jugantor
বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান এবার আগ্রহের কেন্দ্রে

  মুসতাক আহমদ  

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

আগ্রহের কেন্দ্রে ‘বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান’। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ কবে ও কখন প্রথম ব্যবহৃত হয়, কোন কবি বা সাহিত্যিক তার কোন গ্রন্থে এটা প্রথম ব্যবহার করেছেন কিংবা ব্যবহৃত শব্দগুলো বর্তমানে পরিবর্তন হয়ে কীভাবে এসে পৌঁছাল, আদিতে তা কী রূপে ছিল- তারই অভিধান এই গ্রন্থ। প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে ১৫ জন গবেষক প্রণয়ন করেছেন গ্রন্থটি। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত এই গ্রন্থটি প্রণয়নে সরকারের খরচ হয়েছে ৪ কোটি টাকা।

বইমেলার দু’অঙ্গনেই বাংলা একাডেমির পৃথক দুটি স্টল রয়েছে। এর বাইরে নতুন ভবনের নিচতলায় স্থায়ী বিক্রয় কেন্দ্র তো রয়েছেই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্টলে বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন জানালেন, এমনিতেই বাংলা একাডেমির বিভিন্ন অভিধান পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিবর্তনমূলক অভিধান।

বিবর্তনমূলক অভিধান প্রণয়নের ১৫ সদস্যের দলের সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন প্রবাসী লেখক ও গবেষক গোলাম মুরশিদ। সহযোগী সম্পাদক ছিলেন স্বরোচিষ সরকার। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, ৩ খণ্ডের এই গ্রন্থে ৩ হাজার ১শ’ পৃষ্ঠা রয়েছে। এর দাম ৩ হাজার টাকা। গ্রন্থে আদি থেকে ১৯৭২-৭৩ সাল পর্যন্ত ব্যবহৃত শব্দ নেয়া হয়েছে।

গতকালের মেলা : বুধবারও মেলায় পাঠক-ক্রেতার সমাগম ভালো ছিল। তবে উচ্ছ্বাসটা আগের দিনের তুলনায় কম দেখা যায়। সুরম্য গেট স্থাপন করায় পাঠক-ক্রেতার যাতায়াতের পথ অনেকটা নির্বিঘ্ন হয়েছে। তবে সমাগতদের টয়লেট সমস্যা রয়েই গেছে। ভাসমান যে ৬টি টয়লেট বসানো হয়েছে, বিব্রতকর পরিস্থিতির কারণে তাতে অনেকেই যেতে আগ্রহী হচ্ছে না। তারপরও তাতে গলাকাটা পয়সা নেয়া হচ্ছে। দিন দিন মেলার বাইরের অংশ যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর সড়কে বসেছে আরেক মেলা। সেখানে এর মধ্যেই একাধিক অবৈধ স্টল বসেছে। ফুটপাতে পসরা মেলেছে নকল বইয়ের ভাসমান দোকান। এর বাইরে মুড়ি-মুড়কি থেকে শুরু করে গৃহস্থালী আর সাজগোজের সব পণ্যই মিলছে এই পথে। নাগরদোলা পর্যন্ত দুলছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

নতুন গ্রন্থ ও মোড়ক উম্মোচন : সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এদিন ৫টি বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করা হয়। শাহরিয়ার কবিরের ‘গণআদালত থেকে গণজাগরণ মঞ্চ’ গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করেন বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মুনতাসীর মামুন, কাজী মুকুল, তুরিন আফরোজ প্রমুখ। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে চারুলিপি প্রকাশন। এছাড়া অবসর প্রকাশিত ড. রুমানা আফরোজের ‘ঢাকা শহরের বিহারিদের ভাষা : সমাজ ভাষাবিজ্ঞানগত সমীক্ষা’, সাহস প্রকাশিত শামীম খান যুবরাজের ‘বিষ্টি ঝরে মিষ্টিসুরে’, নিশাত পাবলিকেশন্স প্রকাশিত গোলজার হোসেনের ‘স ষ্টার সৃষ্টি জগৎ’ গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করা হয়।

আর পঞ্চম দিনে নতুন বই এসেছে ৭৬টি। এর মধ্যে গল্প ৮, উপন্যাস ১৫, প্রবন্ধ ৩, কবিতা ২৬, ছড়া ৪, শিশুসাহিত্য ৫, রচনাবলী ২, বিজ্ঞান ১, ভ্রমণ ১, রাজনীতি ১, রম্য ১, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ৩ ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর এসেছে ৬টি বই। অবসরে এসেছে ড. মকসুদুর রহমানের ‘বঙ্গভঙ্গ ও বাঙালির ঐক্য’, ইশতিয়াক হাসানের ‘সাত শিকার’, অনিন্দ্যে এসেছে আহমদ রফিকের ‘শিল্প সংস্কৃতি জীবন’, হাসান হাফিজের ‘ভূত পেত্নীর শ্রেষ্ঠ গল্প’, অন্যপ্রকাশে হুমায়ূন আহমেদের শিশুতোষ গ্রন্থ ‘কাকারু’, ‘ব্যাঙ-কন্যা এলেং’, অনুপম এনেছে মিজানুর রহমান সজল ও জাফর সাদিকের সম্পাদনায় ‘কবিতায় বঙ্গবন্ধু’, খালেদ হোসাইনের ‘কবিতাসমগ্র’, আগামী এনেছে হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘নদী পুরান এবং প্যাকেজ ট্যুর’, মাওলায় হরিশংকর জলদাসের ‘প্রতিবন্ধী’, সাহসে আলী ইমামের ‘হিরেকুচি জোনাকি’, শ্রাবণে ড. মুশতাক আহমেদের ‘টেলিভিশন সাংবাদিকতা, টেকনিক ও টেকনোলজি’, অনন্যা এনেছে ইমদাদুল হক মিলনের ‘মায়াঘর’, রফিকুল আলমের ‘ইসলামী সভ্যতা ও শিল্পকলা।


 

সাবমিট

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান এবার আগ্রহের কেন্দ্রে

 মুসতাক আহমদ 
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 

আগ্রহের কেন্দ্রে ‘বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান’। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ কবে ও কখন প্রথম ব্যবহৃত হয়, কোন কবি বা সাহিত্যিক তার কোন গ্রন্থে এটা প্রথম ব্যবহার করেছেন কিংবা ব্যবহৃত শব্দগুলো বর্তমানে পরিবর্তন হয়ে কীভাবে এসে পৌঁছাল, আদিতে তা কী রূপে ছিল- তারই অভিধান এই গ্রন্থ। প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে ১৫ জন গবেষক প্রণয়ন করেছেন গ্রন্থটি। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত এই গ্রন্থটি প্রণয়নে সরকারের খরচ হয়েছে ৪ কোটি টাকা।

বইমেলার দু’অঙ্গনেই বাংলা একাডেমির পৃথক দুটি স্টল রয়েছে। এর বাইরে নতুন ভবনের নিচতলায় স্থায়ী বিক্রয় কেন্দ্র তো রয়েছেই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্টলে বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন জানালেন, এমনিতেই বাংলা একাডেমির বিভিন্ন অভিধান পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিবর্তনমূলক অভিধান।

বিবর্তনমূলক অভিধান প্রণয়নের ১৫ সদস্যের দলের সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন প্রবাসী লেখক ও গবেষক গোলাম মুরশিদ। সহযোগী সম্পাদক ছিলেন স্বরোচিষ সরকার। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, ৩ খণ্ডের এই গ্রন্থে ৩ হাজার ১শ’ পৃষ্ঠা রয়েছে। এর দাম ৩ হাজার টাকা। গ্রন্থে আদি থেকে ১৯৭২-৭৩ সাল পর্যন্ত ব্যবহৃত শব্দ নেয়া হয়েছে।

গতকালের মেলা : বুধবারও মেলায় পাঠক-ক্রেতার সমাগম ভালো ছিল। তবে উচ্ছ্বাসটা আগের দিনের তুলনায় কম দেখা যায়। সুরম্য গেট স্থাপন করায় পাঠক-ক্রেতার যাতায়াতের পথ অনেকটা নির্বিঘ্ন হয়েছে। তবে সমাগতদের টয়লেট সমস্যা রয়েই গেছে। ভাসমান যে ৬টি টয়লেট বসানো হয়েছে, বিব্রতকর পরিস্থিতির কারণে তাতে অনেকেই যেতে আগ্রহী হচ্ছে না। তারপরও তাতে গলাকাটা পয়সা নেয়া হচ্ছে। দিন দিন মেলার বাইরের অংশ যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর সড়কে বসেছে আরেক মেলা। সেখানে এর মধ্যেই একাধিক অবৈধ স্টল বসেছে। ফুটপাতে পসরা মেলেছে নকল বইয়ের ভাসমান দোকান। এর বাইরে মুড়ি-মুড়কি থেকে শুরু করে গৃহস্থালী আর সাজগোজের সব পণ্যই মিলছে এই পথে। নাগরদোলা পর্যন্ত দুলছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

নতুন গ্রন্থ ও মোড়ক উম্মোচন : সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এদিন ৫টি বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করা হয়। শাহরিয়ার কবিরের ‘গণআদালত থেকে গণজাগরণ মঞ্চ’ গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করেন বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মুনতাসীর মামুন, কাজী মুকুল, তুরিন আফরোজ প্রমুখ। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে চারুলিপি প্রকাশন। এছাড়া অবসর প্রকাশিত ড. রুমানা আফরোজের ‘ঢাকা শহরের বিহারিদের ভাষা : সমাজ ভাষাবিজ্ঞানগত সমীক্ষা’, সাহস প্রকাশিত শামীম খান যুবরাজের ‘বিষ্টি ঝরে মিষ্টিসুরে’, নিশাত পাবলিকেশন্স প্রকাশিত গোলজার হোসেনের ‘স ষ্টার সৃষ্টি জগৎ’ গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করা হয়।

আর পঞ্চম দিনে নতুন বই এসেছে ৭৬টি। এর মধ্যে গল্প ৮, উপন্যাস ১৫, প্রবন্ধ ৩, কবিতা ২৬, ছড়া ৪, শিশুসাহিত্য ৫, রচনাবলী ২, বিজ্ঞান ১, ভ্রমণ ১, রাজনীতি ১, রম্য ১, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ৩ ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর এসেছে ৬টি বই। অবসরে এসেছে ড. মকসুদুর রহমানের ‘বঙ্গভঙ্গ ও বাঙালির ঐক্য’, ইশতিয়াক হাসানের ‘সাত শিকার’, অনিন্দ্যে এসেছে আহমদ রফিকের ‘শিল্প সংস্কৃতি জীবন’, হাসান হাফিজের ‘ভূত পেত্নীর শ্রেষ্ঠ গল্প’, অন্যপ্রকাশে হুমায়ূন আহমেদের শিশুতোষ গ্রন্থ ‘কাকারু’, ‘ব্যাঙ-কন্যা এলেং’, অনুপম এনেছে মিজানুর রহমান সজল ও জাফর সাদিকের সম্পাদনায় ‘কবিতায় বঙ্গবন্ধু’, খালেদ হোসাইনের ‘কবিতাসমগ্র’, আগামী এনেছে হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘নদী পুরান এবং প্যাকেজ ট্যুর’, মাওলায় হরিশংকর জলদাসের ‘প্রতিবন্ধী’, সাহসে আলী ইমামের ‘হিরেকুচি জোনাকি’, শ্রাবণে ড. মুশতাক আহমেদের ‘টেলিভিশন সাংবাদিকতা, টেকনিক ও টেকনোলজি’, অনন্যা এনেছে ইমদাদুল হক মিলনের ‘মায়াঘর’, রফিকুল আলমের ‘ইসলামী সভ্যতা ও শিল্পকলা।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র