রীতা ভৌমিক    |    
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ২৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০৫:৪০:৪০
নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পেশাজীবী নারীরা
নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে বন্ধে কাজ করছেন বিভিন্ন পেশার নারী শ্রমিকরা। বিভিন্ন পেশার চার নারী শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন-
কাজ বেশি করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে : তাসলিমা আক্তার

ঢাকার মোহাম্মদপুর বেরিবাঁধে ভাঙ্গা মসজিদে ২ নম্বর রোডে থাকেন তাসলিমা আক্তার। খুব ভোরে উঠে উনুনে ভাত চড়াতে হয় তাকে। ১২ ভাড়াটিয়ার জন্য মাত্র ছয়টি উনুন। এক উনুনে দুই পরিবারের রান্না সারতে হয়। এরপর বাথরুমে লম্বা লাইন। এতজন মানুষের মাত্র দুটো বাথরুম। সকালে রান্না করে দুই ছেলে, স্বামীর জন্য খাবার বেড়ে নিজে খেয়ে বাস অথবা অটো রিকশা ধরেন। এভাবেই প্রতিদিন

মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যানের একটি গার্মেন্টসে সকাল আটটায় কাজ করতে আসেন তাসলিমা আক্তার। তার স্বামী ট্রাকে মাটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আনা-নেয়ার কাজ করতেন। এখন তেমন কাজ না থাকায় বাসায়ই থাকেন। দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে পিএসসি পরীক্ষা দিবে, ছোটটা শিশু শ্রেণীতে পড়ে।

সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ডিউটি থাকলেও কাজের চাপ বেশি থাকলে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ওভারটাইম করতে হয় তাকে। এ প্রসঙ্গে তাসলিমা আক্তার বলেন, শার্টের কলার সেলাই দিয়ে জয়েন্ট করি। অসুস্থতার কারণে, মেশিনে সমস্যা দেখা দিলে, একনাগাড়ে কাজ করার কারণেও কখনও কখনও ওদের টার্গেট ১০০ থেকে ১৫০ পিস সেলাই করা হয়ে ওঠে না। প্রোডাকশন কখনও কম হলে সুপারভাইজার ভয় দেখায় চাকরি ছাড়িয়ে দেয়ার। এছাড়া ডেলিভারি দেয়ার সময়ও ওরা কাজ বেশি করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। ওখানে বসে খাওয়ার জায়গা নেই। কাজের চাপ থাকলে খাবারটা সঙ্গেই নিয়ে যাই। কোনোরকমে খেয়ে বেঁচে থাকা আর কি! ওভারটাইম রাত ৮টার পর ১০টা পর্যন্ত করলে একটা পুরি, সিঙ্গারা নইলে কলা খেতে দেয়। এ দিয়ে কি আর ক্ষুধা মিটে। পেটে ক্ষুধা নিয়েই কাজ করি। বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত সাড়ে ১০টা- পৌনে ১১টা বেজে যায়। রাতে বাস, অটোরিকশা না পেলে দল বেঁধে হেঁটে বাড়ি ফিরি। বাড়ি ফিরে আবার ঘরকন্নার কাজও করতে হয়। এত কষ্টের পর বেতন নিয়মিত নয়। কাউকে বকেয়া রাখে আবার কাউকে বকেয়া রাখে না। অনিয়মিত গার্মেন্টস কর্মীদের ক্ষেত্রে এটি করে।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের কাজের সঙ্গে কিভাবে যুক্ত হলেন, এ প্রসঙ্গে তাসলিমা জানান, ‘সখী প্রকল্পে’র কর্মীরা তাদের বাসায় এসে নারী ও শিশু নির্যাতন সম্পর্কে ধারণা দেয়। কর্মীদের কাছেই জানতে পারেন কোনগুলো নারী ও শিশু নির্যাতন। কর্মীরা এও বলেন, কর্মক্ষেত্র এবং রাস্তাঘাটে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান, সচেতন করার জন্য তাদের সংগঠিত হতে হবে। তারা ঘরে যে নির্যাতনের শিকার হয় তা প্রতিরোধে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেন। এতদিন তারা স্বামীর দ্বারা যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তা ঠিক নয়। সচেতনতার কারণে এখন তাদের ধারণা পাল্টেছে। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে নারী শ্রমিক ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

তাসলিমা আক্তার এ প্রসঙ্গে বলেন, ঘর, নিজ এলাকা এবং কর্মক্ষেত্রে কোনো নারী যেন নির্যাতনের শিকার না হয় এ ব্যাপারে সচেতন থাকব এবং এক্ষেত্রে প্রতিরোধ করব।

আমার দেবরও এই কাজে আমাকে সহযোগিতা করে : নয়নতারা বেগম

বছর দুয়েক আগে ব্রেণ ও হার্ট স্টোকে আক্রান্ত হয়ে স্বামী মারা যায়। এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবেন, কি করবেন প্রথমে বুঝতে পারছিলেন না। কিন্তু মনোবল হারালেন না। স্বামীর ব্যবসার হাল ধরতে হল তাকে। এ থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে দুবেলা দুমুঠো ভাত জুটলেও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ হয় না। মেয়ে নবম শ্রেণী আর ছেলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। ওদের পড়াশুনার খরচ চালাতে তাই ভবন নির্মাণ কাজের পাশাপাশি বাসার ভেতরেই একটি চায়ের দোকান দেন। দোকানে চা-বিস্কুটের পাশাপাশি বুট ভাজা, চানাচুর, রুটি, কলা ইত্যাদিও রেখেছেন।

কিভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন জানতে চাইলে নয়নতারা বেগম বলেন, লোক দিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ করি। সরাসরি মালিকের সঙ্গে চুক্তি করি। সকালবেলা ছেলেমেয়েদের নাশতা বানিয়ে ওদের খাইয়ে, নিজে খেয়ে ৮টার মধ্যে সাইটে চলে যাই ভবন নির্মাণের কাজ দেখতে। সেখানে তাদের কাজ বুঝিয়ে দিয়ে ৯টার মধ্যে বাসায় এসে চায়ের দোকানে বসি। ছেলে চতুর্থ আর মেয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে। ওদের পড়াশোনার খরচ চালাতে এই কাজ শুরু করেছি। ২টা পর্যন্ত দোকান করে দুপুরে রান্নার জন্য ঘণ্টাখানেক বন্ধ রাখি। দুপুরে খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে তিনটের দিকে সাইটে চলে যাই কাজ দেখতে। আমার দেবরও এই কাজে আমাকে সহযোগিতা করে। সেখানে এক ঘণ্টা কাজ করে এসে আবার দোকান খুলি। ভবন নির্মাণে আমার এখানে পাঁচজন নির্মাণ শ্রমিক কাজ করেন। দেওরসহ ছয় জন। যার ভবন নির্মাণ করি তিনি আমাকে সপ্তাহে টাকা দেন ১৫ হাজার বা এরও কম বা বেশি। আমি নির্মাণ শ্রমিকদের প্রতিদিন হাজিরা ৫০০ টাকার জায়গায় ৪০০ টাকা দিই। একটি সাইটের কাজ শেষ হলে মালিক বিল পরিশোধ করলে বাকি টাকা ওদের দিয়ে দিই। এতে নির্মাণ শ্রমিকদের বাকি বিল পরিশোধ করে আমার হাতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতে থাকে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সম্পর্কে নয়নতারা বেগম বলেন, সখী প্রকল্পের শীলা আপা আমাদের বাসায় মেয়েদের সচেতনতা বিষয়ক সভা করতেন। তার কাছে শিশু নির্যাতন, বাল্যবিয়ে, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য মেয়েদের মারধর ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন নিয়ে আলোচনা করেন। আমার বাসার কাছে পাঁচ বছরের এক মেয়ে এলাকার এক ছেলে দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। আমরা তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিই। পাঁচ বছর ধরে সে জেল খাটছে। এভাবে এলাকার মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা এসেছে।

অর্থনৈতিক নির্যাতন সম্পর্কে জানতে পারি : জ্যোৎস্না বেগম

একচুলোয় ১১ পরিবারের রান্না। তাই সকালে রান্না করার সুযোগ পান না জ্যোৎস্না বেগম। সকাল নয়টার মধ্যে সংসারের কাজ গুছিয়ে ছেলেমেয়ে, স্বামীকে পানতা খাইয়ে, নিজে খেয়ে কাজে বের হন। ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের সাতমসজিদ হাউজিংয়ের একটি ঘরে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন তিনি। বড় মেয়ে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। বড় মেয়ে স্কুলে গেলেও মেজ মেয়ের তৃতীয় শ্রেণীতে ওঠার পর আর স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। কারণ তার রিকশাচালক স্বামী হার্টের অসুখে ভুগছেন। প্রতিদিন রিকশা চালাতে পারেন না। তাই সংসারের খরচ চালাতে তিনিও গৃহপরিচারিকার কাজ বেছে নেন। কিন্তু ছেলেটা ছোট হওয়ায় তাকে দেখাশোনার জন্য মেজ মেয়ের স্কুলে যাওয়া আর হয়ে ওঠে না। এ প্রসঙ্গে জ্যোৎস্না বেগম বলেন, সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা তিনটে পর্যন্ত জাপান গার্ডেনে তিন বাসায় কাজ করি। ঘরমোছা থেকে শুরু করে কাপড় ধোওয়া, বাসন মাজা, মশলা বাটতে হয়। মাস শেষে হাতে পাই তিন হাজার চারশত টাকা। কাজের তুলনায় টাকার পরিমাণ কম। রোজার ঈদে বখশিশ দিলেও কোরবানির ঈদে কিছুই দেয় না। ঈদের দিন কাজে গেলে সামান্য গোশত দেয়। কাজে না গেলে তাও দেয় না। স্বামীর একার রোজগারে চলে না। এরপর আবার প্রতিদিন কাজ করতে পারে না। বাধ্য হয়েই কম টাকায় কাজ করি। কাজ শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে সাড়ে তিনটে বাজে। রান্না করে, গোসল করে খেতে খেতে বিকাল গড়িয়ে যায়। বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতন প্রতিরোধের সঙ্গে কিভাবে যুক্ত হলেন জানতে চাইলে ট্রেড ইউনিয়নের নারী শ্রমিক কমিটির সহ সভাপতি জ্যোৎস্না বেগম বলেন, সখী প্রকল্পের সেলিনা আপা একদিন আমাদের এলাকায় আসেন। আমার প্রতিবেশী তার সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেন। ওইদিন আপা আমাকে তিন দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণের কথা বলেন। তিনি এও বলেন ‘এই প্রশিক্ষণ বাল্যবিয়ে, পারিবারিক নির্যাতন, অর্থনৈতিক নির্যাতন প্রতিরোধের ওপর হবে।’ এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমি অর্থনৈতিক নির্যাতন সম্পর্কে জানতে পারি। স্বামী টাকা-পয়সা হাতে না দিলে, আজে-বাজে কথা বললে তা মানসিক নির্যাতনের পর্যায় পড়ে। যাতে মনে কষ্ট পেতাম। এই বিষয়গুলো প্রশিক্ষণের পর জানতে পারি। এখন কোনো স্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে, শাশুড়ি বউয়ের সঙ্গে, ননদ ভাবীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে তাদের বুঝাই কাজটি তারা ঠিক করছে না। আমরা নিজেরা সমস্যা সমাধান করতে না পারলে স্থানীয় কমিশনার, সখী প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করি। যাতে কেউ এ ধরনের নির্যাতনের শিকার না হয়।

এক টুকরা গোশতও দেয় নাই আমারে : মোসাম্মৎ হুমায়রা বেগম

স্বামী তিন ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে মোসাম্মৎ হুমায়রা বেগম থাকেন ঢাকার শ্যামলী হাউজিংয়ের বস্তিতে। রিকশাচালক স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় রিকশা চালানো বন্ধ হয়ে যায়। বড় ছেলে অ্যামব্রডারির কাজ করে, বড় মেয়ে চাকরি করত গার্মেন্টসে। বছর খানেক আগে বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়, অসুস্থতার কারণে স্বামীও ঘরে বসা। একা ছেলের আয়ে সংসার চলছিল না হুমায়রার। এ প্রসঙ্গে মোসাম্মৎ হুমায়রা বেগম বলেন, অভাবের সংসারে একজনের রোজগারে ছয়জন মানুষের খাবার জোগাড় করা সম্ভব না। এদিকে স্বামীর চিকিৎসার খরচ। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে বছরখানেক আগে মোহাম্মদপুরের এক বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ নিই। সংসারের কাজ শেষ করে সকাল ৮টার মধ্যে সেখানে চলে যাই। কাপড় ধোওয়া, থালাবাসন মাজা, ঘরবাড়ি ঝাড়– দেয়া, মোছা, বাথরুম ধোওয়া। মাস গেলে বেতন পাই ৩ হাজার ১০০ টাকা। দুপুর ১টা পর্যন্ত কাজ করে বাড়ি ফিরি। রোজার ঈদে একটা শাড়ি দেয়। তাও পরার মতো না। কোরবানি গেল এক টুকরা গোশতও দেয় নাই আমারে। ঈদে বোনাস বা বখশিশ দেয়া তো দূরের কথা। এবার আমি গৃহকর্তাকে বলেছি, ঈদে বখশিশ দিলেন না। আমি কাজ করব না। উত্তরে গৃহকর্তা বলেন, ‘আমরাই বোনাস পাই না তোমাকে কি দিব। টাকা কি ভাসি বেড়ায়? কাজ না করলে না করবে, অনেক লোক আছে।’ আমরা কাজ করি। অথচ আমাদের কাজের মর্যাদা নেই। সম্মান নেই। এক মেয়ে দ্বিতীয়, আরেক মেয়ে পঞ্চম শ্রেণী, ছোট ছেলেটা শিশু শ্রেণীতে পড়ে। ছেলে আর আমার রোজগার দিয়ে কোনমতে সংসার চালাচ্ছি। কাজের ন্যায্য মজুরি পেলে সংসারে অভাব থাকত না। পারিবারিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধের সঙ্গে কিভাবে যুক্ত হলেন জানতে চাইলে হুমায়রা জানান, ‘আমরাই পারি’র সালমা তার স্বামীকে বছর খানেক আগে ‘সখী প্রকল্পে’ নিয়ে যান। ‘সখী প্রকল্প’ থেকে তার স্বামী নারী নির্যাতন, বাল্যবিয়ে ইত্যাদির ওপর তিনদিনের প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণের কথা তার স্বামী তাকে জানান। এর আগে স্বামী তাকে মারধর না করলেও তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করত। এরপর আমি ‘আমরাই পারি’র সদস্য হই। ‘আমরাই পারি’র সভায় অংশ নিই। সালমা তাকে বলেন, ‘আপনি ভালো করছেন। আপনাকে দলের লিডার বানাব।’ এরপরই নারী শ্রমিক সম্মেলনে তাকে নারী শ্রমিকদের সভাপতি মনোনীত করা হয়।



বেসরকারি সংস্থাকেও উদ্যোগ নিতে হবে

মিকাইল শিপার, সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

শ্রমিক কল্যাণের জন্য সরকারের ১৭০ কোটি টাকা ফান্ড আছে যার মাত্র ৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কোনো নারী নির্মাণ শ্রমিক দুর্ঘটনায় মারা গেলে ২ লাখ টাকা, চিকিৎসার জন্য ১ লাখ টাকা এবং গর্ভকালীন অবস্থায় কোনো নারী শ্রমিক অসুস্থ হলে তাকে ২৫ হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে। যে কোনো ঝুঁকির জন্য ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত শ্রমিকরা এ সুবিধা পাবেন। মাতৃত্বকালীন ছুটি ও বেতন পাবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সরকার নিচ্ছে। পাশাপাশি গৃহকর্মীদের জন্য নীতিমালা তৈরি হয়েছে। গৃহকর্মী নীতিমালায় চুক্তিভিক্তিক কাজ, বেতন ইত্যাদি লিপিবদ্ধ হয়েছে। কোনো গৃহকর্মী কোনো কারণে অধিকার বঞ্চিত হলে আমাদের অবগত করলে আমরা তাদের সঙ্গে থাকব। একজন গর্ভবতী কোনো শিল্প-কারখানায় কর্মরত থাকলে তিনি সবেতনে চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। এসব নীতিমালার যথার্থ প্রচারে বেসরকারি সংস্থাকেও উদ্যোগ নিতে হবে।



সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে

সুলতানা কামাল, চেয়ারপার্সন, আমরাই পারি জোট

বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী শ্রমিকরা কাজ করে যাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারীদের অধিকারের কথা উচ্চারিত হলেও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যারা রয়েছেন তারা আড়ালেই রয়ে যাচ্ছেন। লিঙ্গভিত্তিক শ্রমবিভাজন- নারী ঘরের সব কাজ করবে, পুরুষ বাইরের কাজ করবে। নারী বাইরে কাজ করবে না। তার জন্য বাইরে কাজটি বিপজ্জনক হতে পারে। এখানে কাদের ভয়ে নারীর বাইরের কাজটি বিপজ্জনক? নারী শ্রমিক হিসেবে কর্মক্ষেত্রে তার যেমন নিরাপত্তা প্রয়োজন তেমনি পরিবারেও তার জীবন নিরাপদ হতে হবে। শ্রমিকদের নিয়ে নীতিমালা হলেও প্রায়োগিক সুবিধা এখনও নিশ্চিত হচ্ছে না, এজন্য সরকারের উদ্যোগগুলোকে কার্যকর করতে হবে। একদিকে নারী হিসেবে বাইরে কাজ করার সীমাবদ্ধতা এবং তাকে নিরুৎসাহিত করার কাজটি পরিবারের পুরুষ সদস্যরাই করেন।


 
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by