jugantor
ফের বিতর্কে মতিঝিল আইডিয়াল

  মুসতাক আহমদ  

০৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৫:০৮:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

 
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাসে দেড় লাখ টাকা ভাতা নেয়ার অভিযোগ * সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে টালমাটাল অবস্থা * দু’দফা চিঠি দিয়েও জাল সনদধারী শিক্ষকদের তালিকা পায়নি মন্ত্রণালয়

ফের বিতর্কের জালে জড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকার মতিঝিলের বিখ্যাত আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রভাবশালী সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি নেয়ার অভিযোগ সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও তাকে বহাল রাখা হয়েছে। জাল সনদের এ ঘটনার সূত্র ধরে মন্ত্রণালয় থেকে বাকি শিক্ষকদের সনদও যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষকে দু’দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো প্রতিবেদন দেয়নি স্কুলটি। এ অবস্থার মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির বেশকিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে।

এসব বিতর্কের রেশ না কাটতেই প্রতিষ্ঠানের তিনটি শাখায় সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে। সর্বশেষ ২ নভেম্বর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধি-বহির্ভূতভাবে আর্থিক সুবিধা নেয়ার বিষয়ে কয়েকজন অভিভাবক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ ভর্তি, ভর্তি পরীক্ষার খরচসহ বিভিন্ন বিষয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। এর অনেক কিছু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) তদন্তে প্রমাণিত হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম যুগান্তরকে বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি কোনো কথা বলতে পারবেন না। অন্য যেসব বিষয়ে নিয়মের ব্যত্যয়ের অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। জিবির (গভর্নিং বডি) অনুমোদনক্রমেই তিনি বিভিন্ন ধরনের ভাতা নিচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করে ইনজাংশন পাওয়ায় সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম খানকে চাকরিতে বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য শিক্ষকদের সনদ যাচাইয়ের কাজ চলছে।

মাউশি সূত্র জানায়, ২ নভেম্বর স্কুলের ৫ জন অভিভাবকের স্বাক্ষরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ মহাপরিচালকের কাছে দাখিল হয়েছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, অধ্যক্ষ স্কুলের বাসায় বসবাস করেন। তা সত্ত্বেও তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ভাড়া নেন। বাড়ির বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল স্কুলের তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়। এমপিওর সঙ্গে সরকারের কাছ থেকেও বাড়ি ভাড়া নেন অধ্যক্ষ। এ ছাড়া বিভিন্ন শাখা থেকে তিনি প্রায় দেড় লাখ ভাতা নেন। ওই অভিযোগপত্রে সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ব্যাপারেও অভিযোগ করা হয়। বলা হয়, বেতনের বাইরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা করে ভাতা নেন একেকজন। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করা হয় এতে।

প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক ফোরামের চেয়ারম্যান জিয়াউল কবীর দুলু বলেন, স্কুলে বর্তমানে ১২শ’ টাকা করে শিক্ষার্থী প্রতি মাসে টিউশন ফি দিতে হচ্ছে। অধ্যক্ষসহ অন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এভাবে বাড়তি অর্থ নেয়া বন্ধ হলে এই ফি অর্ধেকে নেমে আসবে। তাই আমরা অবৈধভাবে অর্থ নেয়ার ব্যাপারে আপত্তি তুলেছি।

এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম বলেন, ‘৫ জন নয়, ১০০ জন মিলেও মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ দিলে অসুবিধা নাই। জিবির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই আমি এ ভাতা নিচ্ছি। লুকিয়ে নিচ্ছি না। আর অন্য অধ্যক্ষরা যেভাবে বাড়িতে থেকেছেন ও ভাতা নিয়েছেন আমিও সেভাবেই নিচ্ছি।’ এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের জিবি সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জামান যুগান্তরকে বলেন, অধ্যক্ষ কী হারে ভাতা নিচ্ছেন সেটা তিনি কখনও খেয়াল করে দেখেননি। এদিকে ২৮ অক্টোবর স্কুলে তিনটি শাখায় সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা হয়। ওই পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন নিয়ে শুরুতেই স্কুলের জিবি সভাপতি এবং নিয়োগ পরীক্ষার মহাপরিচালকের প্রতিনিধির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। নিয়োগ কমিটির একাধিক সদস্য জানান, জিবি সভাপতি চাইছিলেন প্রশ্নপত্র তিনি তৈরি করবেন। বিপরীত দিকে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ধানমণ্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইনছান আলী চাচ্ছিলেন তার করা প্রশ্নে পরীক্ষা হবে। এ নিয়ে বিতর্কের একপর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়। কিন্তু সেই পরীক্ষা বাতিল প্রশ্নে জিবি সদস্যরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এ ব্যাপারে একটি অংশ বলছে, প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে, তাই বাতিল করতে হবে। আরেক অংশ বলছে, সমঝোতার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্ন তৈরি করা হয়। তা ফাঁসের সুযোগ নেই। আর ফাঁস হলে পরীক্ষার পর প্রস্তাব উঠবে কেন? নিয়োগ কমিটি ও জিবির সদস্য জাহিদুল ইসলাম টিপু এ ব্যাপারে বলেন, প্রশ্ন তৈরির কর্তৃত্ব নিয়ে বিতর্কের সমাধান হয় সমঝোতার ভিত্তিতে। ওই প্রশ্নপত্রে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ২৬ নম্বর, থানা শিক্ষা কর্মকর্তা ৬ নম্বর এবং জিবি সভাপতি ১৮ নম্বরের প্রশ্ন দেন। আমার কাছে মনে হয়েছে, স্বচ্ছভাবে সবকিছু হয়েছে। তাই পরীক্ষা বাতিলের প্রস্তাবে আমি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছি। কিন্তু সভাপতিসহ কয়েকজন পরীক্ষা বাতিল করতে চাচ্ছেন। এ ব্যাপারে সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জামান যুগান্তরকে বলেন, কোথাও এমন নিয়ম নেই যে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করবেন। নিয়ম হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগ কমিটির সদস্যদের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। কিন্তু মহাপরিচালকের প্রতিনিধি একাই প্রশ্ন করেছেন। সব মিলিয়ে যে প্রক্রিয়ায় প্রশ্নপত্র তৈরি এবং পরীক্ষা নেয়া হয়েছে, তাতে আমি একমত হতে পারিনি। তাই আমি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। চাইলে এখন এ পরীক্ষার ব্যাপারে দুদক বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনটি বিভাগ তদন্তও করতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্রে কার কয়টি প্রশ্ন ছিল তা এখন বলার অবস্থা নেই।’ মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ইনছান আলী দাবি করেন, তিনি যে নিয়োগ কমিটির সদস্য সে ব্যাপারে আগের দিন মাউশি থেকে জানতে পারেন। তাই কারও সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগের কোনো সুযোগই তার ছিল না। তাই প্রশ্ন ফাঁস করে দেয়ার অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

নিয়োগ কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধি ছিলেন মতিঝিল থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোশতাক আহমেদ। তিনি বলেন, সভাপতি এবং মহাপরিচালকের প্রতিনিধির মধ্যে প্রশ্ন তৈরি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি একপর্যায়ে পারস্পরিক আত্মমর্যাদার প্রশ্নে পৌঁছায়। যদিও শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে প্রশ্নপত্র তৈরি হয়। এরপর পরীক্ষা শুরু হলে সভাপতি অসুস্থতার কারণে বাসায় চলে যান। পরীক্ষা শেষে ফলাফল ঘোষণা না দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করে সিলগালা করে রাখা হয়েছে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই নিয়োগ নিয়ে জিবির বর্তমান ও সাবেক সদস্যরা আগেই বিভক্ত হয়ে পড়েন। উভয় অংশের পছন্দের প্রার্থী আছে। এমনকি এ নিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মতো অভিযোগও চাউর হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করে জিবি সদস্য টিপু বলেন, ‘কারও কারও পছন্দের প্রার্থী ভালো করতে পারেনি বলে পরীক্ষা বাতিলের প্রস্তাব উঠেছে- এমন কথা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। যদিও এর সত্যতা আমার জানা নেই। বরং প্রতিষ্ঠানের খোদ সভাপতি নিয়োগ কমিটির সাব-কমিটির প্রধান হওয়ায় আমরা বিপাকে পড়ে গেছি। এখন সমাধান চাওয়ার জায়গা নেই।’ এ ব্যাপারে সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জামান যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ কমিটিতে জিবি সভাপতি দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। এতে সমস্যা নেই। বরং নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় আমি খুবই বিব্রত।
সাবমিট

ফের বিতর্কে মতিঝিল আইডিয়াল

 মুসতাক আহমদ 
০৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৫:০৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
 
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাসে দেড় লাখ টাকা ভাতা নেয়ার অভিযোগ * সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে টালমাটাল অবস্থা * দু’দফা চিঠি দিয়েও জাল সনদধারী শিক্ষকদের তালিকা পায়নি মন্ত্রণালয়

ফের বিতর্কের জালে জড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকার মতিঝিলের বিখ্যাত আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রভাবশালী সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি নেয়ার অভিযোগ সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও তাকে বহাল রাখা হয়েছে। জাল সনদের এ ঘটনার সূত্র ধরে মন্ত্রণালয় থেকে বাকি শিক্ষকদের সনদও যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষকে দু’দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো প্রতিবেদন দেয়নি স্কুলটি। এ অবস্থার মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির বেশকিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে।

এসব বিতর্কের রেশ না কাটতেই প্রতিষ্ঠানের তিনটি শাখায় সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে। সর্বশেষ ২ নভেম্বর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধি-বহির্ভূতভাবে আর্থিক সুবিধা নেয়ার বিষয়ে কয়েকজন অভিভাবক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ ভর্তি, ভর্তি পরীক্ষার খরচসহ বিভিন্ন বিষয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। এর অনেক কিছু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) তদন্তে প্রমাণিত হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম যুগান্তরকে বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি কোনো কথা বলতে পারবেন না। অন্য যেসব বিষয়ে নিয়মের ব্যত্যয়ের অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। জিবির (গভর্নিং বডি) অনুমোদনক্রমেই তিনি বিভিন্ন ধরনের ভাতা নিচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করে ইনজাংশন পাওয়ায় সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম খানকে চাকরিতে বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য শিক্ষকদের সনদ যাচাইয়ের কাজ চলছে।

মাউশি সূত্র জানায়, ২ নভেম্বর স্কুলের ৫ জন অভিভাবকের স্বাক্ষরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ মহাপরিচালকের কাছে দাখিল হয়েছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, অধ্যক্ষ স্কুলের বাসায় বসবাস করেন। তা সত্ত্বেও তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ভাড়া নেন। বাড়ির বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল স্কুলের তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়। এমপিওর সঙ্গে সরকারের কাছ থেকেও বাড়ি ভাড়া নেন অধ্যক্ষ। এ ছাড়া বিভিন্ন শাখা থেকে তিনি প্রায় দেড় লাখ ভাতা নেন। ওই অভিযোগপত্রে সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ব্যাপারেও অভিযোগ করা হয়। বলা হয়, বেতনের বাইরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা করে ভাতা নেন একেকজন। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করা হয় এতে।

প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক ফোরামের চেয়ারম্যান জিয়াউল কবীর দুলু বলেন, স্কুলে বর্তমানে ১২শ’ টাকা করে শিক্ষার্থী প্রতি মাসে টিউশন ফি দিতে হচ্ছে। অধ্যক্ষসহ অন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এভাবে বাড়তি অর্থ নেয়া বন্ধ হলে এই ফি অর্ধেকে নেমে আসবে। তাই আমরা অবৈধভাবে অর্থ নেয়ার ব্যাপারে আপত্তি তুলেছি।

এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম বলেন, ‘৫ জন নয়, ১০০ জন মিলেও মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ দিলে অসুবিধা নাই। জিবির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই আমি এ ভাতা নিচ্ছি। লুকিয়ে নিচ্ছি না। আর অন্য অধ্যক্ষরা যেভাবে বাড়িতে থেকেছেন ও ভাতা নিয়েছেন আমিও সেভাবেই নিচ্ছি।’ এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের জিবি সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জামান যুগান্তরকে বলেন, অধ্যক্ষ কী হারে ভাতা নিচ্ছেন সেটা তিনি কখনও খেয়াল করে দেখেননি। এদিকে ২৮ অক্টোবর স্কুলে তিনটি শাখায় সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা হয়। ওই পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন নিয়ে শুরুতেই স্কুলের জিবি সভাপতি এবং নিয়োগ পরীক্ষার মহাপরিচালকের প্রতিনিধির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। নিয়োগ কমিটির একাধিক সদস্য জানান, জিবি সভাপতি চাইছিলেন প্রশ্নপত্র তিনি তৈরি করবেন। বিপরীত দিকে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ধানমণ্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইনছান আলী চাচ্ছিলেন তার করা প্রশ্নে পরীক্ষা হবে। এ নিয়ে বিতর্কের একপর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়। কিন্তু সেই পরীক্ষা বাতিল প্রশ্নে জিবি সদস্যরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এ ব্যাপারে একটি অংশ বলছে, প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে, তাই বাতিল করতে হবে। আরেক অংশ বলছে, সমঝোতার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্ন তৈরি করা হয়। তা ফাঁসের সুযোগ নেই। আর ফাঁস হলে পরীক্ষার পর প্রস্তাব উঠবে কেন? নিয়োগ কমিটি ও জিবির সদস্য জাহিদুল ইসলাম টিপু এ ব্যাপারে বলেন, প্রশ্ন তৈরির কর্তৃত্ব নিয়ে বিতর্কের সমাধান হয় সমঝোতার ভিত্তিতে। ওই প্রশ্নপত্রে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ২৬ নম্বর, থানা শিক্ষা কর্মকর্তা ৬ নম্বর এবং জিবি সভাপতি ১৮ নম্বরের প্রশ্ন দেন। আমার কাছে মনে হয়েছে, স্বচ্ছভাবে সবকিছু হয়েছে। তাই পরীক্ষা বাতিলের প্রস্তাবে আমি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছি। কিন্তু সভাপতিসহ কয়েকজন পরীক্ষা বাতিল করতে চাচ্ছেন। এ ব্যাপারে সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জামান যুগান্তরকে বলেন, কোথাও এমন নিয়ম নেই যে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করবেন। নিয়ম হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগ কমিটির সদস্যদের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। কিন্তু মহাপরিচালকের প্রতিনিধি একাই প্রশ্ন করেছেন। সব মিলিয়ে যে প্রক্রিয়ায় প্রশ্নপত্র তৈরি এবং পরীক্ষা নেয়া হয়েছে, তাতে আমি একমত হতে পারিনি। তাই আমি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। চাইলে এখন এ পরীক্ষার ব্যাপারে দুদক বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনটি বিভাগ তদন্তও করতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্রে কার কয়টি প্রশ্ন ছিল তা এখন বলার অবস্থা নেই।’ মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ইনছান আলী দাবি করেন, তিনি যে নিয়োগ কমিটির সদস্য সে ব্যাপারে আগের দিন মাউশি থেকে জানতে পারেন। তাই কারও সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগের কোনো সুযোগই তার ছিল না। তাই প্রশ্ন ফাঁস করে দেয়ার অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

নিয়োগ কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধি ছিলেন মতিঝিল থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোশতাক আহমেদ। তিনি বলেন, সভাপতি এবং মহাপরিচালকের প্রতিনিধির মধ্যে প্রশ্ন তৈরি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি একপর্যায়ে পারস্পরিক আত্মমর্যাদার প্রশ্নে পৌঁছায়। যদিও শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে প্রশ্নপত্র তৈরি হয়। এরপর পরীক্ষা শুরু হলে সভাপতি অসুস্থতার কারণে বাসায় চলে যান। পরীক্ষা শেষে ফলাফল ঘোষণা না দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করে সিলগালা করে রাখা হয়েছে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই নিয়োগ নিয়ে জিবির বর্তমান ও সাবেক সদস্যরা আগেই বিভক্ত হয়ে পড়েন। উভয় অংশের পছন্দের প্রার্থী আছে। এমনকি এ নিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মতো অভিযোগও চাউর হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করে জিবি সদস্য টিপু বলেন, ‘কারও কারও পছন্দের প্রার্থী ভালো করতে পারেনি বলে পরীক্ষা বাতিলের প্রস্তাব উঠেছে- এমন কথা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। যদিও এর সত্যতা আমার জানা নেই। বরং প্রতিষ্ঠানের খোদ সভাপতি নিয়োগ কমিটির সাব-কমিটির প্রধান হওয়ায় আমরা বিপাকে পড়ে গেছি। এখন সমাধান চাওয়ার জায়গা নেই।’ এ ব্যাপারে সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জামান যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ কমিটিতে জিবি সভাপতি দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। এতে সমস্যা নেই। বরং নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় আমি খুবই বিব্রত।

 
প্রিন্ট সংস্করণ অনলাইন সংস্করণ
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র