যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ২০ জুন, ২০১৭ ০১:৪৭:১১
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার
শূন্য মার্জিনে এলসি খুলে চাল আমদানির সুযোগ
চাল আমদানি উৎসাহিত করতে বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এখন থেকে শূন্য মার্জিনে চাল আমদানির এলসি খুলতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। এ ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের ব্যাংক ব্যালেন্স থাকার দরকার নেই। সোমবার দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে এ পরামর্শ দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সুবিধা পাবেন চাল আমদানিকারকরা।
জানতে চাইলে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, শূন্য মার্জিনে চাল আমদানির একটি সাময়িক সুবিধা দেয়া হয়েছে। আশা করি, এর মাধ্যমে পর্যাপ্ত চাল সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চালের বাজারে অস্থিরতা রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক এ উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চাল আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র (এলসি) খোলার মার্জিনে (এক ধরনের গ্যারান্টি, এলসি মূল্যের ১০-১৫ শতাংশ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখতে হয়) কিছুটা শিথিলতা দেখাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়েছে, সম্প্রতি হাওর এলাকায় বন্যা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের স্বাভাবিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বাজারে চালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাল আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে শূন্য মার্জিনে ঋণপত্র স্থাপনের জন্য পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া ধান, চাল ব্যবসায়ী ও চাতাল বা মিল মালিকদের ঋণ পরিশোধের পূর্বনির্ধারিত সীমা পরিপালন নিশ্চিতে আবারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে সার্কুলারে।
বিভিন্ন ব্যাংক সূত্র জানায়, চাল আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ জমা দিতে হয়। নগদ টাকা না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ঋণপত্র খুলতে পারছেন না। এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীরা চাল আমদানিতে সুবিধা পাবেন।
চালের আমদানি শুল্ক কমানোর ইঙ্গিত খাদ্যমন্ত্রীর : বেসরকারি পর্যায়ে চালের আমদানি ও সরবরাহ বাড়াতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে  আবারও ১০ শতাংশ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আজকালের মধ্যে আদেশ জারি হতে পারে। ঊর্ধ্বমুখী চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। সোমবার বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। এদিন খাদ্য ভবনে বাংলাদেশ খাদ্য পরিদর্শক সমিতির ‘ইফতার ও দোয়া মাহফিলে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, চালের আমদানি শুল্কের বিষয়ে মঙ্গলবার একটি সুখবর পাওয়া যেতে পারে।
খাদ্য পরিদর্শক সমিতির সভাপতি আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব উত্তম কুমার দাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য সচিব কায়কোবাদ হোসেন, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বদরুল হাসানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জানা গেছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে মে মাসের প্রথম দিকে চাল আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের শুল্ক তুলে দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারকরা এ প্রস্তাব নাকচ করে দেন।
প্রসঙ্গত, চালের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ যোগ হয় রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি)। ফলে ব্যবসায়ীদের ২৮ শতাংশ শুল্ক গুনতে হচ্ছে। এতে গত দেড় বছর ধরে চাল আমদানি প্রায় বন্ধ। কারণ প্রতি কেজি চালে শুল্ক গুনতে হয় প্রায় ৯ টাকা।
 
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর
শেষ পাতা বিভাগের অারও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by