কক্সবাজার প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২০ মার্চ, ২০১৭ ১৯:২৪:০৫
রোহিঙ্গা নির্যাতনে জড়িতদের আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচার দাবি
পৈচাশিকতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে মিয়ানমার সরকারের পাঠানো প্রতিনিধি দল বালুখালী ও টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।

শিডিউল অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে তারা বালুখালী নতুন বস্তিতে যান এবং তাদের নির্যাতনের কাহিনী শোনেন।

এসময় নির্যাতিত রোহিঙ্গারা তাদের পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্ব দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত নেয়াসহ ৬ দফা দাবী তুলে ধরেন। এতে রোহিঙ্গা নির্যাতনে জড়িতদের আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্টাইবুনালে বিচার দাবির বিষয়টিও স্থান পেয়েছে বলে জানান রোহিঙ্গা মাঝিরা।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তদন্ত দলের সদস্য সচিব জ্য মিন্ট পের নেতৃত্বে মিয়ানমার প্রতিনিধিদল বালুখালী টালে যান। অকস্মাৎ বর্ষণে বস্তির রোহিঙ্গাদের দূর্ভোগময় জীবন দর্শনের সুযোগ হয়েছে প্রতিনিধি দলের। বস্তিতে আশ্রয় নেয়া অন্তত শতাধিক নির্যাতিত নারী-পুরুষের পৃথক সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তদন্ত দল। সেখানে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে হাত-পা ভাঙা ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাগ রয়েছে এমন একাধিক নারী-পুরুষ ছিলেন।

সাক্ষাৎকার দেয়া রোহিঙ্গা আবদুর রহমান, লায়লা বেগম, আয়েশা বেগম, নুর আয়েশা বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ব্যাপক নির্যাতনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বালুখালী টালে অবস্থান নেয়া এক হাজার দশটি পরিবার কয়েকটি এনজিওর সামান্য সহযোগিতায় কোনো মতে দিনযাপন করছে। নাগরিক অধিকার নিয়ে বাঁচতে স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাবার কথা তাদের কাছে বলা হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে রাখাইন প্রদেশের মংডুসহ বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী ও রাখাইন যুবকদের হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়া, ঘরবাড়ি হারানো ও স্বজনদের খুন হওয়ার কথাও।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের পোয়াখালী গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান (রোহিঙ্গা ভাষায় উক্কাট্টা) আবুল ফয়েজ জানান, নির্যাতনের শিকার শতাধিক নারী-পুরুষের একটি তালিকা প্রতিনিধি দলকে দেয়া হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গারা তাদের পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্ব দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত নেয়াসহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। এতে রোহিঙ্গা নির্যাতনে জড়িতদের আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্টাইবুনালে বিচারের দাবির বিষয়টিও স্থান পেয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাক্ষাৎকার শুনে মিয়ানমার সামরিক জান্তারা নির্যাতন করেছে  বলে স্বীকার করেছে প্রতিনিধি দল।

বালুখালী টালের মাঝি খলিল বলেন,  হাতে কোনো কাজ নেই।  কীভাবে খাবার জুটবে জানি না।

স্বামীহারা নুর জাহান বলেন, স্বামী নেই, তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোনো রকম বেচেঁ থাকা।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টেকনাফের লেদার রোহিঙ্গারা বলেন, রাখানইন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে তদন্ত কমিশন। সেসব কথা শুনেছেনও। কিন্ত একবারও রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরে যাবে কি না জানতে চায়নি তারা। এছাড়াও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি রাখাইন যুবকদের হাতে নির্যাতনের কথাগুলো ভাল মতো গ্রাহ্য করতে চায়নি তদন্ত কমিশন।

মিয়ানমার সরকারের পাঠানো তদন্ত কমিশনের সদস্য সচিব, জ্য মিন প্য'র নেতৃত্বে আসা কমিশনের সদস্যরা হলেন- ড. অং থুন থে, থুন মিনথ, নায়েট সোয়ে, থেথে জিন, কায়েন নেগাই, নায়ন থুন, অ্যং মিনথ, মংছিং থোয়াই, মায়েন্ট ও শাদুল্লাহ শাহা। তাদের সঙ্গে ছিলেন- কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছাউ লাউ মারমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুদ্দিন মো. শিবলী, উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের, টেকনাফ মডেল থানার অপারেশন অফিসার মো. শফিউল আজমসহ আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওম)’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর
সারা দেশ বিভাগের অারও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by