যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়িতে শুল্কছাড়, ইন্টারনেট ব্যবহারে ভ্যাট প্রত্যাহার দাবি
এনবিআরে প্রাক-বাজেট বৈঠক
জ্বালানিসাশ্রয় এবং পরিবেশ সহায়ক রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানি করতে চায় রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইম্পোটার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। এ জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা দাবি করে বারভিডা নেতারা বলছেন, বর্তমানে নতুন রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে শুল্ক সুবিধা থাকলেও পুরনো গাড়িতে নেই। অথচ দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্রেতা প্রায় ৯০ শতাংশ। এ ছাড়া রিকন্ডিশন্ড গাড়ির অবচয় হার ও সিসি স্ল্যাব পুনর্নিধারণ, এসআরও’র ভাষা সহজীকরণ এবং মাইক্রোবাসের ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বারভিডা বলছে, নতুন গাড়ি আমদানিকারকদের হাইব্রিড গাড়ি আমদানির সুযোগ দেয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ দেশের রাস্তায় চলাচলকারী ব্যক্তিগত গাড়ির ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই রিকন্ডিশন্ড। অপরদিকে বারভিডাকে হাইব্রিড গাড়ি আমদানির সুযোগ দেয়া হলেও শুল্ক রেয়াত সুবিধা দেয়া হয়নি। ফলে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির দাম বেশি পড়ছে। বারভিডাকে শুল্ক রেয়াত সুবিধায় গাড়ি আমদানির সুযোগ দিলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় করা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। আর ক্রেতারা সাধারণ গাড়ির দামে উন্নতমানের গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বারভিডা হাইব্রিড গাড়ির আমদানিতে শুল্ক রেয়াত সুবিধা দেয়ার পেছনে এসব যুক্তি তুলে ধরে। ভ্যাট নীতির সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন শুল্কনীতির সদস্য লুৎফর রহমান ও আয়কর নীতির সদস্য পারভেজ ইকবাল। বারভিডার সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডনের নেতৃত্বে সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হাইব্রিড গাড়ি ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দিচ্ছে। এমনকি জাপানও। পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানিবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে চান রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা। গতবারও শুল্ক রেয়াত সুবিধা দেয়ার দাবি ছিল। কিন্তু গাড়ির আমদানির সুযোগ দেয়া হলেও সাধারণ গাড়ির মতো শুল্ক কাঠামো রাখায় এ সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। সাবেক মহাসচিব মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর বলেন, গাড়ির এসআরওগুলো সহজবোধ্য না। এ সুযোগে তৃণমূলে দুর্নীতির সৃষ্টি হয়। তাই আগামী বাজেটে এগুলো সরলীকরণ করা দরকার।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. আরিফ হাসান মামুন বলেন, হাইব্রিড গাড়ি আমদানির সুযোগ দেয়া উচিত। তবে ব্যাটারি সাপোর্ট ও এক্সেসরিজের নিশ্চয়তার বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে।
পানগাঁও আইসিডি টার্মিনাল ম্যানেজার আহমেদুল করিম চৌধুরী বলেন, অনেক সময় আমদানিকারকরা গাড়ি ছাড় করেন না। এতে বন্দরে স্থান সংকুলানে জটিলতার সৃষ্টি হয়। তাই গাড়ির নিলাম সহজীকরণ করা উচিত।
অন্যান্য আলোচনা : এর আগে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফর্মেশন সার্ভিসেস (বেসিস), পরিবহন খাত, মোবাইল আমদানিকারক, ইলেকট্রিক-ইলেকট্রুনিক্স, জাহাজ ভাঙা ও নির্মাণ খাত সংশ্লিষ্ট সমিতির নেতারা। এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, পরিবহন খাতকে সরকার শিল্প ঘোষণা করলেও আজ পর্যন্ত শিল্পের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। ৪০-৪২ শতাংশ শুল্ক দিয়ে ইঞ্জিন আমদানি করতে হয়। কিন্তু ফিশিং ট্রুলার ইঞ্জিন আমদানিতে এর তিন ভাগের এক ভাগ শুল্ক দেয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, পরিবহন খাত আমাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এনবিআর সব ধরনের প্রণোদনা দেবে। আশা করছি, সাধারণ মানুষ পরিবহন খাতে উপযুক্ত সেবা পাবেন। মোবাইল ফোন আমদানিকারক সমিতির মহাসচিব রেজওয়ানুল হক বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ২৯ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। উচ্চ শুল্কের কারণে গত কয়েক বছরে স্মার্টফোন আমদানির প্রবৃদ্ধি কমেছে।
বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, দেশে ব্রডব্যান্ডের ১০ শতাংশ প্রসার হলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ১ শতাংশ- এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট-শুল্ক বসানোর ফলে ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এটি জিডিপি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বিরাট প্রতিবন্ধকতা। তিনি আরও বলেন, দেশে ২ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ২ কোটি ২০ লাখ ঢাকা শহর ও এর আশপাশের বাসিন্দা। আর দেশের অন্যান্য এলাকায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ১৩ লাখ। এ ধরনের ডিজিটাল বৈষম্যের অন্যতম কারণ ভ্যাট। ভ্যাটের কারণে সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন না। তাদের কাছে ইন্টারনেটের স্পিড পৌঁছায় না। তাই ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা উচিত।



  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by