বগুড়া ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ২২:০৪:৫৩
বিধবাকে দুবার বিয়ে ও তালাকের অভিযোগ মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে
বগুড়ার সান্তাহারে ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবাকে দুবার বিয়ে ও তালাক দেয়া এবং পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। এছাড়া তারা একে অপরকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন।

ওই বিধবার নাম নিলুফা বেগম। প্রথম স্বামীকে অকালে হারিয়ে আর দ্বিতীয় স্বামী টাকা হাতিয়ে নিয়ে তালাক দেয়ায় তিনি এখন হোটেলে ঝিয়ের কাজ করছেন।

এদিকে মাওলানা রফিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি উল্টো নিলুফাকে দায়ী করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহারের দৈনিক বাজার এলাকায় ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলাম স্ত্রী থাকার পরও গোপনে গত ২০১৩ সালে কলসা সোনাপাড়ার মৃত রোকনুজ্জামান পিন্টুর স্ত্রী নিলুফা বেগমকে বিয়ে করেন। কিন্তু তাকে বাড়িতে না নিয়ে অন্যত্র বসবাস করতে থাকেন। বাড়িতে নিতে বললে তিনি টালবাহানা করেন।

মাওলানা রফিকুল নতুন বাড়ি করে দেবার নামে নিলুফার কাছে আগের স্বামীর দেয়া ও বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি নতুন বাড়িতে বসবাস করলেও সেখানে নিলুফাকে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ শুরু হয়।

এ সুযোগে মওলানা রফিকুল ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিলুফাকে তালাক দেন। খবরটি জানাজানি হলে তিনি এলাকার সচেতন জনগণের রোষানলে পড়েন। এলাকাবাসীর চাপে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে ২০১৬ সালের জুনে নিলুফাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে বাধ্য হন।

এদিকে আবারো বিয়ের খবরে মাওলানা রফিকুলের আগের পরিবার ক্ষিপ্ত হন। ফলে তিন মাস পর আগস্টে নিলুফাকে দ্বিতীয় দফা তালাক দেন ওই মাদ্রাসা সুপার।

এছাড়া গত মার্চে নানা অজুহাতে নিলুফা ও তার প্রথমপক্ষের একমাত্র ছেলে আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বগুড়া আদালতে মামলা করেন মাওলানা রফিকুল।

এদিকে নিলুফা শুক্রবার সান্তাহার প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের সাহায্য কামনা করে বলেন, মাওলানা রফিকুল শুধু মামলা করে ক্ষান্ত হননি, উকিলের সহকারী ও অন্যদের দিয়ে ফোনে ছেলেকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

বাধ্য হয়ে গত ১২ এপ্রিল বগুড়ার তৃতীয় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাওলানা রফিকুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন বলেও জানান তিনি।

মামলার এজাহারে নিলুফা বেগম বলেন, রফিকুল তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া ছাড়াও বাড়িতে লোকজন এনে জিহাদ ও বিপ্লব বিষয়ে আলোচনা করতেন। এতে বাধা দিলে রফিকুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে তালাক দেন।

জনগণের চাপে দ্বিতীয়বার তিন লাখ টাকা দেন মোহরে বিয়ে করতে বাধ্য হন। এরপর তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে না পেয়ে দ্বিতীয়বার তালাক দেন। সবকিছু হারিয়ে নিলুফা এখন হোটেলে ঝিয়ের কাজ করছেন।

যোগাযোগ করা হলে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রফিকুল মোবাইল ফোনে জানান, তিনি স্বেচ্ছায় বিয়ে করেননি। নিলুফা ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করতে বাধ্য করেছিল। পরে তাকে জামায়াত ও জঙ্গিসঙ্গ ত্যাগ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে দ্বিতীয়বার তালাক দেন।

বাড়ি নির্মাণের নামে নিলুফার কাছে টাকা নেবার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, ছেলেকে দিয়ে হুমকি দেয়ায় নিরাপত্তা চেয়ে তিনি মামলা করেছেন।
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর
সারা দেশ বিভাগের অারও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by