আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
খুলনার কলেজগুলোতে অভিভাবকহীন ছাত্রলীগ
বাড়ছে কোন্দল, সংঘর্ষ ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই
খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ কলেজগুলোতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা চলছেন অভিভাবকহীন অবস্থায়। এক দশকেরও বেশি সময় এসব কলেজে কমিটি হয় না। ফলে অনিয়ন্ত্রিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে জড়িয়ে পড়ছেন সংঘর্ষে।
ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০০৬-০৭ সালের পর খুলনার সরকারি আযম খান কমার্স কলেজে ছাত্রলীগের আর কোনো কমিটি হয়নি। গত বছর ২৩ আগস্ট ওই কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মহানগর ছাত্রলীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক এসএম রাজু হোসেন, নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম সবুজ ও মশিউর রহমান বাদশা আহত হন।
এর আগে ২০১৪ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুলনার আযম খান সরকারি কমার্স কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। কলেজের প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ আধুনিক ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা চালায়। ওই সময়কার নগর সভাপতি দেব দুলাল বাড়ৈ বাপ্পি ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহজালাল সুজন গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। চলতি বছর ২০ জানুয়ারি অশালীন উক্তির প্রতিবাদ করায় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) সংরক্ষিত ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হালিমা ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ওই দিন হালিমা ইসলামের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ভাংচুরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মহানগর ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মশিউর রহমান বাদশাসহ ছাত্রলীগ নেতা মিথুন, মেহেদী, জাহাঙ্গীর, হাবিবুর রহমান, ইনজামুল কবির, দেবাশীষ পাল, সবুজ বিশ্বাস, আবু দাউদ ও আশিকুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে গত বছর নগরীর এমএম মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজে কমিটি হয় না প্রায় এক যুগ। সরকারি সুন্দরবন কলেজেও কমিটি গঠন হয় না প্রায় এক দশক।
এদিকে গত বছর ২৭ আগস্ট খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব নমিতা হালদার কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কলেজ ক্যান্টিনে খুলনা মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সাইফুল্লাহ মানসুর ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের পক্ষের কর্মীদের হাতাহাতি ও মারামারি হয়। এ কলেজে বর্তমানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ রয়েছে।
গত দুই বছরের মধ্যে খুলনার বড় বড় কলেজগুলোতে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর কারণ হিসেবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলছেন দীর্ঘদিন কলেজগুলোতে কমিটি না হওয়ার জের হিসেবে নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন। এছাড়াও নগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই নেতার কাছাকাছি ভিড়বার জন্যও নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন। এসব সংঘর্ষ ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমের জন্য ২০১৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা মহানগরী ছাত্রলীগের সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি।
এ বিষয়ে কথা বলতে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহজালাল সুজনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আসাদুজ্জামান রাসেল বলেন, আগামী ২৬ মার্চের পর কলেজগুলোর কমিটি গঠন নিয়ে আমরা বসব। শিগগিরই কমিটি গঠন করা হবে কলেজগুলোতে।
নগর সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ হোসেন সবুজ বলেন, ‘নগর কমিটির ব্যর্থতার কারণেই কলেজগুলোতে কমিটি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের তোড়জোড় না থাকার কারণে কলেজগুলোতে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। সক্ষমতা থাকলে সংগঠনের স্বার্থেই কমিটি দিয়ে মাঠপর্যায় থেকে নেতৃত্ব বিকাশের পথকে সুগম করার চেষ্টা করতাম।’



  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর
খবর বিভাগের অারও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by