প্রিন্ট সংস্করণ    |    
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০৫:৩৩:০৯
রাস্তায় আবারও ‘সিটিং সার্ভিস’ : ভাড়া নৈরাজ্য
সিটিং বাস সার্ভিসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) অভিযান বন্ধের ঘোষণার পর রাস্তায় নেমেছে প্রচুর সংখ্যক বাস ও মিনিবাস।

রাজধানীর সড়কগুলোতে আগের মতোই চলাচল করতে দেখা গেছে সেই ‘সিটিং’, ‘স্পেশাল’ ও ‘গেটলক’ সার্ভিস। আদায় করেছে বাড়তি ভাড়া। গাড়ি থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাও।

এ নিয়ে বাসের ভেতর যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের ঝগড়াও হয়। বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দেখা গেছে এসব চিত্র। অথচ একদিন আগে বুধবার সিটিং সার্ভিস বন্ধ ও মোবাইল কোর্টের অভিযানের কারণে নগরীতে বাস ও মিনিবাসের ভয়াবহ সংকট ছিল। চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছিলেন যাত্রীরা।

সরেজমিন আরও দেখা গেছে, নতুন-পুরনো এমনকি লক্কড়-ঝক্কড় বাস-মিনিবাসে দিব্যি যাত্রী পরিবহন চলছে। গাড়ির চাপ বেশি থাকায় রাস্তায় যানজটের তীব্রতা বেশি ছিল এদিন। আর যে যেভাবে পারছে ভাড়া নিচ্ছে। একই রুটে একেক বাসে একেক ধরনের ভাড়া আদায় করতে দেখা গেছে।

বিকল্প সিটি সার্ভিসের বাসে মিরপুরের কাজীপাড়া থেকে ফার্মগেট আসা যাত্রী মো. আরমান শেখ বলেন, সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে অভিযান চলাবস্থায় বিকল্প পরিবহনের বাসে ভাড়ার তালিকা ছিল।

বৃহস্পতিবার ওই তালিকা দেখলাম না। আগের মতোই সিটিং সার্ভিসের ভাড়া ১৫ টাকা নিয়েছে। কাজীপাড়া থেকে ফার্মগেট ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটার। সরকারি হিসাবে ভাড়া হওয়ার কথা ৯ টাকা। তিনি বলেন, অভিযানের আগে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেয়া হতো। আজ হাফ পাস বলতে কিছু নেই বলে জানিয়েছে তারা। আরমান প্রশ্ন করেন, এ অভিযানের ফলে যাত্রীদের কী সুবিধা হল, কার স্বার্থে এ অভিযান ছিল?
সিটিং সার্ভিসের বিড়ম্বনায় পড়েন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন। তিনি বলেন, কুড়িল যাওয়ার উদ্দেশ্যে মালিবাগ মোড়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়েও বাসে উঠতে পারিনি। ওই সময়ে যেসব বাস ওই রুটে চলাচল করেছে, সেগুলোর দরজা বন্ধ (সিটিং) ছিল। পরে সুপ্রভাত ‘স্পেশাল সার্ভিস’র একটি বাসে যাত্রী নামার সুযোগে ওই গাড়িতে উঠেছি। আহমদ হোসেন নামের আরেক যাত্রী জানান, এভারেস্ট পরিবহনের বাসে মিরপুর থেকে শাহবাগ ২৫ টাকা ভাড়া নিয়েছে। ওই বাসেই যারা গুলিস্তান পর্যন্ত গেছে, তাদের জন্যও একই ভাড়া নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
যাত্রীরা জানান, যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত বিআরটিএ’র নির্ধারিত ভাড়া ৭ টাকা হলেও ট্রান্সসিলভা বাসে ১০ টাকা আদায় করা হয়। তবে শিকড় পরিবহন নিয়েছে ৭ টাকা। মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিলগামী দীপন বাস সার্ভিস আবার সিটিং সার্ভিস চালু করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আগে হাফ ভাড়া ছিল এ বাসে। এখন সেই সুযোগও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সর্বনিন্ম ভাড়া নেয়া হচ্ছে আগের মতো ১০ টাকা। কোনো কোনো গাড়ি সর্বনিন্ম ভাড়া আগের মতোই ২৫, ৩০ বা ৫০ টাকা নিয়েছে। ভিআইপি পরিবহনের সিটিং সার্ভিসে কলাবাগান থেকে মহাখালী আসা এক যাত্রী জানান, এইটুকু পথের ভাড়াও নিয়েছে ৫০ টাকা। অথচ দূরত্ব ৭-৮ কিলোমিটারও হবে না। কালশী থেকে কুড়িল আসা মামুনুর রশীদ বলেন, জাবালে নূর পরিবহনে এটুকু (৫ কিলোমিটার) পথেই ২৫ টাকা নিয়েছে। রাজধানীতে ১৬ এপ্রিল থেকে গণপরিবহনে সিটিং, গেটলক ও স্পেশাল বাস সার্ভিস বন্ধ করা হয়। বিষয়টি তদারকি করতে বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এতে বাস চলাচল কমে গেলে বুধবার ১৫ দিনের জন্য ওই অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেয় বিআরটিএ। একই সঙ্গে আগের মতো সিটিং সার্ভিস চলতে পারবে বলেও জানায় সংস্থাটি।
 
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by