যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ২০ এপ্রিল, ২০১৭ ০১:৩৭:১৩
বিশ্লেষণ
অপ্রয়োজনীয় আগাম নির্বাচন
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে মঙ্গলবার আকস্মিক এক ঘোষণায় আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন । বিবিসিকে তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কয়েক সপ্তাহ ভাবার পর ‘অনিচ্ছা সত্ত্বেও’ মনোভাব বদলেছেন। নিয়মানুযায়ী ২০২০ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নতুন ঘোষণা অনুয়ায়ী, চলতি বছরের ৮ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এ প্রস্তাব পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হতে হবে। তার এই অভিলাষ মূলত একটা ইউটার্ন, যেটা ব্রিটিশ রাজনীতির জন্য খারাপ ফল বয়ে আনতে পারে। তাই ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার মুহূর্তে তাকে এমন একটি সুযোগ ভোটারদের অবশ্যই দেয়া উচিত হবে না। মাত্র সাত সপ্তাহের মধ্যে ব্রিটেনে একটি সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন তেরেসা। যদিও এটাকে তিনি তার সরকারের সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু এটা এখন স্পষ্ট যে, এই সিদ্ধান্ত একান্তই তার নিজের।

স্পষ্ট করে বললে, ব্রিটেনের এই সাধারণ নির্বাচনের দরকার নেই এবং ব্রিটিশ জনগণও এখন তা দাবি করছে না। এই মুহূর্তে সরকারের মধ্যেও কোনো সংকট নেই। হাউস অব কমন্সে তার যাওয়ার আশঙ্কা নেই। হাউস অব লর্ডস তার অবাধ্য নয়। সরকারের কোনো আইন প্রণয়নই ঝুঁকির মধ্যে নেই। কোনো যুদ্ধ এবং কোনো অর্থনৈতিক সংকটও নেই। ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে এখনও দু’বছর বাকি। গণমাধ্যমও কোনো আগাম নির্বাচনের জন্য জোরাজুরি করছে না। এই নির্বাচনের জন্য বিরোধীরাও প্রস্তুত নয়। টোরি পার্টির সদস্য হিসেবে তেরেসা অবশ্যই জানেন যে, সরকারের মধ্যবর্তী মেয়াদে যে সব ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাদের ব্যক্তিগত ম্যান্ডেটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। তা সত্ত্বেও পাঁচ বছর মেয়াদি পার্লামেন্ট এখন সম্ভবত মাত্র দুই বছরেই শেষ হতে যাচ্ছে। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, তেরেসা মনে করছেন, প্রধান বিরোধী দল জেরেমি করবিনের লেবার পার্টিকে ধরাশায়ী করার এটাই মোক্ষম সময়।

তেরেসা সম্পর্কে মূল্যায়ন সবসময় একরকম না হলেও তিনি একজন সত্যিকার রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজের দলে ও সরকারের মধ্যে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন যিনি সোজাসাপ্টা খেলতে পছন্দ করেন। নিজের কাজের ক্ষেত্রে তিনি একনিষ্ঠ এবং রাজনীতিকে আন্তরিকতার সঙ্গেই গ্রহণ করেছেন। অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডের মতো, তিনি সেটাই বলেন যা তিনি বোঝাতে চান। তবে এখন তেরেসার ক্ষেত্রে নতুন একটি মাত্রা যোগ হয়েছে। সেটা হচ্ছে তিনি এখন একটি রাজনৈতিক দলের নেতা। এদিক থেকে শুধু মুখ দেখে তার সব কথা বিশ্বাস করা যায় না। হাজার হলেও শেষ পর্যন্ত রাজনীতি তার ক্ষেত্রে একটা খেলামাত্র।

যদি জনমত জরিপ আমলে নেয়া হয়, নির্বাচনে তেরেসার টরি পার্টির জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ করবিনের চেয়ে অনেকটাই বিশ্বস্ত তেরেসা। তবে ব্রিটেনের বৃহত্তর রাজনীতির ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাবে। যে কারণগুলো দেখিয়ে তেরেসা নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেছেন, পার্লামেন্টে যে বিভাজন তা ঠিক করতেই নির্বাচন প্রয়োজন। তার মতে, এই বিভাজন ব্রিটেনের জন্য অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি করছে।

আগামী সপ্তাহগুলোতে অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে। এই আগাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিপদ হচ্ছে, কাদের সরকার গঠন করা উচিত সে ব্যাপারে এই নির্বাচন কম প্রতিযোগিতাপূর্ণ হতে পারে এবং ভোটাররা তেরেসাকে কতটা ক্ষমতা দিতে চাচ্ছে সেটাই হতে পারে মূল প্রতিযোগিতা। টোরি পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কেননা এটাই হবে একটা গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটা একটা অকাল নির্বাচন, যা ব্রিটেনের কোনো দরকার নেই। কেননা ব্রিটেনের জনগণই এটা চাচ্ছে না।


 
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by