ড. এম আফজাল হোসেন    |    
প্রকাশ : ১৭ মার্চ, ২০১৭ ০৪:১৬:২২
চির অম্লান বঙ্গবন্ধু
আজ থেকে প্রায় ৯৭ বছর আগে নিভৃত পল্লীর ছায়াঢাকা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাক্ষেত্র টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সোনালী সন্ধ্যায় শেখ পরিবারের প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠেছিল একটি শিশুর জন্ম উপলক্ষে।

জন্মলগ্নে মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজন খুশি হয়ে শিশুটিকে ‘খোকা’ বলে ডাকতেন, পরবর্তী সময়ে সেই খোকা হয়ে উঠলেন একজন জননন্দিত ও অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির কাছে বঙ্গবন্ধু এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। জাতির কাছে তিনি পিতা, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা।

বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের সাফল্য ও গৌরবান্বিত অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার নেপথ্যে ছিল একটি প্রাণ, একটি শক্তি, একটি অভুত্থান, একটি আন্দোলন ও একটি বিপ্লব। বাঙালি জাতির এই স্বাধীনতা শক্তির নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন।

তাই জাতি তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির মর্যাদায়। শেখ মুজিব মানেই বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মানেই শেখ মুজিব। তিনি আমাদের চেতনা। তিনি সব বাঙালির অনুপ্রেরণা। তিনি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আবহমান বাংলার প্রাণপ্রবাহ। বাঙালি জাতির গৌরব ও গর্বের মানস নায়ক বঙ্গবন্ধুর আজ ৯৮তম জন্মদিন। এই দিনে আমি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়, এসব কিছুর পেছনে রয়েছে এক সুদীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়ায় একটি জাতির আত্মবিকাশের গৌরবোজ্জ্বল কাহিনী। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ৬ দফার আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদকে পূর্ণতা এনে দেয়।

একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষিত নির্দেশনা ও আহ্বান এবং ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী মহান মুক্তিযুদ্ধে যে যেভাবে পেরেছে, যার যা কিছু ছিল তাই নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। দেশ স্বাধীন করার এমন জনযুদ্ধের দৃষ্টান্ত বিশ্ব ইতিহাসে খুব কমই পাওয়া যায়। সর্বস্তরের, সব পেশার ও সব ধর্মের মানুষের সম্পৃক্ততায় সুদীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি আমাদের স্বপ্নের স্বাধীনতা। বাঙালির এই মুক্তি সংগ্রামের মহানায়ক আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তির পর নয়াদিল্লি হয়ে ঢাকায় আসেন এবং ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন। নিপীড়িত, নির্যাতিত, মুক্তিকামী, সংগ্রামী জনগণের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববাসী বরণ করেছিল। তিনি অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে উন্নয়নের স্রোতে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

দেশকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু একের পর এক প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তার চিন্তা-চেতনা, প্রজ্ঞা, কর্ম ও দর্শন ছিল বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি উন্নত সুখী-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা হিসেবে বিশ্বের বুকে মর্যাদা ও সম্মানের আসনে দাঁড় করানো। বিশ্ববাসী যে মানুষটিকে ক্যারিশমেটিক লিডার ভাবত, বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্য মঙ্গল দূত ভাবত, সেই দুর্লভ চরিত্রের মানুষটিকে কিছু অকৃতজ্ঞ, স্বাধীনতাবিরোধী ও ক্ষমতালিপ্সু লোক দেশের উন্নয়নের শুভ সূচনাতেই হত্যা করে গোটা বাঙালি জাতিকে কলুষিত করেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী দেশী-বিদেশী চক্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তানের সামরিক আমলাতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারাকে এ দেশে প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্র ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার পটভূমি।

সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ধারায় বাঙালিকে বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুত করার অন্যতম পদক্ষেপ ছিল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর বিশ্বের অনেক পর্যবেক্ষক দেশটি অস্তিত্ব ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে টিকে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এমন সব ধরনের সংশয় ও মন্তব্য এবং ষড়যন্ত্রের সব বেড়াজাল মিথ্যা প্রমাণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর বেঁচে যাওয়া সুযোগ্য কন্যা ইস্পাত দৃঢ় সাহসী, সুকৌশলী, দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়ক বর্তমান প্রধানমন্ত্র্রী শেখ হাসিনা।

তিনি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করেছেন এবং অনেকের ফাঁসির রায় কার্যকর করেছেন। অনেকাংশে বাংলাদেশকে কলংকমুক্ত করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে দায়িত্বরত সবাইকে সৎ ও নিষ্ঠাবান হতে হবে।

আগামী প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর চেতনায় গড়ে তুলতে পারলে সত্যিকার অর্থে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত, স্বনির্ভর, অসাম্প্রদায়িক, আধুনিক বাংলাদেশ উপহার দেয়া সম্ভব।

প্রফেসর ড. এম আফজাল হোসেন : উপাচার্য, পুন্ড্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; সাবেক উপাচার্য, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

mafyalbau@gmail.com
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর
পাঠকের মতামত বিভাগের অারও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by