যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০:০০
১৫ মণ স্বর্ণালঙ্কার আটকের ঘটনা
আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে আরও ৫ মামলা
বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আপন জুয়েলার্সের প্রায় ১৫ মণ স্বর্ণালঙ্কার ও হীরা আটকের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ (মানি লন্ডারিং) আইনে পাঁচটি মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। শনিবার গুলশান থানায় দুটি, ধানমণ্ডি থানায় একটি, রমনা থানায় একটি ও উত্তরা থানায় একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দার পাঁচ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা যথাক্রমে এম আর জামান বাঁধন, বিজয় কুমার রায়, মো. শাহরিয়ার মাহমুদ, মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও মো. আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে এসব মামলা করেন।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাই যথাক্রমে দিলদার আহমেদ সেলিম, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশে শনিবার এসব মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।
শুল্ক গোয়েন্দা মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান যুগান্তরকে জানান, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ধারা ২ (ঠ) এবং কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯-এর ধারা ১৫৬(৫) অনুযায়ী শুল্ক গোয়েন্দা এ মামলাগুলো তদন্ত করবে। জানা গেছে, আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কার মজুদের অভিযোগে কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯ অনুযায়ী কাস্টম হাউস ঢাকায় আরও পাঁচটি কাস্টমস মামলা বিচারাধীন। এছাড়া স্বর্ণালঙ্কার মজুদ, মেরামত, তৈরি, বিক্রিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘটিত ভ্যাট ফাঁকি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটগুলো কাজ করছে। আয়কর নথিতে অপ্রদর্শিত স্বর্ণ দেখানোর কারণে সংশ্লিষ্ট আয়কর জোনের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চোরাচালান, শুল্ক ফাঁকি, মানি লন্ডারিং, ভ্যাট ফাঁকি, আয়কর ফাঁকি ইত্যাদি বিভিন্ন উপায়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনে দুর্নীতি হওয়ায় ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদকে) পাঠানো হয়েছে। আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা স্বর্ণের অর্থ অবৈধভাবে ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সঠিক পরিমাণ আয়কর নথিতে প্রদর্শন না করে এর উৎস গোপন করেছেন। এসব কার্যকলাপ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ধারা-২ এর (ফ)(ই) এবং ২(শ)(১৮) অনুযায়ী মানি লন্ডারিং হিসেবে বিবেচিত, যা একই আইনের ধারা-৪ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।
বনানীর আলোচিত দ্য রেইন ট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই তরুণীকে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার হোসেনের ছেলে সাফাত ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাজধানীতে আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শোরুম থেকে প্রায় ১৫ মণ স্বর্ণ ও হীরার অলঙ্কার জব্দ করা হয়। পরে এসব অলঙ্কার বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হয়।




  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by