কাজী জেবেল    |    
প্রকাশ : ২০ মে, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ২০ মে, ২০১৭ ০৫:৫৬:৪৮
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে
জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব
চট্টগ্রাম বন্দরসংলগ্ন জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ রেলওয়ে। বন্দরের আশপাশের অন্তত ৮১ একর জমির খাজনা পরিশোধ করে আসছে বলে দাবি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক)। কিন্তু এসব জমি রেলওয়ের দখলে রয়েছে। বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য ওই জমি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে অবকাঠামো নির্মাণের কারণ দেখিয়ে ওই জমি ছাড়তে নারাজ রেলওয়ে। সরকারি এ দুই সংস্থার দ্বন্দ্ব নিরসনে সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দু’মাসের মধ্যে কমিটিকে অমীমাংসিত জমির বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র জানায়, বিবদমান জমির পরিমাণ ১১৫ একর। এ নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে মামলাও চলছে।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় যুগান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনেক জমি রেলওয়ের দখলে রয়েছে। আবার রেলের কিছু জমি বন্দর কর্তৃপক্ষের দখলে রয়েছে। এ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে আমি বৈঠক করেছি এবং একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে কোন জমি কার তা নির্দিষ্ট করবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে সমস্যার ফলে দুই সংস্থার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে না। শিগগির সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

নৌ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিকানা নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। এ ছাড়া রেলওয়ের কাছে বিভিন্ন সময়ের পাওনা প্রায় ১৪ কোটি টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে চবক। চবক থেকে নৌ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্দর এলাকায় রেলওয়ের বেশকিছু আবাসিক ভবন রয়েছে। এসব ভবনে ১৯৬০ থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বাবদ বিল বকেয়া রয়েছে ৯ কোটি ৭২ লাখ ২৭ হাজার টাকা। বিভিন্ন খাতে আরও বকেয়া রয়েছে ৪ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। এসব টাকা দ্রুত পরিশোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, দ্বন্দ্ব নিরসনে সম্প্রতি নৌ মন্ত্রণালয়ে এ দুই সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। এতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৮১ একর জমির বিষয়ে আপত্তি তুলে ধরে জানায়, এসব জমির খাজনা দিয়ে আসছে এ সংস্থাটি। এর মালিকানাও বন্দর কর্তৃপক্ষের। ওই জমি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুকূলে ফেরত চায় সংস্থাটি।

বৈঠকে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দরের কার শেডের পাশে ১৪ একর জমির সিএস রেকর্ড বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আছে এবং এই জমির খাজনাও পরিশোধ করছে সংস্থাটি। রেলওয়ে ওই জমি চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে হস্তান্তর করলে সেখানে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে পণ্য পরিবহনের পার্কিং স্থান নিয়ে সমস্যা রয়েছে জানিয়ে সংস্থাটির দাবি, বন্দরে গড়ে ৫-৭ হাজার ট্রাক মালামাল পরিবহন করে। বন্দর এলাকায় দুটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হলেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না। রাস্তায়, যত্রতত্র ট্রাক পার্কিং করায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পরিবহন সংগঠন ওই স্থানে টার্মিনাল নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে, পোর্ট এক্সেস রোডসংলগ্ন ২ একর জমির মালিক এ সংস্থাটি। কিন্তু ওই জমিতে রেলের কিছু পরিত্যক্ত ভবন এবং অবৈধভাবে ট্রাক পার্কিং রয়েছে। ওই জমি সিপিইআর গেটসংলগ্ন হওয়ায় তা বন্দরের অপারেশন কাজে প্রয়োজন। এ ছাড়া বন্দরের অপারেশন এরিয়ার কাছাকাছি ৬৫ একর জমির মালিকানা দাবি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ রেলওয়ে। চবক বলছে, ওই ৬৫ একর জমি বন্দর কর্তৃপক্ষের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং এর খাজনা পরিশোধ করে আসছে। বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় স্বার্থে ওই ৬৫ একর জমি চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে রেলওয়ের ১৩৩ একর জমি নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ একর জমি ইতিমধ্যে বন্দরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকি ১১৫ একর জমির মালিকানা নিয়ে মামলা চলমান আছে। তিনি বলেন, ১৯৭২ বা ৭৩ সালে ভূমি জরিপ শুরু হয়ে ১৯৯২-৯৩ সালে তা চূড়ান্ত হয়। ওই সময় রেলওয়ের কিছু জমি চবকের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। কিন্তু ওই জমি চট্টগ্রাম বন্দরের নয়। সেখানে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ের। তিনি জানান, নৌ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন তিনি। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠিত কমিটি অমীমাংসিত বিষয়গুলোর ওপর সরেজমিন প্রতিবেদন জমা দেবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে রেলওয়ের যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব : বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে রেলওয়ের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এতে বলা হয়, চট্টগ্রামে ১৮টি বেসরকারি অফডক রয়েছে। আরও কয়েকটি অফডক নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। অফডকগুলোতে রেল সংযোগ স্থাপন করা হলে পণ্য খালাস বাড়বে। ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ইয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরে মেরামত করা হচ্ছে না। ফলে মালামাল পরিবহনে অসুবিধা হচ্ছে। এ আইসিডি মেরামত করতে রেলওয়েকে অনুরোধ জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া পতেঙ্গা ও লালদিয়া টার্মিনালে ডিপোজিট ওয়ার্কসের ভিত্তিতে রেললাইন স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় বৈঠকে। এতে আরও জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের কারশেড ও অকশন শেড উদ্বোধন করা হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ওই কারশেড ও অকশন শেডে যাতায়াতের সড়কের জন্য ৭ মিটার চওড়া ও ৩০০ মিটার লম্বা জমি রেলওয়ের কাছে চেয়েছে চবক। যদিও পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র জানায়, অনুমতি ছাড়াই তাদের জমিতে এসব স্থাপনা নির্মাণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।


 
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by