ঢাকা    |    
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর, ২০১৬ ২২:০০:১৯ | অাপডেট: ২২ নভেম্বর, ২০১৬ ২২:০০:৩৩
সোনালী আঁশের আধুনিক প্রত্যাবর্তন
সেই আশির দশকে, পাট যখন দেশের বৈদেশিক অর্জনের অন্যতম মাধ্যম, তখন আমরা পাাটকে বলতাম সোনালী আঁশ। দেশের বৃহৎশিল্পকারখানা বলতে আমরা জুট মিলগুলোকেই চিনতাম। ইতিমধ্যে সভ্যতা পাটের বিকল্প ব্যবহার আবিষ্কারে অনেকটাই এগিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এসেছে পলিথিন।

কেউ কেউ এই পলিথিন আধিক্যের নাম ও বলে ফেললেন পলিথিন সভ্যতা। ঝালমুড়ি, বাজার সদাই, সকল কাজে অবলীলায় সবাই আমাদের ফ্রি পলিথিনের জোয়ার বইয়ে দিতে শুরু করলো। কিন্তু ব্যবহারের একপর্যায়ে আমরা অনুভব করলাম পলিথিনের আধুনিক ব্যহারের নামে আমরা যে উন্নতিতে এগোচ্ছি সেটা আসলে প্রাণ ও প্রকৃতির জন্য এক দূষণীয় সন্ত্রাস।

হাজার হাজার বছর মাটির নীচে অক্ষত অবস্থায় মাটির সাথে না মিশে পড়ে থাকবে এ সকল পলিথিন। রাজধানী ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গা নদীতে ইতিমধ্যে ৮/৯ ফুট আস্তরণ জমেছে পলিথিনের। নদী মৃত্যুর দার প্রান্তে, গভীরতা কমে যাচ্ছে, পানিতে অসহনীয় দূষন। শুধু নদী নয়, একই অবস্থা আজ আমাদের উর্বর ভূমির।

চারদিকে যে সকল পলিথিন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেখানে কোনো উদ্ভিদ জন্মাতে পারছে না। এই বিপর্যয় কি শুধুই বাংলাদেশে? না। উন্নত বিশ্ব বহু আগেই প্রাণপ্রকৃতির হুমকিদাতা সামগ্রীকে আগেই চিহ্নিত করেছে। শুধু পলিথিন নয়, যাবতীয় রাসায়নিক ব্যবহার করে প্রকৃতির প্রদত্ত সামগ্রীর বিকল্প সন্ধানে না যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে সকলকে সচেতন করে তুলতে।

বিশ্ব এখন জীব ও বৈচিত্র্য বান্ধব এবং প্রাকৃতিক সামগ্রীর দিকে এগোচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, উন্নত বিশ্বের সামর্থবান মানুষের আগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে পাট ও পাট জাতীয় সামগ্রী। বর্তমান বিশ্বের এই অভিজাত বাজারের দখল নিতে এগিয়ে এসেছে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, চীন, ভিয়েতনাম সহ আরো অনেকেই। কিন্তু বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের উন্নত পাট এখনও সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছে।

যদিও দেশের অধিকাংশ জুটমিল আজ প্রায় জনমানব শূন্য, দেশের পাটের উত্পাদনের পরিমান ও যথেষ্ঠ কমেছে। তারপরও বাংলাদেশের পাট কাচামাল হিসেবে কিনে নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো সেগুলোর মাধ্যমে আধুনিক জীবন যাপনের সামগ্রী তৈরি করে বাজারজাত করছে।

এমনই এক সময়ে কেয়ার বাংলাদেশ দেশের ৪টি জেলার রংপুর, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষরিা, যশোর কৃৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও রাজধানীর ডিজাইনারদের সমন্বয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই প্রকৃতিক সম্পদটির পূনরুজ্জীবনের সহায়ক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। পাটের দিকে প্রত্যাবর্তন বা 'সুইচ টু জুট' নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যে দেশের ও আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে বাংলার হারানো ঐতিহ্যকে।

এ ধারাবাহিকতায়, রাজধানীর শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরে বালাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৭ জন ক্ষুদ্র ও ১০ জন মাঝারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পাট ও পাটজাতীয় আধুনিক জীবন যাপনের জন্য উপযোগী সামগ্রী নিয়ে একটি প্রদর্শনী শুরু হয়েছে গত ২১ নভেম্বর থেকে। আধুনিক বিশ্বের প্রাকৃতিক সামগ্রীর ব্যাবহার প্রবণতার সাথে সঙ্গতি রেখে এসকল সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে মেয়েদের হ্যান্ডব্যাগ, স্কুলব্যাগ, ট্রাভেল ব্যাগ, কার্ড হোল্ডার, মানিব্যাগ, টিফিন ব্যাগ থেকে শুরু করে পায়ের জন্য টেকসই জুতা স্যান্ডেল পর্যন্ত।

'পাটপণ্য ব্যবহার করি, পরিবেশ রক্ষায় কাজ করি' স্লোগানে দেশের জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাটপণ্য নিয়ে আয়োজিত এই মেলার উদ্বোধন করেন, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন। কেয়ার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে  এই আয়োজনের টীম লিডার, শেখর ভট্টাচার্য বলেন, পাট দিয়ে যে আধুনিক জীবন যাপনের জন্য এত অভিনব সামগ্রী তৈরি হতে পারে সেটা মানুষ বিষ্ময় নিয়ে দেখছে। প্রচুর মানুষ আছে। স্বয়ং সাংস্কৃতিক মন্ত্রী মহোদয় পরিবেশ বান্ধব বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী ফসল নিয়ে কাজ করায় কেয়ার বাংলাদেশকে উত্সাহ প্রদান করেছেন, যেনো দেশের এই হারানো ঐতিহ্যকে উজ্জীবিত করতে তাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখে। উল্লেখ্য প্রদর্শনীটি শেষ হচ্ছে আজ ২৩ নভেম্বর রাত টায়। প্রদর্শনী সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মূক্ত।
   
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by