•       ধর্ষণের অভিযোগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার ওসিসহ তিন পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
সাংস্কৃতিক রিপোর্টার    |    
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ১৯:৪৮:৪৫ | অাপডেট: ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:৪০:২৭
সুরের বরপুত্র লাকী আখন্দ আর নেই
ফাইল ফটো
তাকে সবাই জানত সুরের বরপুত্র নামে। গানে গানে গেয়েছিলেন ‘আমায় ডেকো না, ফেরানো যাবে না/ফেরারি পাখিরা কুলায় ফেরে না-’। ফেরারি পাখি হয়েই লাকী আখন্দ পাড়ি জমালেন না ফেরার ভুবনে।

নিজের বাসাতেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা গানের কিংবদন্তি লাকী আখন্দ। তার মেয়ে মাম্মিন্তি আখন্দ নূর এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘বাবা সন্ধ্যায় মারা গেছেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

’ তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোক জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামন নূরও।

ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে লাকী আখন্দ ভর্তি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনারি কেয়ার ইউনিটে।

পরে ৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) ছেড়ে আরমানিটোলায় নিজ বাসায় ফেরেন তিনি।

এর আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে পেটের পীড়া নিয়ে মেডিকেল চেকআপ করাতে গেলে তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। তখন বিএসএমএমইউর চিকিৎসকরা তাকে জানান, তিনি ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।

এরপর শিল্পীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় থাইল্যান্ডে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার জন্য তখন পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন।

থাইল্যান্ড থেকে ফিরে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতাল ও বারডেমে চিকিৎসা নেন। পরে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয় তাকে।

লাকী আখন্দের জš§ ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন। শৈশব পেরোতেই তিনি সুযোগ পেয়ে যান রেকর্ড লেভেল প্রতিষ্ঠান এইচএমভিতে। তারপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। ছন্দ-লয়ের টানে তিনি ভেসে চললেন সুরদরিয়ায়। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জি-সিরিজের এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘লাকী আখন্দ হলেন সুরের বরপুত্র’। সে অনুষ্ঠানে তাকে আজীবন সম্মাননা জানানো হয়।

লাকী আখন্দ ছিলেন একাধারে সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার এবং গীতিকার। ১৯৮৪ সালে সারগামের ব্যানারে বের হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘লাকী আখন্দ’। ওই অ্যালবামের বেশ কয়েকটি গান ব্যাপক সাড়া ফেলে।

ছোট ভাই হ্যাপি আখন্দকে নিয়ে সৃষ্টি করেন বিখ্যাত গান ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’। লাকী আখন্দের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘এই নীল মনিহার’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, ‘মামনিয়া, ‘বিতৃষ্ণা জীবনে আমার’, ‘কি করে বললে তুমি’ ‘লিখতে পারি না কোনো গান, ‘ভালোবেসে চলে যেও না’ প্রভৃতি।

১৯৮৭ সালে ছোট ভাই হ্যাপি আখন্দের মৃত্যুর পরপর সঙ্গীতাঙ্গন থেকে অনেকটা স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান এই গুণী শিল্পী।

মাঝখানে প্রায় এক দশক নীরব থেকে লাকী আখন্দ ১৯৯৮-এ ‘পরিচয় কবে হবে’ ও ‘বিতৃষ্ণা জীবনে আমার’ অ্যালবাম দুটি নিয়ে আবারও ফিরে আসেন শ্রোতাদের মাঝে।

কুমার বিশ্বজিতের কণ্ঠে ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, আইয়ুব বাচ্চুর ‘কি করে বললে তুমি’, হাসানের ‘হƒদয়ের দুর্দিনে যাচ্ছে খরা’র মতো কালজয়ী গানের সুরারোপ করেন তিনি।

‘লিখতে পারি না কোনো গান আজ তুমি ছাড়া’ ব্যান্ডতারকা জেমসের এই বিখ্যাত গানটির সুরসংযোজনা ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন লাকী আখন্দ।
 
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by