¦
আদালতে বসেন না ৮০ ভাগ বিচারক

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৫

মামলার জট সহনীয় পর্যায়ে না আনলে বিচার বিভাগের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। মামলা জটের জন্য বিচারকদের আন্তরিকতার অভাবকে দায়ী করে তিনি বলেছেন, আমি দুঃখের সঙ্গে খেয়াল করলাম প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৮০ ভাগ বিচারক নিয়মিত আদালতে বসেন না। বসলেও আন্তরিকতার অভাব ছিল। শনিবার জেলা জজ ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এক সম্মেলনে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।
সুপ্রিমকোর্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি শুধু বলতে চাই, আমরা যেন ৩০ লাখ মামলা নিষ্পত্তি করতে পারি। সবই নিষ্পত্তি করতে পারব না। তবে সহনীয় পর্যায়ে যদি না নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আমার, আপনার সবারই অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। প্রশাসনের সঙ্গে বিচারকদের তুলনা না করার পরামর্শ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, কোনো দিনই চিন্তা করবেন না যে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বা পার্লামেন্টে কী হচ্ছে? তারা ঠিকমতো অফিসে আসেন না, তাই আমরাও সে রকম করব। পার্লামেন্টে এমপি সাহেবরা কোরাম পূরণ করেন না। তাদের সঙ্গে আপনারা যদি নিজেকে তুলনা করেন সাংঘাতিকভাবে ভুল করবেন। আপনারা জেনে-শুনেই এ পেশায় এসেছেন।
তুলনা কখন হবে ব্যাখ্যা করে জেলা জজদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, তুলনা হবে আপনার সঙ্গে আপনার সমপর্যায়ের। বিচার প্রশাসনের একজন বিচারকের সঙ্গে অপর একজন বিচারকের। আপনার সঙ্গে একজন সচিবের তুলনা হবে না বা জেলা পর্যায়ের একজন ডিসির সঙ্গে তুলনা হবে না। জেলা পর্যায়ে বা পার্লামেন্টে যে জেলা জজকে ডেপুটেশনে (প্রেষণে) দিয়েছি, তার সঙ্গে তুলনা হবে না। আপনাকে বিবেচনা করতে হবে আপনি কি কাজ করছেন। আপনি আপনার জেলা ও অন্য জেলার মামলার তুলনা করবেন।
ভালো কাজ করলে মূল্যায়ন করা হবে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, যার আদালত ব্যবস্থাপনা, মামলা ব্যবস্থাপনা ভালো, অধীনস্থদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন, তাকেই মূল্যয়ন করব। সে জুনিয়র হলেও মূল্যায়ন করতে দ্বিধা করব না। বিচারপতি এসকে সিনহা বলেন, আমি রাবার স্ট্যাম্পে সিল দেয়ার জন্য এ চেয়ারে আসিনি। বিচারকদের মর্যাদা, মান-সম্মান, অধিকার সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণরূপে সজাগ।
বিচারপতি বলেন, বিচারক স্বল্পতার কথা বলছি এটা ঠিক। নিয়োগ দেয়ার জন্য কাজ করছি। তবে এটাও তো ঠিক যে আমাদের লজিস্টিক সাপোর্টের অভাব রয়েছে। এখন যদি একসঙ্গে ৫শ জন বিচারক নিয়োগ দেই তাদের বসার জায়গা দেয়াটা কঠিন হয়ে পড়বে। বিচারক নেয়া হবে। তিনি বলেন, যেসব জেলায় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট বিল্ডিং নেই, আশা করি আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেগুলো তৈরির কাজ শুরু করে দেব। প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা সর্বোচ্চ লেভেলে আছেন। জুডিশিয়ারির মধ্যে সর্বোচ্চ টায়ারে। আপনারা ঠিক করবেন। আপনারা একটা লোককে ফাঁসি দিতে পারেন আবার খালাসও দিতে পারেন। কেন আপনাদের ওপর সুপ্রিমকোর্ট থেকে আরোপ করে দিতে হবে। কেন বারবার বলব আপনারা মামলা নিষ্পত্তি করেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি অভিভাবক হিসেবে আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনাদের সুযোগ-সুাবিধা, মর্যাদা সবই আমি দেব। যত ধরনের প্রটেকশন দেয়ার সব ধরনের প্রটেকশন দেব। যেসব বিচারক সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় ডেপুটেশনে (প্রেষণে নির্বাহী বিভাগে যুক্ত) আছেন, তাদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা প্রথমে হলেন বিচারক। আপনারা আপনাদের মর্যাদা, সততা, নিরপেক্ষতা অবশ্যই বজায় রাখবেন। উচ্চ আদালত প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মামলার জট কমাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সুপ্রিমকোর্টের অবকাশ ছুটি অর্ধেক করতে বলেছি। ৮০ থেকে ৮৬ দিন ছুটি নিয়ে বিলাসিতা করতে পারি না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য একজন বিচারপতি ছাড়া কেউ আমাকে সমর্থন করেননি। নিজেরা ঠিক না হলে তো অধস্তনদের বলতে পারি না। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও ফাইট করে যাচ্ছি। প্র্রধান বিচারপতির ভাষণের আগে মামলার জট বৃদ্ধি, নিষ্পত্তির হার, বিচারকের সংখ্যা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার প্রবর্তন, মামলা ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ২৬ লাখ ৩১ হাজার ৫৭৬টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এ বছর মামলা নিষ্পত্তি হয় ১৩ লাখ ৪ হাজার ৫৪৪টি এবং দায়ের হয় ১৬ লাখ ৭ হাজার ২৫৫টি। এভাবে চলতে থাকলে এক বছর পর এ জট বেড়ে দাঁড়াবে ৪২ লাখে। জনসংখ্যার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা অনেক কম তুলে ধরে রেজিস্ট্রার বলেন, বিচার বিভাগে মামলার জট বৃদ্ধির একটি মৌলিক কারণ হচ্ছে এ দেশে বিচারকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close