গোলাম মোস্তফা ফারুক, লন্ডন    |    
প্রকাশ : ২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ২০ জুন, ২০১৭ ০১:৪৯:০৪
লন্ডনে মুসল্লিদের ওপর সন্ত্রাসীর কাভার্ড ভ্যান
এক বাংলাদেশি নিহত
যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের প্রিন্সবাড়ি পার্কে মুসল্লিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় একজন নিহত এবং দশজন আহত হয়েছেন। রোববার তারাবির নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাসায় ফেরার সময় হামলাকারী মুসল্লিদের ওপর কাভার্ড ভ্যান উঠিয়ে দিলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। এ সময়  হামলাকারী চিৎকার দিয়ে বলতে থাকে, ‘আমি সব মুসলিমকে হত্যা করতে চাই।’ মুসল্লিরা হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। হামলাকারী কাভার্ড ভ্যান নিয়ে দীর্ঘক্ষণ মসজিদের পাশের রাস্তায় অপেক্ষা করছিল।
হামলায় নিহত ব্যক্তি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে জানা গেছে। তিনি একজন বয়স্ক লোক। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা জানায়, নিহত ব্যক্তি সন্ধ্যায় মসজিদে নামাজ পড়তে যান। সেখান থেকে তারাবির নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে মুসলিম বিদ্বেষীদের আক্রমণের শিকার হন। স্থানীয় অধিবাসী সুলতান আহমদ জানান, তার চাচা মুসল্লিদের ওপর হামলার ঘটনাটি নিজে দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘হামলাকারী গাড়িটি চালিয়ে যাওয়ার সময় আটকে যায়। এ সময় মুসল্লিরা তাকে ঘেরাও করে ধরে। হামলাকারী ৪৮ বছরের সুঠাম দেহের অধিকারী এক পুরুষ। পুলিশ তাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলায় নিহত ব্যক্তির নাম ও পরিচয় জানা গেছে। নিহত ব্যক্তির নাম মকররম আলী। তার বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের সরুয়লায় গ্রামে। ছয় সন্তানের জনক মকররম আলীর বয়স প্রায় ৬৫ বছর বলে পরিবারের একজন সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে লন্ডনের কমিউনিটি নেতা কেএম আবু তাহির চৌধুরী জানান। নিহত মকররম আলী ফিন্সবারি পার্ক এলাকার বাসিন্দা। এদিকে সন্দেহভাজন হামলাকারীর নাম প্রকাশ করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম ড্যারেন ওসবর্ন। ৪৭ বছর বয়সী ওসবর্নের বাড়ি কার্ডিফে। ব্রিটেনের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেন, সন্দেহভাজন ড্যারেন ওসবর্ন নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পরিচিত ছিলেন না। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি একা এ কাজ করেছেন। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ওসবর্ন ওয়েস্টন-সুপার মায়েতে বড় হয়েছেন। তার চারটি সন্তান রয়েছে।
এদিকে এই হামলার পর ব্রিটেনে বসবাসকারী মুসলমানরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তবে পুলিশ বলেছে, এ ধরনের হামলা মোকাবেলায় তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। বিভিন্ন মসজিদে নামাজের সময় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে মুসল্লিদের ওপর হামলাকে ‘ভয়ঙ্কর’ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার জরুরি সভা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব  করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে।
হামলার ঘটনাস্থল লেবার পার্টি প্রধান জেরেমি করবিনের সংসদীয় এলাকায়। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জনিয়িছেন। খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলেন। এক বার্তায় তিনি লিখেন, ‘আমি এ ঘটনায় পুরোপুরি হতভম্ব।’ হামলার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন। সংগঠনটি ব্রিটেনের মসজিদগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে। ব্রিটেনের পাঁচশ ইমাম সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। ব্রিটেনের কাউন্টার টেরোরিজম কমান্ড মুসল্লিদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে।
এ নিয়ে চলতি বছর ব্রিটেনে উগ্রপন্থীদের চার দফা হামলার হল। মার্চ মাসে লন্ডনের পার্লামেন্টের কাছে খালেদ মাসুদ নামে এক সন্ত্রাসী পথচারীদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দে। এতে বহু লোক আহত হন। মে মাসে ম্যানচেস্টারে একটি সঙ্গীত অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় লিবিয়ান বংশোদ্ভূত  সালমান আবেদি নামক এক তরুণ। এতে ২২ জন নিহত ও ৫৯ আহত হন। আরেকটি হামলা হয় সেন্টাল লন্ডনের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা লন্ডনব্রিজে। এতে সাতজন নিহত এবং ৫০ জন আহত হন।
 
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by