শরীয়তপুর প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ১৯ মে, ২০১৭ ২২:৩০:২৯
মায়ের পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় মেয়েকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নির্যাতন!
প্রতীকী ছবি
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় মা রুমি আক্তার রুমার পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় ১৩ বছরের মেয়ে ঐশীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে।

এ ঘটনায় মায়ের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে মেয়ে ঐশী।

বৃহস্পতিবার রুমাকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এদিকে রুমার ঘর থেকে এক জোড়া হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঐশী শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া পৌরসভার ঘোষপাড়া এলাকার ইতালি প্রবাসী সুমন কাজীর মেয়ে। সে বিহারী লাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন কাজী ৭-৮ বছর ধরে ইতালি রয়েছেন। তার স্ত্রী রুমি আক্তার রুমা মেয়ে ঐশী ও ছেলে রাহাতকে (৮) নিয়ে পৌরসভার বৈশাখী পাড়ার জুয়েল ছৈয়ালের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। স্বামীর অবর্তমানে ২০১১ সালে নড়িয়া থানার সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে রুমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মায়ের অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় ঐশীর ওপরে নির্যাতন চালানো হয়। ঐশীকে পুলিশের হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মাঝে-মধ্যেই নির্যাতন করতেন রুমা।

মঙ্গলবার ঐশী বিষয়টি তার বাবাকে জানাবে বললে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রুমা। একপর্যায়ে পায়ে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে ঐশীকে বটি দিয়ে কোপ দেয়। এতে ঐশীর বাম হাতের কনুই কেটে যায়। তার হাতে ১১টি সেলাই দেয়া হয়েছে।

ঐশীকে মঙ্গলবার হাসপাতালে নিয়ে গোপনে চিকিৎসা করানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐশী নড়িয়া থানায় মায়ের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রুমা ফের ঐশীর পায়ে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে নির্যাতন করতে থাকলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে রুমাকে আটক করে নড়িয়া থানায় নিয়ে যায়।

মেয়ে ঐশী বলে, মঙ্গলবার মা ফোনে কার সঙ্গে যেন কথা বলছিলেন। ফোনের মধ্যে ঝগড়াও হয়। ফোন রেখে মা আমাকে ও আমার ছোট ভাই রাহাতকে গালিগালাজ করে। পরে পায়ে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বলেন- 'তুই যদি এই ঘটনা কাউকে জানাস, তাহলে তোকে জানে মেরে ফেলব'।

মেয়ে আরও বলে, এই ঘটনা আব্বুকে জানানোর কথা বললে মা বটি দিয়ে আমার বাম হাতে কোপ দেয়। হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আমাকে বাসায় এনে আটকে রাখে।

ঐশী আরও বলে, বৃহস্পতিবার আমি হাতের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে আব্বুকে জানিয়ে দেয়ার কথা বলি। এরপর আমাকে পায়ে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ছোট ভাই রাহাতকে মেরে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে গেলে আশেপাশের লোকজন এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে।

নড়িয়া থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে মেয়েটিকে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রুমার বাসা থেকে এক জোড়া হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে রুমা ঢাকায় থাকাকালে একই কারণে ঐশীকে খুন্তি গরম করে পায়ে ছেঁকা দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর
সারা দেশ বিভাগের অারও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by