•       ধর্ষণের অভিযোগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার ওসিসহ তিন পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও তাড়াইল প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:০৮:২৮ | অাপডেট: ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:২৩:০৪
তাড়াইলে ভেঙে গেল সব ফসলরক্ষা বাঁধ
পানির নিচে ১০ হাজার একর বোরো ফসল
পানির নিচ থেকে ডুবিয়ে ডুবিয়ে কাঁচাপাকা ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে কৃষক

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সব ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে।  বৃহস্পতি ও শুক্রবার দিন-রাতভর অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ছোট-বড় ৫২ টি ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়।
 
এতে উপজেলার জাওয়ার,সাচাইল,দামিহা,রাউতি,দিগদাইর ও ধলা ইউনিয়নের হাওরে নতুন করে অন্তত: ১০ হাজার একর বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।  কৃষকদের ঘরে ঘরে হাহাকার-আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে এলাকার পরিবেশ। 
 
শুক্রবার বিকালে তাড়াইল উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জাওয়ার ইউনিয়নের হুলিয়ারদাইর হাওর পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নানা অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন যুগান্তরের কাছে।
 
রমজান আলী নামে এক কৃষক আহ্জারির ভাষায় বলেন, " গত চৈত মাস থাইক্যা আমরা এলাকার শতশত কৃষক মিইল্ল্যা মাটি কাইট্যা, বালুর বস্তা, বাঁশ-চাটি আর গড়-বিচালি দিয়্যা সবচাইতে বড় এই বেরিবানটি (বেরিবাঁধ) টিহাইয়্যা (টিকিয়ে)রাখতে রাইত-দিন চেষ্টা করছিলাম। রাইত জাইগ্যা পাহাড়া বসাইছিলাম। ঝড়-তুফান আর ঘনঘন ঠাডা (বজ্রপাত) পড়ার কারণে বৃহস্পতিবার রাইতে পাহাড়া বসাইতে পারি নাই। আর এই রাইতের মইধ্যে পাহাইড়্যা ঢল আর বৃষ্টির পানিতে কষ্টের বানডা ভাইঙ্গা আমরার বন্দের সব ফসল পানির মইধ্যে তলাইয়্যা গেছে। আমরা অহন কী করাম - কই যাইয়্যাম ঝি-পুত, পরিবার লইয়্যা!
 
রমজানের আকুতি-আহাজারি শেষ হতে না হতে এগিয়ে এলেন শাহজাহান শরীফ নামে এক কৃষক। 
তিনি বললেন, " বান ভাইঙ্গা যাওয়ার কারণে আমার ৩২ একর বোনো ফলন পানিতে তলাইয়্যা গেছে। যেহ্যানে ২ হাজার থাইক্যা আড়াইহাজার মন ধান পাওয়ার কথা সেহানে আমি এক ছটাক ধানও ঘরে তুলতে পারলাম না। অহন আমি কী করাম, কেমনে বাচ্চা-কাচ্ছা নিয়া সংসার চালাইয়্যাম কিছুই বুজতাছি না।"
 
হুলিয়ারদাইর হাওর থেকে ফেরার পথে দেখা হয় সাচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মহাজনের সঙ্গে। তিনি টেনে নিয়ে গেলেন, তার নিজের ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের চিত্র দেখাতে। সেখানে তিনি ছোট-বড় ১১ টি বাঁধ ভেঙে প্রায় দুই হাজার একরেরও বেশি ফসল পানির নিচে চলে যাওয়ার ঘটনা দেখালেন। 
সাচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মহাজন বলেন, সরকার সাহায্যের হাত না বাড়ালে কৃষকরা এবার না খেয়ে মরবে।
 
এ ব্যাপারে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার জানান, গত দু'দিনে দুই তৃতীয়াংশ ফসলই ডুবে বিনষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমি ও কৃষকের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদের জন্য খয়রাতি সাহায্য, ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে।
  • সর্বশেষ খবর
সারা দেশ বিভাগের অারও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by