•       প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে 'মোরা', চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ কয়েকটি উপকূলীয় জেলায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত; সেন্টমার্টিন-টেকনাফে বইছে ঝড়ো হাওয়া
ঘুরে এসে লিখেছেন- মো. জাভেদ হাকিম    |    
প্রকাশ : ০৭ মার্চ, ২০১৭ ০৮:৪১:৩৭
নয়নাভিরাম ধাঁধার চর

ঐতিহ্যবাহী ভ্রমণ সংগঠন দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ’র ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ‘দেশ চেনা’ আয়োজনের সঙ্গী হয়ে গিয়েছিলাম ঢাকার পাশেই ধাঁধার চর। সাত সকালে বের হয়ে যানজট ঠেলতে ঠেলতে, মাঝে জুমা নামাজের বিরতি দিয়ে পৌঁছাই গিয়ে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে। 
 
স্থানীয় এক টুর্নামেন্টের খানাপিনার আয়োজনে আচমকা ভাগ বসিয়ে-উদর পূর্তি করি বেশ আয়েশ করে। আগে থেকেই সোহেলের বদৌলতে ঘাটে নৌকা ছিল রেডি, আর দেরি না করে নাও ভাসাই শীতলক্ষ্যার জলে, দে-ছুট ছুটছে রানীগঞ্জের ধাঁধার চরের পানে, নদীর দু-কূলের বিজতলার সবুজ আর নানা বর্ণ ধারণ করা সবজি ক্ষেতের আবহ তৈরি করেছিল এক ভিন্ন জগৎ।
 
হরেক ঋতুতে প্রকৃতির নানা রূপ- এ যে ‘দেশ চেনা’ আয়োজনেরই বিশেষ অংশ, অল্প সময়ের মধ্যেই কালো রঙের পান কৌড়ি আর সাদা বকের বিচক্ষণ চাহনির ছুটে চলা ভঙ্গি, সঙ্গী করে নাও ভিড়ায় মাঝি ধাঁধার চর ঘাটে। তীর হতে অল্প একটু হাঁটতেই চোখ গিয়ে উঠে কপালে ওয়াও! ঔসম! চর বলে কেন এটাকে অবমূল্যায়ন করা হয় মাথায় খেলে না আমার! ধাঁধার চর যেন সবুজের মাঝে একখণ্ড দ্বীপ। শীতলক্ষ্যার বুকে অপার সম্ভাবনা নিয়ে জেগে উঠা প্রকৃতির এক অপরূপ নিদর্শন। 
 
শস্য ও ফলজ বাগানে ভরপুর। লম্বাকৃতির ধাঁধার চরের একপাশ থেকে আরেক পাশ, হেঁটে বেড়ানোর মজাই আলাদা। পেয়ারা, কলা বাগানের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে, যেন হারিয়ে যাচ্ছি অজানাতে, লতা গুল্ম আর আকাশ ছোঁয়া গাছের ছায়ায় মনেই হবে না যে আপনি আছেন ব্যস্ত নগরী ঢাকার পাশেই কোলাহলের জেলা গাজীপুরের মাঝে।
 
সত্যিই ধাঁধার চর যেন সৌন্দর্যের গোলক ধাঁধা। স্থানীয়রা অনেকে এটাকে মাঝের চর নামেও ডাকে। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে খুব শিগগিরই ধাঁধার চর হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম ঘুরে বেড়ানোর প্রাণকেন্দ্র। মানুষজনের আচার-আচরণও বেশ পর্যটনবান্ধব। 
 
সহযোগিতা করার জন্য তারা যেন মুখিয়ে থাকে। ইচ্ছা হলে গাছ থেকে নিজ হাতে পেড়ে খাবেন ফল, বাধা নেই কোনো। এক সময় মনে হবে-নিজের বাগানেই যেন আপনি ঘুরে বেড়ান। চরে বসে গাছের ফাঁক গলে লাল টুকটুকে সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য আপনাকে নিশ্চিত ধাঁধার চরে ফিরে নিতে চাইবে বার বার। গোধূলি লগ্নে নৌকা ভাসল- গন্তব্য এবার তারাগঞ্জ। সঙ্গীদের উচ্ছ্বাসে-নদীর পানিতে যেন তরঙ্গ খেলে। গাজীপুর জেলায় বহমান শীতলক্ষ্যা নদীর পানি বেশ পরিষ্কার। 
 
এ পাশটায় পানি যেন গাঢ় নীল। আনমনেই গেয়ে উঠবেন- ও নীল নয়না ... আমার কথা কি তোমার মনে পড়ে না। সত্যিই নদী দূষণের এই দুঃসময়েও এখানকার পানি নীলাভ স্বচ্ছ।
 
নীড়ে ফেরা পাখি আর দলবেঁধে পানিতে ভেসে বেড়ানো পাতিহাঁসের পিছু পিছু ছুটে-আধা ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন তারাগঞ্জ গ্রামে। সাজানো-গুছানো, প্রকৃতির মাঝে গড়ে উঠা তারাগঞ্জ গ্রাম। সেই গ্রামেরই সহজ-সরল ছেলে মুরাদ রানা-ঢাকা থেকে ঘুরতে এসেছি জেনে বেজায় খুশি, নিয়ে গেলেন তাদের বাড়ি-পান করালেন গাছ থেকে পেড়ে কচি ডাবের পানি। সত্যিই অবাক করা বিষয়! 
 
পথিকের জন্য তাদের এত ভালোবাসা? নদীর কূলে তারাগঞ্জ গ্রাম। চারপাশে সবজি ক্ষেত, ভেসালে মাছ ধরার দৃশ্য-খোলা প্রান্তর-সব মিলিয়ে বসন্তের মৃদু হাওয়ায় জোছনা রাতে ক্যাম্পি করার মতো অসাধারণ এক মায়াবী পরিবেশ।
 
সন্ধ্যা ৭টা, এবার বিদায় পালা, অর্ধ চন্দ্রের মায়াবী আলো আর ওই দূর আকাশে মিটিমিটি করে জ্বলে থাকা তারা বাতি- সঙ্গী করে ফেরার পথ ধরি।
 
যোগাযোগ- ঢাকার মহাখালী হতে ভাওয়াল পরিবহনে কাপাসিয়ার রানীগঞ্জ বাজার। ভাড়া ১২০ টাকা। এছাড়া গুলিস্তান থেকে প্রভাতি বনশ্রীতে কাপাসিয়া বাজার, সেখান থেকে সিএনজি বা অটোতে রানীগঞ্জ বাজার। খেয়াঘাট থেকে ইঞ্চিন নৌকায় ধাঁধার চর ও তারাগঞ্জ সারা দিনের জন্য নৌকা ভাড়া নেবে ১৫০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা। দিনে দিনে ঘুরে আসা সম্ভব তবে দূর জেলাগুলো হতে যারা আসতে চাইবেন, তারা গাজীপুর জেলা সদরে রাত যাপন করতে পারবেন। সেখানকার আবাসিক হোটেলগুলোতে আগে থেকে বুকিং দেয়ার প্রয়োজন নেই।
 
কোথায় খাবেন- রানীগঞ্জ বাজারে মোটামুটি মানের খাবারের রেস্টুরেন্ট রয়েছে আর যদি সারা দিনের জন্য নৌ-ভ্রমণ আর ধাঁধার চরে কাটাতে চান তাহলে প্যাকেটে খাবার সঙ্গে নিন।
 
আরও কি কি দেখবেন- বাঘের বাজারে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, ভাওয়াল রাজবাড়ী, জাতীয় উদ্যানসহ আরও অনেক কিছু।
 
টিপস
 
সঙ্গে করে নেয়া অপচনশীল দ্রব্য/মোড়ক যত্রতত্র না ফেলে, ব্যবহারের পর আবার প্যাকেট করেই নিয়ে আসুন।
 
ঘুরে বেড়ানোর সময় খেয়াল রাখবেন সবজি ক্ষেত, ফলের গাছের যেন কোনো ক্ষতি না হয়।
 
ধাঁধার চরে এখনও সেভাবে পর্যটকদের পদচারণা নেই সুতরাং ভালো হবে যদি স্থানীয় কাউকে সঙ্গে রাখেন তবে ঘুরে বেড়ানোর যথেষ্ট নিরাপদ।

  • সর্বশেষ খবর
ভ্রমণ বিভাগের অারও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by