•       ফরিদপুরের সালথায় দুই ইউপি চেয়ারম্যান সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ১
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল, ২০১৬ ০৯:৪৫:১২
আমাদের সময় সাহিত্য আড্ডা ছিল হিংস্রতা ছিল না: আল মাহমুদ
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ। তিনি শুধু একজন কবিই নন, একই সঙ্গে ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্প লেখক। দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকতায়ও যুক্ত ছিলেন। ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই আল মাহমুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সংবাদপত্রে লেখালেখির সূত্র ধরে কবি ঢাকা আসেন ১৯৫৪ সালে। কাব্যগ্রন্থ ‘লোক লোকান্তর’ (১৯৬৩) সর্বপ্রথম তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে জায়গা করে দেয়। এরপর কালের কলস (১৯৬৬), সোনালি কাবিন (১৯৬৬), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৬৯) কাব্যগ্রন্থগুলো তাকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখার দিকে মনোযোগী হন। ১৯৭৫ সালে তার প্রথম ছোট গল্পগ্রন্থ ‘পানকৌড়ির রক্ত’ প্রকাশিত হয়। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস ‘কবি ও কোলাহল’। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে তিনি দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। কবির সাহিত্য এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয়ে আলাপচারিতা হয় সৈয়দ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে।

সেই সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ পত্রস্থ হল। বি.স.

সৈয়দ সাইফুল ইসলাম : কেমন আছেন, এখন কীভাবে সময় কাটে?

আল মাহমুদ : আল্লাহ ভালো রেখেছেন। লিখছি, টুকিটাকি লিখছি। তবে সবই স্মৃতি থেকেই লিখছি। আমাদের সময়ের সাহিত্যের আন্দোলনগুলো কেমন ছিল, এখন কেমন, এর একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছি। তবে খুব কম, আগের মতো লিখতে পারি না, মাঝে মধ্যে লেখার চেষ্টা করছি।

আপনাদের সময় আর এখনকার সময়ের মধ্যে সাহিত্যে কী ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

: আমাদের সময়ের সাহিত্যের দিকগুলো বিবেচনা করলে দেখা যাবে- পড়াশুনাই গুরুত্ব পেয়েছিল বেশি। এখন তো নানারকম প্রযুক্তি এসে চারদিকে জমা হয়েছে। এখনকার লেখকরা এ সব প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে লিখছেন। হয়ত ভালোই হচ্ছে।

বিভিন্ন সময়ে দেশে অনেক কঠিন পরিস্থিতি দেখা দেয়, কিন্তু ৯০ দশকের পর দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো সাহিত্য আন্দোলন হয়নি, কিন্তু কেন?

: এটা ঠিক না। সাহিত্য রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়। সাহিত্য সমাজের অসঙ্গতিগুলো দূর করতে এগিয়ে আসে। শুধু রাজনীতি নয়, সবকিছুর উপরই সাহিত্যের প্রভাব রয়েছে। তবে সে (সাহিত্য) ইচ্ছা করলেই সমাজের সবকিছুর উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। আমার মনে হয় যে, এখনও সাহিত্য সমাজের সবকিছুর উপর প্রভাব বিস্তার করেই আছে। তবে সাহিত্য সামাজিক নানা সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে পছন্দ করে। বিরোধ থেকে নিজেকে দূরে রাখে। সমাজ ও জনসাধারণের মধ্যে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করে। সাহিত্য সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে। আগের চেয়ে এ কাজ কম করলেও একেবারে ছেড়ে দেয়নি।

আমাদের শিল্প-সাহিত্য বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসনের শিকার, এ থেকে উদ্ধারের উপায় কী?

: ভিন দেশী শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রায়ই আমাদের কবিতা এবং সাহিত্যে প্রভাব বিস্তার করে থাকে এটা ঠিক। কিন্তু এর স্থায়িত্ব নেই। কারণ, বিদেশীদের প্রভাব বিভিন্ন প্রয়োজনে ঘটে থাকে। কিন্তু আস্তে আস্তে সাহিত্য তা (বিদেশী ছোঁয়া) পরিত্যাগ করে।

এবার একুশে বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা বাড়লেও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী?

: এ বিষয়টি আমি তেমনভাবে ভেবে দেখিনি। তবে মানসম্মত বই লেখার জন্য যে প্রতিভা দরকার তার ঘাটতি ছিল।

ভালো বই লিখতে হলে কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

: ভালো বই লিখতে হলে তো লেখককে পড়াশোনা করতে হবে। দেশের সেরা লেখকদের বইয়ের পাশাপাশি বিদেশী লেখকদের বইও পড়তে হবে। আন্তর্জাতিক সংগ্রহশালা থেকে সাহিত্য সংগ্রহ করে তা পড়তে হবে ।

আপনাদের সময়ের সাহিত্য আড্ডার ধরন কেমন ছিল?

: সেই সময় সাহিত্য আড্ডা ছিল, তবে কোনো হিংস্রতা ছিল না। কর্মের স্বীকৃতি ছিল। প্রকৃত লেখকদের মূল্যায়ন করা হতো।

নতুন লেখকদের জন্য আপনার পরামর্শ।

: একজন লেখকের এক নম্বর কাজ হল পড়াশোনা করা। নিজেকে এ কাজে দৃঢ়ভাবে নিয়োজিত করা। সমাজের নানা অসঙ্গতির কারণগুলো নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতে হবে। আর এ সব নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতিগুলো দূর করতে সাহিত্যিকভাবে চেষ্টা করা।

নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন।

: আমার দীর্ঘ জীবনে অনেক স্মৃতি রয়েছে। এ সব স্মৃতি দেশী-বিদেশী সাহিত্যিক ও গোষ্ঠীর সঙ্গে। এখনও আমি লিখছি। নিজেকে নিয়ে লিখছি। এখনও বিভিন্ন ভাষাভাষীর লেখকদের সঙ্গে প্রীতির সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছি।

এতক্ষণ আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

: আপনাকেও ধন্যবাদ।
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by