কিবরিয়া চৌধুরী নিজের পোস্টে লিখেছেন, আগে নিয়োগ পরীক্ষায় মেধার প্রতিযোগিতা হতো। এখন হয় কে কত আগে আর কত টাকায় প্রশ্ন পাইতে পারে তার প্রতিযোগিতা।
মাহমুদুল শিবলি নামের অপর একজন হাতে লেখা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পোস্ট করে ফেসবুকে লেখেন, ‘অগ্রণী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হাতের লেখা উত্তর নিন্মে দেয়া হল, যা আজকের মূল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে। এভাবে আর কত?’
জানতে চাইলে অধ্যাপক আবু তালেব বলেন, বিকালের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ কারণে আমরা রিস্ক নিতে চাচ্ছি না। অভিযোগটি আমরা যাচাই-বাছাই করব। পরে দ্রুতই সুবিধাজনক সময়ে পরীক্ষা নেয়া হবে। সকালে নেয়া পরীক্ষার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওটার ফাঁস হওয়ার অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। তারপরও বিষয়টা খতিয়ে দেখছি।



  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by