যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০৯:১৮:২৬
জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে দাতা সংস্থার দ্বিমত
চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আবারও দ্বিমত সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি হিসাবে চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাস হল- প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে ভয়াবহ আকারে কমেছে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ। জিডিপির ওপর বড় প্রভাব ফেলে, সেই রেমিটেন্স আয়ও নেতিবাচক। এসবই চলতি অর্থবছরের জন্য চ্যালেঞ্জ। ফলে সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে কঠিন। এ ছাড়া জিডিপি হিসাবের জন্য খাতওয়ারি মূল্য সংযোজন (ভ্যালু এডিশন) একটা প্রক্রিয়া মাত্র। তবে একমাত্র প্রক্রিয়া নয়। জিডিপি হিসাবের আরও প্রক্রিয়াও আছে। তার মধ্যে অন্যতম হল সামষ্টিক চাহিদা বা সামষ্টিক ব্যয় অ্যাপ্রোচ। আলোচ্য অ্যাপ্রোচে পর্যালোচনা করা হয় বেসরকারি খাতের ভোগ, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, সরকারি খাতের ব্যয় ও রফতানি পরিস্থিতি। এখান থেকে প্রাপ্ত সংখ্যা হল ইতিবাচক। এগুলো থেকে আমদানি বাদ দেয়া হয়। এটা হচ্ছে জিডিপির সংজ্ঞা।

আইএমএফের প্রতিবেদনে আগামী অর্থবছর (২০১৭-১৮) মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তবে গত ১৬ এপ্রিল অপর এক প্রতিবেদনে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কমে ৬ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়াবে বলেও পূর্বাভাস দেয় বিশ্বব্যাংক। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে। এ হিসাবে চলতি অর্থবছর বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতিবেদনে এ বিষয়ক গত আট অর্থবছরের উপাত্ত উপস্থাপন করে ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরসহ ২০২১-২২ অর্থবছরের পূর্বাভাস দেয়া হয়। এতে বলা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হবে, যা ২০২১-২২ অর্থবছরেও অক্ষুণœ থাকবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৮-৯৯ থেকে ২০০৭-০৮ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ২০০৮-০৯ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৫ দশমিক ৩, ৬, ৬ দশমিক ৫, ৬ দশমিক ৩, ৬, ৬ দশমিক ৩, ৬ দশমিক ৮ ও ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

আইএমএফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছর মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হতে পারে যা পরবর্তী বছর কিছুটা কমে ৫ দশমিক ৮ ভাগে নেমে আসতে পারে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ভারসাম্য ঋণাত্মক হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি গড়ে ৭ শতাংশ হারে এগোতে পারে বলে উল্লেখ করেছে আইএমএফ। প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। গত অক্টোবরের আউটলুক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বিশ্ব অর্থনীতির ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল যা এবার বাড়িয়ে সাড়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো, বিশ্বের অনেক দেশের কারিগরি উন্নতি লাভ, শ্রমিকদের প্রকৃত আয় বৃদ্ধিসহ বিশ্বে বাণিজ্য বৃদ্ধির গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে আইএমএফ এ পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে উদীয়মান এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিষয়ে মিশ্র পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের নীতি সহায়তা বৃদ্ধির ফলে তাদের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। অন্যদিকে ভারতের মুদ্রা বাতিলের মতো বড় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে দেশটির অর্থনীতির গতি কিছুটা ধীর হবে। ব্রাজিলের মন্দা আরও ঘনীভূত হতে পারে। বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি তেলের মূল্য পরিস্থিতি আর ভূ-রাজনীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও তুরস্কের অর্থনীতি দুর্বল হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পূর্বাভাসও রয়েছে।


 
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by