আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
শনাক্ত করলেও লাশ নেয়নি জঙ্গি দম্পতির পরিবার
অপর দু’জনের মৃতদেহ দেখতে আসেনি কেউ
‘পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারি জিনিস বাবার কাঁধে ছেলের লাশ’- এরপরও সেই লাশ বহন করেন বাবা। কিন্তু সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানায় নিহত জঙ্গি দম্পতি কামাল হোসেন ও জোবাইদা ইয়াসমিনের লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানালেন দু’জনের বাবা। তারা জানান, দেশদ্রোহী কাজে জড়িয়েছে তাদের সন্তান। এমন সন্তানের লাশ নিয়ে কলঙ্কিত হতে চান না তারা।
সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জঙ্গি দম্পতি কামাল-জোবায়দার লাশ শনাক্তের পর এসব কথা বলেন কামালের বাবা মোজাফফর আহমদ ও জোবায়দার বাবা নুরুল আলম। লাশ না নেয়ার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অঙ্গীকারনামাও দেয়া হয়।
বেলা ১টার দিকে নিহত জঙ্গি জোবাইদার বাবা নুরুল আলম, ভাই জিয়াবুল হক ও অপর জঙ্গি কামাল উদ্দিনের বাবা মোজাফফর আহমদ হাসপাতালের মর্গে এসে লাশ শনাক্ত করেন। তবে মর্গে পড়ে থাকা অপর দুই জঙ্গির লাশ তারা শনাক্ত করতে পারেনি। এই দুটি লাশ ঢাকার মিরপুর থেকে নিখোঁজ দুই খালাতো ভাই রাফাদ আল হাসান ও আয়াদ আল হাসানের বলে পুলিশ দাবি করেছে এবং তাদের পরিবারের কাছে চট্টগ্রাম এসে লাশ শনাক্তের জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই দুই পরিবারের কোনো সদস্য এদিন চট্টগ্রাম আসেননি।
নিহত কামালের বাবা মোজাফফর আহমদ চমেক হাসপাতাল মর্গের সামনে যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গি হওয়ার আগে কামাল বান্দরবানের বাইশারি এলাকায় মিষ্টিপানের বরজে কাজ করত। ভালো টাকা-পয়সাও আয় করত। প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হতো। তবে ঘরে তেমন টাকা-পয়সা দিত না। আগে জীবনে চট্টগ্রাম শহর দেখেনি কামাল। সে যে এত বড় ঘটনা ঘটাবে তা কখনও কল্পনাও করিনি। সীতাকুণ্ডের ঘটনার পর পুলিশ যোগাযোগ করেছিল। এলাকার মানুষের মুখেও এরপর শুনেছি। আজ এখানে এসে দেখলাম এ আমারই সন্তান। আমি লাশ নেব না। সমাজে আমরা এখন মুখ দেখাব কীভাবে।
জোবাইদার বড় ভাই জিয়াবুল হক বলেন, ‘আমার বোন ও বোন জামাই এমন ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে পড়বে কোনো অবস্থাতেই এটা বুঝতে পারিনি। তারা কার মাধ্যমে, কিভাবে এ জঙ্গি কাজে জড়িয়েছে আমরা জানি না। তারা প্রায় নয় মাস ধরে পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। তারা দেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী এমনকি ধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। আমরা তাদের লাশ নিয়ে সমাজের কাছে ঘৃণার পাত্র হতে চাই না। এখন তাদের পরিচয় দিতেও আমাদের ঘৃণা লাগছে।’
সীতাকুণ্ড থানার এসআই বেলায়েত হোসেন বলেন, যেহেতু নিহত জঙ্গিদের পরিবার লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তাই আমরা নিয়মানুযায়ী আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করব।
নিহত জঙ্গি জোবাইদার আরেক বোন নিখোঁজ : সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে নিহত জঙ্গি জোবাইদার বাবা নুরুল আলম যুগান্তরকে জানান, তার আরেক মেয়ে মঞ্জুয়ারা বেগম (১৭) এখনও নিখোঁজ। প্রায় নয় মাস ধরে তার কোনো খোঁজ নেই। সেও জঙ্গি কাজে জড়িত হয়েছে বলে ধারণা তাদের।
বুধবার সীতাকুণ্ডের লামার বাজার সাধন কুঠির থেকে গ্রেফতার হয় জহিরুল ইসলাম ওরফে জসিম ও তার স্ত্রী আরজিনা। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ প্রেমতলার ছায়ানীড়ে অভিযান চালায়। সেখানে ১৯ ঘণ্টার অভিযানের সময় গুলি ও আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় জঙ্গি দম্পতি কামাল-জোবাইদা ও তাদের শিশু সন্তান। একই অভিযানে ঢাকা থেকে নিখোঁজ দুই খালাতো ভাই রাফাদ আল হাসান ও আয়াদ আল হাসানও নিহত হয় বলে দাবি পুলিশের। এদিকে সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানা ‘ছায়ানীড়’ থেকে চার দিনের অভিযানে উদ্ধার করা ৩৯টি বোমা, গ্রেনেড ও সুইসাইড ভেস্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় এক ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার রেজাউল মাসুদ এ তথ্য জানান। বিকালে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সর্বশেষ বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে ফিরে আসে। এর পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই বাড়ি থেকে আলামত সংগ্রহ করে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ফিরে এলেও ‘ছায়ানীড়’ পাহারায় রয়েছে পুলিশ।



  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর
শেষ পাতা বিভাগের অারও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by