logo
অর্থনীতিবিদদের অভিমত
কৃষককে সহায়তাই সরকারের শস্য ক্রয়ের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত
    |    
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
শস্য কেনার ক্ষেত্রে কৃষককে সহায়তা করাই সরকারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। অধিক ফলনের কারণে শস্যের দাম যখন কমে যায়, কৃষক যখন উৎপাদন খরচও ওঠাতে পারেন না, তখন উৎপাদন খরচের সঙ্গে ১০ শতাংশ যোগ করে শস্যের দাম নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কম দামে শস্য কিনে বেশি দামে বিক্রি তথা ব্যবসা করা সরকারের কাজ নয়। এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষি অর্থনীতিবিদরা। মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘সাংবাদিকদের সাথে কৃষি অর্থনীতিবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীদের মতবিনিময়’ সভায় তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ‘নাগরিক সংহতি’, ‘সিএসআরএল,’ ‘গ্রো’ যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করে। সভা সঞ্চালনা করেন নাগরিক সংহতির নেতা শরীফুজ্জামান শরীফ। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম, ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ, ড. আলাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন সরকার এ বছর ৩ লাখ টন চাল কিনেছে। অথচ চাল না কিনে ৫ লাখ টন ধান কিনলে কৃষক আরও বেশি উপকৃত হতেন। তারা বলেন, কৃষি অর্থনীতিতে কৃষক কখনও শস্যের বিক্রেতা, কখনও ক্রেতা বা ভোক্তা। বছরের তিন মাস কৃষকের ঘরে খোরাক থাকে না। তখনই কৃষক কম মূল্যে শস্য বাজারে ছাড়েন। এ সময় সরকারের উচিত কৃষকের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। উৎপাদন খরচের সঙ্গে ১০ শতাংশ বেশি ধরে শস্য কেনা। ক্রেতা এবং ভোক্তা হিসেবে কৃষক কীভাবে কোথায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এর হিসাব সরকারের কাছে থাকা প্রয়োজন।
আলোচকরা জানান, দেশে বর্তমানে ৬ হাজারের বেশি ধানের জাত আছে। এর মধ্যে কৃষক মাত্র ১ হাজার জাতের চাষ করেন। একটি জাত উদ্ভাবিত হলে সেটি সংরক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কিছুদিন পর হারিয়ে যায়। তারা বলেন, গুদামের অভাব প্রকট। বার্ষিক শস্যের চাহিদা যখন সোয়া কোটি টন ছিল তখন যে গুদাম ছিল এখন চাহিদা বাড়লেও গুদামের সংখ্যা বাড়েনি। শস্য সংরক্ষণের অভাবে কৃষককে কম মূল্যে বিক্রি করে দিতে হয়। পর্যাপ্ত গুদাম তৈরি করা এখন জরুরি।