আদনান সৈয়দ    |    
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
শব্দে ছবি আঁকার ক্ষমতা থাকতে হবে : দিলরুবা আহমেদ
এ সময়ের জনপ্রিয় লেখিকা দিলরুবা আহমেদ বসবাস করেন ডালাসে (টেক্সাস)। প্রতি বইমেলায়ই তার বই বের হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত গ্রন্থগুলো টেক্সাস টক, আমার ঘরে এসো, আঠার, ঝুমকালতার সারাটা দিন সহ বেশ কয়েকটি বই পাঠক সমাদৃত হয়েছে। বেশকিছু পুরস্কার-ও তিনি পেয়েছেন। দিলরুবা আহমেদের এ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী লেখক আদনান সৈয়দ
আদনান সৈয়দ : এ বছর মেলায় আপনার প্রকাশিত গ্রন্থটি সম্পর্কে কিছু বলুন
দিলরুবা আহমেদ : এ বছর প্রকাশিত হয়েছে উপন্যাস ব্রাউন গার্লস। কয়েকটি প্রবাসী বাঙালি মেয়ের কাহিনী, ওদের সংগ্রাম, বসবাস, জীবনযাপন, একাকিত্বের বেদনা এতে উঠে এসেছে। আমেরিকাবাসী নিহা, আর অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া হিয়াকে নিয়ে মূল কাহিনী এগিয়েছে।
উত্তর আমেরিকায় অনেকেই লেখালেখি করছেন। কেউ বলছেন ডায়াসপরা সাহিত্য, কেউ বলছেন প্রবাসী সাহিত্য। আপনি বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?
: সাহিত্যের বিশ্বজনীন দিকটা আমার কাছে মুখ্য। সাহিত্য সীমানা ডিঙাবে এবং এটাই কাম্য। প্রবাসী সাহিত্যিক বললে খারাপ কিছু আমি ভাবি না, কিন্তু তার সাহিত্যকে প্রবাসী সাহিত্য বললে সে-টাকে মূলধারা থেকে যেন সরিয়ে দেয়া হয়! মফস্বলীয় সাহিত্য কথাটা যেমন অনাদৃত তেমনি প্রবাসী সাহিত্য ভাবধারাটা-ও কাক্সিক্ষত নয়।
কি লিখলাম তাই বিবেচ্য, কোথায় বসে লিখলাম তা নয়। যা পাঠক হৃদয়কে আকর্ষণ করে তাই চিরন্তনের রূপ পাবে। থাকবে। থেকে যাবে। তবে যে প্রবাসী তার দেখার মাত্রায় কিছু ভিন্ন ডাইমেনশন আশা করা যায়। সবটুকু সরলীকরণ না করে ভিন্ন এঙ্গেল থেকেও তিনি দেখতে পারেন পটভূমি। তাই আমার তো মনে হয় প্রবাসী লেখক থেকে প্রত্যাশাও করা যায় বেশি কিছু। রাজনৈতিক চাপ, সামাজিক প্রভাব থেকে দূরে ও মুক্ত থাকার কারণে প্রবাসী লেখকের কলমের সাহসী পথচলাও আশা করা যেতে পারে।
উত্তর আমেরিকায় যারা লেখালেখি করছেন তাদের লেখার মূল্যায়ন কীভাবে করবেন?
: যেহেতু সবার লেখা পড়ার সুযোগ এখনও হয়নি, তাই মূল্যায়ন নাইবা আমি করলাম, তবে অবশ্যই ভালো লাগে দেখে যে দেশ থেকে দূরে বলে এদের কাউকে কোনোভাবেই ঠেকিয়ে, ঠকিয়ে, ঠেলে দূরে ফেলে দেয়া যাচ্ছে না, বরং বীরবিক্রমে দেশে যারা আছেন তাদের মতোই সমান্তরাল গতিতে তারাও ছুটছেন সাহিত্যের অঙ্গনে। এটা আশাপ্রদ।
ভালো লেখক হতে হলে একজন মানুষের কোন গুণটা থাকা খুব জরুরি?
: অবলোকন। অনুধাবন। লেখক দেখবেন ত্রিমাত্রিক। ত্রি ডি এনভায়রনমেন্টে উপন্যাসিক গল্পকারের বসবাস হতে হয়। শব্দে ছবি আকার ক্ষমতা থাকতে হবে। কোথায় যেন পড়েছিলাম কোটিল্য বলেছিলেন ভালো প্রশাসককে বনের মাঝে গাছের পাতা পড়ার শব্দ শুনতে পেতে হয়, আমি তো বলব লেখককে লোকালয়েই তা পেতে হয়। লিখতে গেলে নিজেকেই আগে প্রচুর পড়তে হবে।
লেখক হওয়ার জন্য লেখককে প্রস্তুত হওয়া উচিত?
: সব ক্ষেত্রেই আমরা কিন্তু প্রস্তুতি নিই। এই যেমন খেতে গেলেও হাত ধুয়ে নিই। প্রস্তুতি থাকলে অপ্রস্তুত হতে হয় না, পারফেকশন আনে। বিরল প্রতিভা যার রয়েছে তার হয়তো তা লাগে না কিন্তু বিরলতা তো আর উদাহরণ হতে পারে না।
কেউ কেউ বলেন মুদ্রিত আকারে বইয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে যাবে। আপনার মতামত কী?
: জনগোষ্ঠী তো বিশাল, তাই কিছু পাঠক বই ছেড়ে নতুন কিছুতে আগ্রহী হলেও নতুন করে আরও অনেকে পড়তে আসবেন আশা করি। আসলে পড়ার মতো হলে পাঠক থাকবেই। হাতে ধরা মলাটে বাঁধানো বইয়ের সঙ্গে কি আর কিছুর তুলনা হয়!
আপনার প্রিয় মানুষদের কথা বলুন
: প্রিয় মানুষ বলতে এ প্রবাসে তো আমার বর আর মেয়ে। মূল সুর। এরা ঠিক মতো বাজলে আমার-ও সাধ হয় যথার্থ। আমার বরের হেল্প ছাড়া লেখালেখি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। মেয়ে শুমাইসাও তার অনেক প্রোগ্রাম কাটছাঁট করে আমার লেখার জন্য সময় করে দেয়। আমার বই বের হলে আমার মা খুব খুশি হন।



  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by