সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, হবিগঞ্জ থেকে    |    
প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ২১ মার্চ, ২০১৭ ০৭:১০:০৮
হবিগঞ্জ শিল্পাঞ্চল
নিরাপত্তাহীনতায় শ্রমিক-কর্মচারীরা
পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন জরুরি
চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন হবিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তারা। প্রতিনিয়তই তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। একটি দুর্বৃত্ত চক্র সন্ধ্যায় মদ পান করে শ্রমিক-কর্মচারীদের বাড়িঘরে গিয়ে হামলা চালাচ্ছে। অনেককে ধরে নিয়ে পিটিয়ে মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন নারী শ্রমিকরা। প্রতিনিয়তই তাদের কেউ না কেউ মদ্যপায়ীদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। সুযোগ পেলেই কারও হাত, কারও ওড়না, কারও জামা, আবার কারও চুল ধরে টানাটানি করে দুর্বৃত্তরা। মাত্র ৫ থেকে ১০ জন দুষ্কৃতকারীর হাতে জিম্মি এখন গোটা শিল্পাঞ্চল। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের সিনিয়র ম্যানেজার (প্রশাসন) মো. এহসানুল হাবিব জানান,দুর্বৃত্তরা প্রতিনিয়তই শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তাদের আবাসস্থলে হামলা করছে। বেতন হলে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন নারী শ্রমিকরা। অনেকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে। কিন্তু তেমন ফল মিলছে না। এমন অবস্থায় অনেকেই চাকরি ছেড়ে চলে যেতে চাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন নারী শ্রমিক চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার শ্রমিক হাসানুজ্জামান জানান, ১৫ মার্চ আসরের নামাজ থেকে ফেরার সময় দু’তিন দুর্বৃত্ত তাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর বাঁশবাজারে নিয়ে তার কাছে থাকা ৪ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে আরও টাকা এনে দিতে বলে। শেষ পর্যন্ত তিনি ১০ হাজার টাকা এনে দিলে রাতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

শিল্পাঞ্চলের একটি কোম্পানির ম্যানেজার পদবির এক নারী কর্মকর্তা জানান, কেউ নাস্তা করতে বাইরে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে আটকে রাখে। অফিসারদের হুমকি দেয়। কয়েকদিন আগে দু’জন নারী শ্রমিককে সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফেরার সময় চোখে লাইট মারে। পরে তাদের ওড়না ও চুল ধরে টানাটানি করে। অনেক সময় মেয়েদের ধরে পার্শ্ববর্তী টিলায় নিয়ে যায়।

কয়েকজন নারী শ্রমিক জানান, তারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। এভাবে চলতে থাকলে চাকরি ছেড়ে দিতে হবে।

সদর উপজেলার অলিপুর থেকে মাধবপুর পর্যন্ত অসংখ্য শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করেন হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে। শুধু এখানেই আছেন ১৮ হাজার মানুষ। সবগুলো কোম্পানি মিলিয়ে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় অর্ধলাখ মানুষের। মাত্র কয়েকজন দুর্বৃত্তের কাছে এই মানুষগুলো এখন জিম্মি।

জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার দুর্বৃত্ত চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু জামিনে ছাড়া পেয়েই তারা আবার আগের অবস্থানে ফিরে যায়। তাদের দমনে শিল্পাঞ্চলে স্থায়ীভাবে পুলিশের উপস্থিতি দরকার। প্রায় সময়ই পুলিশ শায়েস্তাগঞ্জ থেকে গিয়ে সেখানে টহল দেয়। তিনি বলেন, ‘এখানে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করছে প্রাণ কোম্পানিতে। আমি প্রাণ-আরএফএলের (হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের) জিএমকে বলেছি, তারা যেন ১০ শতাংশ জমির ব্যবস্থা করে দেন। তাহলে আমি একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প করে দেব। এটা করা গেলে অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে।’

হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জিএম হাসান মো. মঞ্জুরুল হক জানান, পুলিশ ক্যাম্পের বিষয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি শিগগিরই প্রশাসনের সহায়তায় এর একটিা সুরাহা হবে।


 
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর
শেষ পাতা বিভাগের অারও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by