হামিদ-উজ-জামান    |    
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
সীমান্তে সড়ক নির্মাণে বিভিন্ন ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন
পার্বত্য এলাকায় ৩১৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ১ হাজার ৮৮০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। কিন্তু এ প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর আগামী ২৬ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। পিইসি সভার কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, সীমান্ত সড়ক (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজেই পরিবহন করতে পারবেন। এতে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ উখিয়া-আশাতলী-ফুলতলী সড়ক নির্মাণ, ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাজেক-শিলদাহ-বেতলিং সড়ক, ৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সাজেক-দোকানঘাট-থেগামুখ-সড়ক এবং থেগামুখ-লইতংপাড়া-থাচ্চি-দুমদুমীয়-রাজস্থলী সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প প্রস্তাবে বিভিন্ন ব্যয় অযৌক্তিক মনে করে আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সড়কগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, স্বল্পতম সময়ে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা ও কৃষিপণ্য পরিবহন আরও জোরদার হবে। এসব বিবেচনা করেই প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে যৌথভাবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ৫৪০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৫টি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত ব্রিজের ডিজাইন সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ব্রিজ ডিজাইন ইউনিটের মাধ্যমে প্রণয়ন করা হয়নি। এ বিষয়ে সভায় আলোচনার তাগিদ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ২০টি মোটর ভেহিকলের জন্য আট কোটি ৫৪ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। যানবাহনগুলো ক্রয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় ১৩৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৯টি ইঞ্জিনিয়ারিং ইক্যুপমেন্ট, এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১৯টি ল্যাবরেটরি ইক্যুপমেন্ট কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব ইক্যুপমেন্ট কেনার যৌক্তিকতা বিষয়ে সভায় আলোচনার তাগিদ দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন আরও বলছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি খাতে প্রস্তাবিত ৩৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং প্রাইস কন্টিনজেন্সি বাবদ ৫৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
প্রস্তাবিত আরও যেসব ব্যয়ের বিষয়ে পিইসি সভায় আলোচনার তাগিদ দেয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ৫৯ লাখ টাকা, ইঞ্জিনিয়ারিং ইক্যুপমেন্ট চার কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং রোড ব্রিজ অ্যান্ড হাইওয়েস খাতে চার কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় রক্ষাপ্রদ কাজের জন্য ৩২ কোটি ৫১ লাখ টাকা, সার্ভে খাতে এক কোটি টাকা এবং স্টেশনারি, সিল ও স্টাম্পস বাবদ ৫১ লাখ টাকার বিষয়েও আলোচনার তাগিদ দেয়া হয়েছে।






  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by