jugantor
রংপুর সরকারি কলেজে ভর্তি-বাণিজ্য

  রংপুর ব্যুরো  

১০ জুলাই ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঠে তারা বিপরীতমুখী অবস্থানে আছেন। তবে একাদশ শ্রেণীর ভর্তি-বাণিজ্যে রংপুরে দুটি সরকারি কলেজের চারটি ছাত্র সংগঠনের ছাত্রনেতারা একাত্ম হয়েছেন। ফলে একাদশ শ্রেণীতে মেধা তালিকায় ভর্তির সুযোগ পেলেও নামধারী ছাত্রনেতাদের বাধার কারণে সরকারি কলেজে ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হতে পারছে না। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উৎকণ্ঠায় দিনযাপন করছেন। এই অশুভ রাজনৈতিক শক্তির কাছে কলেজ প্রশাসন অসহায়। ওই ছাত্র সংগঠনগুলোর পছন্দের তালিকা অনুযায়ী ভর্তি না করায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এ সংক্রান্ত নানা তথ্য জানা যায়। সরকারি কারমাইকেল কলেজ ও রংপুর কলেজ সূত্র জানায়, চলতি বছর একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য ২ হাজার ১শ’ জন ছাত্রছাত্রীর আসন সংখ্যা নির্ধারিত রয়েছে। এর বিপরীতে দুটি কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছে ১২ হাজার ৩৫০টি। এর মধ্যে রংপুর সরকারি কলেজে ১ হাজার ২শ’ আসনের বিপরীতে আবেদনপত্র জমা পড়েছে ৬ হাজার ৯৫০টি। গত ৩০ জুন পর্যন্ত ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও জাতীয় ছাত্র সমাজের ছাত্রনেতাদের বাধার মুখে নানা কৌশলে ভর্তি হয়েছে ৬৪১ জন ছাত্রছাত্রী। তাদের ভর্তির ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষাসহ অর্থের বিনিময় করতে হয়েছে। এর পরও ১ জুলাই ওই ছাত্রনেতাদের বেপরোয়া বাধার কারণে এই কলেজে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

এ প্রসঙ্গে রংপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সুবাস চন্দ্র বর্মণ বলেন, একটি উচ্ছৃংখল গ্র“পের কারণে ভর্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে পুলিশ প্রহরায় ভর্তি কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। বর্তমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা থাকায় কলেজে সাময়িক ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

সরকারি কারমাইকেল কলেজ সূত্র জানায়, গত ৩০ জুন মহানগরীর বেতপট্টিতে জনতা ব্যাংক কর্পোরেট শাখায় কলেজের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও জাতীয় ছাত্র সমাজ নেতাদের বাধার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় ব্যাংকের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। এ ভর্তি প্রক্রিয়া আবারও ১২, ১৩ ও ১৫ জুলাই কলেজের অফিসে সম্পাদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন কলেজের একাডেমিক ভবনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হবে। এজন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাধার মুখে নানা কৌশলে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করে এই কলেজে ৯০০ আসনের বিপরীতে এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৬৪২ জন। এই আসনের বিপরীতে আবেদনপত্র জমা পড়েছে ৫ হাজার ২০০টি।

এ ভর্তি-বাণিজ্য সম্পর্কে কারমাইকেল কলেজ শাখা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বর্মণ ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সদস্যসচিব, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কলেজ শাখার সভাপতি আবদুল মালেক যুগান্তরকে জানান, তারা এ ভর্তি-বাণিজ্যের বিরোধিতা করে আন্দোলন করছেন। তারা ছাত্র সংগঠনগুলোর নামে ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে যা হচ্ছে তার জন্য প্রশাসনকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান। কারমাইকেল কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান কানন এ সম্পর্কে বলেন, প্রকৃতপক্ষে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী এ ভর্তি-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন। তবে আমি শুনেছি, ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রসমাজ ও জাসদ ছাত্রলীগের নাম করে কেউ কেউ ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি হতে বাধা দিচ্ছে। এর বিরোধিতা করে কারমাইকেল কলেজ শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এমএম আলম পান্না বলেন, আমরা এখন নানা চাপের ভেতর আছি আমাদের নাম করে কেউ এমনটি করতে পারে তবে আমাদের সংগঠনের কেই এর সঙ্গে জড়িত নয়।



সাবমিট

রংপুর সরকারি কলেজে ভর্তি-বাণিজ্য

 রংপুর ব্যুরো 
১০ জুলাই ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 
রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঠে তারা বিপরীতমুখী অবস্থানে আছেন। তবে একাদশ শ্রেণীর ভর্তি-বাণিজ্যে রংপুরে দুটি সরকারি কলেজের চারটি ছাত্র সংগঠনের ছাত্রনেতারা একাত্ম হয়েছেন। ফলে একাদশ শ্রেণীতে মেধা তালিকায় ভর্তির সুযোগ পেলেও নামধারী ছাত্রনেতাদের বাধার কারণে সরকারি কলেজে ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হতে পারছে না। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উৎকণ্ঠায় দিনযাপন করছেন। এই অশুভ রাজনৈতিক শক্তির কাছে কলেজ প্রশাসন অসহায়। ওই ছাত্র সংগঠনগুলোর পছন্দের তালিকা অনুযায়ী ভর্তি না করায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এ সংক্রান্ত নানা তথ্য জানা যায়। সরকারি কারমাইকেল কলেজ ও রংপুর কলেজ সূত্র জানায়, চলতি বছর একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য ২ হাজার ১শ’ জন ছাত্রছাত্রীর আসন সংখ্যা নির্ধারিত রয়েছে। এর বিপরীতে দুটি কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছে ১২ হাজার ৩৫০টি। এর মধ্যে রংপুর সরকারি কলেজে ১ হাজার ২শ’ আসনের বিপরীতে আবেদনপত্র জমা পড়েছে ৬ হাজার ৯৫০টি। গত ৩০ জুন পর্যন্ত ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও জাতীয় ছাত্র সমাজের ছাত্রনেতাদের বাধার মুখে নানা কৌশলে ভর্তি হয়েছে ৬৪১ জন ছাত্রছাত্রী। তাদের ভর্তির ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষাসহ অর্থের বিনিময় করতে হয়েছে। এর পরও ১ জুলাই ওই ছাত্রনেতাদের বেপরোয়া বাধার কারণে এই কলেজে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

এ প্রসঙ্গে রংপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সুবাস চন্দ্র বর্মণ বলেন, একটি উচ্ছৃংখল গ্র“পের কারণে ভর্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে পুলিশ প্রহরায় ভর্তি কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। বর্তমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা থাকায় কলেজে সাময়িক ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

সরকারি কারমাইকেল কলেজ সূত্র জানায়, গত ৩০ জুন মহানগরীর বেতপট্টিতে জনতা ব্যাংক কর্পোরেট শাখায় কলেজের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও জাতীয় ছাত্র সমাজ নেতাদের বাধার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় ব্যাংকের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। এ ভর্তি প্রক্রিয়া আবারও ১২, ১৩ ও ১৫ জুলাই কলেজের অফিসে সম্পাদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন কলেজের একাডেমিক ভবনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হবে। এজন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাধার মুখে নানা কৌশলে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করে এই কলেজে ৯০০ আসনের বিপরীতে এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৬৪২ জন। এই আসনের বিপরীতে আবেদনপত্র জমা পড়েছে ৫ হাজার ২০০টি।

এ ভর্তি-বাণিজ্য সম্পর্কে কারমাইকেল কলেজ শাখা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বর্মণ ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সদস্যসচিব, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কলেজ শাখার সভাপতি আবদুল মালেক যুগান্তরকে জানান, তারা এ ভর্তি-বাণিজ্যের বিরোধিতা করে আন্দোলন করছেন। তারা ছাত্র সংগঠনগুলোর নামে ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে যা হচ্ছে তার জন্য প্রশাসনকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান। কারমাইকেল কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান কানন এ সম্পর্কে বলেন, প্রকৃতপক্ষে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী এ ভর্তি-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন। তবে আমি শুনেছি, ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রসমাজ ও জাসদ ছাত্রলীগের নাম করে কেউ কেউ ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি হতে বাধা দিচ্ছে। এর বিরোধিতা করে কারমাইকেল কলেজ শাখার ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এমএম আলম পান্না বলেন, আমরা এখন নানা চাপের ভেতর আছি আমাদের নাম করে কেউ এমনটি করতে পারে তবে আমাদের সংগঠনের কেই এর সঙ্গে জড়িত নয়।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র