•       ফরিদপুরের সালথায় দুই ইউপি চেয়ারম্যান সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ১
যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ২০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ২০ মার্চ, ২০১৭ ০৩:১১:৪১
জার্মানির কাছে যুক্তরাষ্ট্র বহু টাকা পাবে : ট্রাম্প
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো পরিচালনা বাবদ জার্মানির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনেক টাকা পাওনা’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জার্মানির নিরাপত্তা ও ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষার প্রতিদান হিসেবে এ টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে বলেও জানান তিনি। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে বৈঠকের পরদিন শনিবার ধারাবাহিক টুইটে তিনি এসব কথা বলেন। তবে ট্রাম্পের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ন্যাটোয় কর্মরত সাবেক একজন মার্কিন দূত। ওই বিশেষজ্ঞের মতে, ন্যাটো কিভাবে পরিচালিত হয় সে সম্পর্কে ট্রাম্পের ধারণা নেই। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও ওয়াশিংটন পোস্টের।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে দুই নেতার অঙ্গভঙ্গি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও হাস্যরস চলছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বৈঠকের ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প হাত-পা ছড়িয়ে অভিমানী ভঙ্গিতে বসে আছেন। বৈঠক চলার সময় সাংবাদিকরা ছবি তোলার জন্য দুই নেতাকে হাত মেলানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু ট্রাম্প ছিলেন নির্বিকার। দৃশ্যত তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান শোনেননি। বিবিসিতে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিকরা কয়েকবার অনুরোধ করলেও ট্রাম্প কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় এ নিয়ে চলে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ। ইউরোপীয় গণমাধ্যম বলছে, ট্রাম্প কার্যত মার্কেলকে অবহেলা করেছেন। টুইটারে এ প্রসঙ্গ নিয়েই প্রতিক্রিয়া জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ফেক নিউজের ভুয়া খবর মাধ্যমে আপনারা যা জেনেছেন- তা নয়। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে আমার খুব চমৎকার বৈঠক হয়েছে। তা সত্ত্বেও ন্যাটো বাবদ জার্মানির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক টাকা পাওনা আছে। জার্মানিকে অতি শক্তিশালী ব্যয়বহুল এ প্রতিরক্ষা দেয়ার জন্য সব টাকা অবশ্যই শোধ করতে হবে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোকে সেকেলে ও অকেজো বলেছিলেন। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর নিজের অবস্থান কিছুটা বদলে বারবার বলছেন, ইউরোপীয় নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। জার্মানিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, নিয়ম থাকলেও ন্যাটোর অনেক সদস্যরাষ্ট্রের মতো জার্মানিও মোট দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশ অর্থ ন্যাটোকে দেয় না। কেবল যুক্তরাষ্ট্র এবং আরও চারটি দেশ এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে থাকে। ন্যাটো বাবদ জার্মানির ব্যয় তার জিডিপির ১.২৩ শতাংশ। তবে এর পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। মার্কেলের সঙ্গে বৈঠকে ন্যাটো জোটের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে আরও অর্থ ব্যয় করার দাবি জানান ট্রাম্প। জার্মান চ্যান্সেলরও বৈঠকে প্রতিরক্ষায় তার দেশের ব্যয় বাড়ানোর প্রত্যয়ের কথা জানান।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ন্যাটো জোটে ইউরোপীয় সদস্যরা তাদের ব্যয় কম করুক আর বেশি করুক- ওই টাকা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের পাওনা নয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে পরিশোধ করারও কিছু নেই। ন্যাটোয় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন দূত আইভো দালদার বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য ন্যাটোর পরিচালনা কার্যক্রম সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা হাজির করেছে। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইউরোপকে আমাদের কাছে ন্যাটো ফি পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু ন্যাটো এভাবে পরিচালিত হয় না। জার্মানি তার প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করলে আর ন্যাটোয় বাজেট বাড়ালে সেই টাকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আসবে না।

দালদার আরও জানান, দুই বছর আগে ন্যাটোয় সিদ্ধান্ত হয়েছিল- জোটের সদস্যরা তাদের জিডিপির ২ শতাংশ বাধ্যতামূলক ভাবে প্রতিরক্ষায় ব্যয় করবে। তবে ওই লক্ষ্যে পৌঁছতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল। আর জার্মানি সে দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।


 
  • সর্বশেষ খবর
দশ দিগন্ত বিভাগের অারও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by