¦
খাসজমি আত্মসাতের অভিযোগ দুদকে নথিভুক্ত

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৫

ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৪২ একর খাসজমি আত্মসাতের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অব্যাহতি দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধীরাজ মালাকার, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক (সাপ্লাই চেইন) হাবিবুর রহমান বুলবুলসহ সংশ্লিষ্টদের। ২১ এপ্রিল কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তাদের অব্যাহতি দিয়েছে দুদক।
দুদক সূত্র জানায়, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের বনশ্রী/আফতাব নগর প্রকল্পে ৪২.১১ একর খাসজমি দখল করে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো ২০০১ সালে অনুসন্ধান শুরু করে। কমিশন গঠিত হলেও দীর্ঘদিন অনুসন্ধানটি {স্মারক নং-২১০/২০০১ {(টা:ফো:-১)/অ:বি: সেল-৩} পড়েছিল দুদকের অনিষ্পন্ন শাখায়। সম্প্রতি অভিযোগটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়। সর্বশেষ বিষয়টি অনুসন্ধান করেন উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ সামসুল আরেফিন। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন অব্যাহতি দেয়। ২১ এপ্রিল অব্যাহতি সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করে দুদক। তবে এ ঘটনা দুদকের অনুসন্ধানের মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।
সূত্রমতে, সরকারের ৪২ একর সম্পত্তি আত্মসাতের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাসজমি-১ অধিশাখা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন) মো. নাসির উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের এ কমিটি গত বছর ১৬ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, সরকারের সঙ্গে যে বিনিময় দলিলের মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং দখলকৃত সম্পত্তির মালিকানা দাবি করছে সেটি যথার্থ নয়। ইস্টার্ন হাউজিংয়ের আবাসন প্রকল্পের ভেতর থাকা ৪২.১১ একর খাসজমির সঙ্গে তাদের নিজস্ব জমির যে বিনিময় কার্যক্রম সম্পাদন করেছেন সে বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ০৫/০৬/২০০০ তারিখের পত্রের নির্দেশনা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে বিদ্যমান আইনে বা পূর্ববৎ কোনো আইনে সরকার কর্তৃক খাসজমি বিনিময়ের কোনো বিধান নেই বা ছিল না। বিনিময় প্রক্রিয়াটি বিদ্যমান কোনো আইন বা বিধি দ্বারা সমর্থিত নয়।
সুপারিশে বলা হয়, যে বিনিময় দলিলের মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং সরকারকে ১৭.৮৭২৫ একর জমি প্রদান করেছে তার মধ্যেও অর্পিত সম্পত্তি ও খাসজমি রয়েছে। ইস্টার্ন হাউজিংয়ের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত জমিও রয়েছে। অর্থাৎ সরকারের খাসজমি ইস্টার্ন হাউজিং দখল করে নিলেও বিনিময়ে সরকারকে দেয়া জমি সরকারকে এখনও বুঝিয়ে দেয়া হয়নি।
সব রেকর্ডপত্র যাচাই-বাছাই করেই দুদক অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। আপনিও ব্যক্তিগতভাবে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন- জানতে চাইলে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (সাপ্লাই চেইন) হাবিবুর রহমান বুলবুল বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন দুদক নিশ্চয়ই দেখেছে। সেটি পর্যালোচনা করেই অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সব প্রশ্নের জবাব রয়েছে।
এদিকে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খাসজমি আত্মসাতের অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। এ বিষয়ে জনস্বার্থে পৃথক একটি রিট হয়েছে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ যুগান্তরকে বলেন, সাধারণ প্রবণতা যেটা, প্রভাবশালী ও অর্থশালী ব্যক্তিরা অনুসন্ধানে প্রভাব বিস্তার করে সুবিধা গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, সরকারি জমি গ্রাসের অভিযোগ নতুন নয়। দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদকের কাজই ছিল আত্মসাতের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া। সেটি না করে দুদক দায়িত্ব এড়িয়ে গেছে। এ ঘটনা দুদকের অনুসন্ধানের গুণগত মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close