যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ২০ মে, ২০১৭ ০০:০০:০০
রুশ সংযোগ তদন্ত দেশকে বিভক্ত করে ফেলেছে : ট্রাম্প
ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার গোপন যোগাযোগ হয় ১৮ বার
নির্বাচনে রুশ সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত আমেরিকাকে ‘গভীরভাবে আহত’ ও বিভক্ত করে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এ অভিযোগ বরাবরের মতো অস্বীকার করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র সফররত কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। খবর বিবিসির। ট্রাম্প বলেন, ‘পুরো বিষয়টিতে আমাকে জড়ানো হয়েছে। অথচ তাদের (রাশিয়া) সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার নির্বাচনী প্রচারণাও রুশ সংশ্লিষ্টতা ছিল না। ইতিহাসে আমার মতো কোনো রাজনীতিক এত অন্যায্য আচরণের শিকার হননি। এটা পুরোই একটা উইচ হান্ট। চলমান তদন্তের বিষয়ে ট্রাম্পের মত, ‘জেমস মুলারকে নিয়ে নতুন কমিটিকে আমি সম্মান করি। তবে এ তদন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গভীর আঘাত। আর তা দেশকে দ্বিধা-বিভক্ত করেছে।’ ক্ষমতা নেয়ার আগ থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রুশ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। অনেকের মতে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে তিনি হোয়াইট হাউসে ঢুকেছেন। ক্ষমতা নেয়ার এক মাস না যেতেই রুশ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ মাথায় নিয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন। ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের রুশ সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত করছিল মার্কিন সিনেট ও ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। নেতৃত্বে ছিলেন এফবিআই প্রধান জেমস কমি। ৯ মে কমিকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। এরপর রুশ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে ভিন্নমাত্রা পায়।
তদন্তের জন্য গ্রহণযোগ্য কাউকে নিয়োগ দেয়ার দাবি ওঠে। পরে তদন্ত কাজের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় সংস্থাটির সাবেক পরিচালক রবার্ট মুলারকে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তদন্ত প্রভাবিত করতেই কমিকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য জেমস কমি সবার কাছেই (ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান) খুবই অজনপ্রিয় ছিলেন। তাই তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’
ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার গোপন যোগাযোগ হয় ১৮ বার : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ ৭ মাসে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের মাইকেল ফ্লিন এবং অন্যান্য উপদেষ্টারা রাশিয়ার কর্মকর্তা ও ক্রেমলিন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ১৮ বার গোপনে ফোনকল এবং ই-মেইল চালাচালি করেন। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াক এবং ফ্লিনসহ ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে করা ফোনকলের অন্তত ছয়টি রেকর্ড রয়েছে। এ ছয়টি ফোনকলের সঙ্গে আছে দু’পক্ষের মধ্যকার আরও ১২টি ফোনকল এবং ই-মেইল কিংবা টেক্সট মেসেজ চালাচালির ঘটনা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের উপদেষ্টাদের এসব যোগাযোগ হয়।
এফবিআই প্রধান পদে ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ লিবারম্যান : এফবিআই প্রধান পদে ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ ডেমোক্রেটিক পার্টির এক সময়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো লিবারম্যান। বৃহস্পতিবার এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। ৭৫ বছর বয়সী লিবারম্যান যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের সাবেক সিনেটর। ২০০০ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির টিকিটে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আল গোরের সহযোদ্ধা হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করেন। তবে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী জর্জ ডব্লিউ বুশের ও ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডিক চেনির কাছে পরাজিত হন। এরপর ২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী জন ম্যাককেইনকে সমর্থন করেন লিবারম্যান। কিন্তু সেবার ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্তিশালী প্রার্থী বারাক ওবামার কাছে পরাজিত হন রিপাবলিকানরা।



  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by