পাবনা প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২০ মার্চ, ২০১৭ ১৯:১৮:০৮
অনার্সে অকৃতকার্যদের চাপে মাস্টার্স পরীক্ষা বন্ধ!
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে অকৃতকার্য গণিত বিভাগের সাত শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিভাগের ২০ শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় দফায় বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষা দেয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে ওইসব বিভাগে মাস্টার্স পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

এই দাবিতে ১৪ দিন আগে গণিত বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়।

তবে পাবিপ্রবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন পরীক্ষার জন্য নয়, ভিসি সম্পর্কে কটূ মন্তব্য করায় চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসন একটি ডিনস কমিটি গঠনসহ গণিত বিভাগের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

পাবিপ্রবির সূত্র জানায়, গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের বেশ কিছু শিক্ষার্থী অনার্সে অকৃতকার্য হলেও নিয়মানুযায়ী তারা মাস্টার্সে ভর্তি হন এবং তাদের জন্য একটি বিশেষ পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়।

কিন্তু ওই পরীক্ষায় গণিত বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ব্যাচের সাতজন ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের তিনজনসহ অন্যান্য বিভাগের মিলে মোট ২০ জন শিক্ষার্থী ফের অকৃতকার্য হন।

এ অবস্থায় তারা মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের যোগ্যতা হারান। অকৃতকার্য ওই শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দফায় আবারও একটি বিশেষ পরীক্ষার দাবি জানান। কিন্ত সংশ্লিষ্ট অনুষদগুলো ম্যানুয়ালে বিধান নেই বলে তাদেরকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিতে রাজি হয়নি।

এরই মধ্যে বিভিন্ন বিভাগে মাস্টার্স পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। গণিত বিভাগে মাস্টার্স পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয় গত ৮ মার্চ। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ওই পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। পরবর্তী পরীক্ষার তারিখও ঘোষণা করা হয়নি। এ নিয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মার্চ গণিত বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়।

গণিত বিভাগের মাস্টার্সের পরীক্ষার্থী শাকিল জানান, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে তাদের চার বছরের কোর্স ছয় বছরে পড়ছে। অনার্সে ফল দেরিতে প্রকাশ করা হয়েছে। কাজেই সহপাঠীদের মানবিক দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক।

পাবিপ্রবির ছাত্রলীগ সভাপতি শাহেদ সাদেকী শান্ত জানান, তালা লাগানোর সঙ্গে পরীক্ষার দাবি সংক্রান্ত বিষয়ে ছাত্রলীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

তবে ২০ শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় দফায় বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ দেয়াটা অত্যন্ত মানবিক বলে মনে করেন তিনি।

ছাত্রলীগ সভাপতি আরও জানান, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়ার বিষয়টি পরীক্ষার দাবিকে কেন্দ্র করে নয়। শিক্ষার্থীদের পুনরায় সুযোগ দেয়ার বিষয়ে ভিসির আশ্বাস রয়েছে- এমন কথা চেয়ারম্যানকে বললে তিনি ভিসির আশ্বাসকে তাচ্ছিল্য করেন। এজন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র চন্দ্র ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ তাকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত চলছে।

এদিকে অচলাবস্থা নিরসনে কর্তৃপক্ষ গণিতের সহযোগী অধ্যাপক ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে আহ্বায়ক করে একটি ডিনস কমিটি গঠন করেছেন। ইতিমধ্যে তারা রিপোর্ট জমাও দিয়েছেন।

রাজেন্দ্র চন্দ্র আরও জানান, ম্যানুয়ালে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় বিশেষ পরীক্ষার বিধান নেই। বিধান রয়েছে যে, অনার্সের ফল প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে অকৃতকার্যদের বিশেষ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। কাজেই বিষয়টি একটু জটিল।

এ প্রসঙ্গে গণিতের ছাত্র শাকিল বলেন, দাবির মুখে অষ্টম ব্যাচের একটি বিশেষ পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয় যা ম্যানুয়ালে নেই।

এদিকে একই অচলাবস্থার কারণে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এ বিভাগের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, ম্যানুয়ালে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ পরীক্ষা নেয়ার বিধান নেই। কাজেই বিষয়টি জটিল।

প্রসঙ্গত, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে নবম ব্যাচের ক্লাস শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by