সাহিত্যের মাস ফেব্রুয়ারি
jugantor
সাহিত্যের মাস ফেব্রুয়ারি

  জাহিদ সাদিক  

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩০:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

সাহিত্যের মাস ফেব্রুয়ারি

ফেব্রুয়ারি মাস যদিও ভাষার মাস বলে পরিচিত কিন্তু এর বাইরেও তার আরেকটি পরিচয় আছে, আর তা হচ্ছে- বইমেলার মাস। আর এ জন্যই এই মাসকে সাহিত্যের মাস বলে বিবেচিত করেছি। অন্যান্য মেলার চেয়ে এই মেলাটির গুরুত্ব কিন্তু অনেক বেশি।

আমাদের দেশ যে কাব্যের দেশ, সৃজনশীলতার দেশ, সাহিত্যের দেশ সেটার কিন্তু পরিচয় বহন করে এই মাসে। এই মাসকে উপলক্ষ করেই বহু কবি নানান কাব্য রচনা করেন। কাব্য রচনা করতে করতে একটা কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন।

কবি তার পাণ্ডুলিপিটা একটা প্রকাশনীকে দিয়ে একটা কাব্যগ্রন্থ বের করেন। কবির প্রত্যাশিত কাব্যগ্রন্থটি একটি মাসের জন্য অপেক্ষা করেন। আর সেই মাসটি হচ্ছে- ফেব্রুয়ারি। ফেব্রুয়ারি মাসটি এলেই যেন সারা দেশে শুরু হয় 'ছড়া কবিতার' এক মহোৎসব। আর এই উৎসবে মেতে উঠে নানান কবি ও পাঠক।

লেখকরা সারা বছর কষ্ট করে যে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধের পাণ্ডুলিপি তৈরি করে সেই পাণ্ডুলিপিটা একটা বই আকারে প্রকাশ করতে একটা প্রকাশনীর কাছে দেন। প্রকাশনীও সারা বছর আলসেমি করে কাটিয়ে দেয়। যখনি বইমেলার সময় আসে তখনি তাদের টনক নড়ে। সারা বছর প্রকাশ না করে মেলার সময়ে একসঙ্গে বই প্রকাশ করতে ব্যস্ত হয়ে উঠে প্রতিটা প্রকাশনী। অপরদিকে পাঠকরাও সারা বছর বই ক্রয় না করে বইমেলায় এসে এক ধাক্কায় বহু বই ক্রয় করে ফেলে।

বইমেলার মাস ফেব্রুয়ারি মানুষজনকে বই পড়ার উৎসাহ জুগিয়ে দেয়।

অনেকেই বলেন, বাঙালি বড় অলস জাতি, তারা বই পড়ে সময় ব্যয় করতে চায় না। তারা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তবে যে যাই বলুক আমি বলব, তারা সারা বছর আলসেমি করে বই না পড়লেও এই মাসকে গুরুত্ব দিয়ে বই পড়ে। এই মাসটা তাদের কাছে বই পড়ার মাস।

আধুনিক যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। এই যুগে বিনোদনের জন্য নানা উপকরণ রয়েছে। তাই সম্প্রতিকালে বইয়ের বিনোদন জাতির কাছে তেমন কোনো প্রভাব ফেলছে না। তবে বিনোদনের জন্য যতই নানা উপকরণ থাকুক না কেন বইয়ের সঙ্গে কোনোটির তুলনা হয় না। বই হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিনোদনের অন্যতম একটি উপকরণ।

এই সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বা ফেসবুকের যুগেও আমি সাংঘাতিকভাবে বইপন্থী মানুষ। যতই দিন যাচ্ছে আমি ততই বেশি বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে, একটা মানুষকে পরিপূর্ণ হতে হলে তাকে অবশ্যই বই পড়তে হবে।

মানুষ আর পশু-পাখির মাঝে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে- মানুষ বিমূর্ত চিন্তা করতে পারে, পশু-পাখি পারে না। যত রকম বিমূর্ত চিন্তা আছে, তার মাঝে সবচেয়ে কার্যকর হচ্ছে বই পড়া। কাজেই কেউ যেন মনে না করে বই পড়াটি শুধু একধরনের বিনোদন, এটি তার থেকেও অনেক বড় একটি ব্যাপার।

আমাদের একমাত্র সম্পদ হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্কটি। সেই মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় ব্যায়াম হতে পারে বই পড়া। মস্তিষ্ককে শাণিত করার এর থেকে কার্যকর আর কিছু হতে পারে না। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক জাতীয় আপদের প্রবল আক্রমণের সামনে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হতে পারে বই। তাই আমার মনে হয় রীতিমতো যুদ্ধ করে হলেও আমাদের সবাইকে বইয়ের জগতে নিয়ে যেতে হবে। সে জন্য ফেব্রুয়ারির বইমেলা দেখে আমি এত উত্তেজিত হয়ে যাই।

বইমেলা যে শুধুমাত্র বই ক্রয়-বিক্রয়ের মেলা তা কিন্তু নয়। এই মেলাতে ঘুরে বেড়ালেও জ্ঞান বিকশিত হয়, অজানাকে জানা হয়। আমি আশা করব সকল বন্ধুরা মেলায় আসবেন। মেলায় এসে আপনার প্রিয় লেখকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যদি পারেন তাহলে আপনার প্রিয় লেখকের একটা বই ক্রয় করবেন। এতে আপনার মাঝে সাহিত্যের এক অদ্ভুত চেতনা সৃষ্টি হবে।

লেখক:জাহিদ সাদিক,সংস্কৃতি সম্পাদক, যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ।

সাহিত্যের মাস ফেব্রুয়ারি

 জাহিদ সাদিক 
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:৩০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সাহিত্যের মাস ফেব্রুয়ারি
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বই পড়ছেন তরুণ-তরুণীরা। ছবি: যুগান্তর

ফেব্রুয়ারি মাস যদিও ভাষার মাস বলে পরিচিত কিন্তু এর বাইরেও তার আরেকটি পরিচয় আছে, আর তা হচ্ছে- বইমেলার মাস। আর এ জন্যই এই মাসকে সাহিত্যের মাস বলে বিবেচিত করেছি। অন্যান্য মেলার চেয়ে এই মেলাটির গুরুত্ব কিন্তু অনেক বেশি।

আমাদের দেশ যে কাব্যের দেশ, সৃজনশীলতার দেশ, সাহিত্যের দেশ সেটার কিন্তু পরিচয় বহন করে এই মাসে। এই মাসকে উপলক্ষ করেই বহু কবি নানান কাব্য রচনা করেন। কাব্য রচনা করতে করতে একটা কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন।

কবি তার পাণ্ডুলিপিটা একটা প্রকাশনীকে দিয়ে একটা কাব্যগ্রন্থ বের করেন। কবির প্রত্যাশিত কাব্যগ্রন্থটি একটি মাসের জন্য অপেক্ষা করেন। আর সেই মাসটি হচ্ছে- ফেব্রুয়ারি। ফেব্রুয়ারি মাসটি এলেই যেন সারা দেশে শুরু হয় 'ছড়া কবিতার' এক মহোৎসব। আর এই উৎসবে মেতে উঠে নানান কবি ও পাঠক।

লেখকরা সারা বছর কষ্ট করে যে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধের পাণ্ডুলিপি তৈরি করে সেই পাণ্ডুলিপিটা একটা বই আকারে প্রকাশ করতে একটা প্রকাশনীর কাছে দেন। প্রকাশনীও সারা বছর আলসেমি করে কাটিয়ে দেয়। যখনি বইমেলার সময় আসে তখনি তাদের টনক নড়ে। সারা বছর প্রকাশ না করে মেলার সময়ে একসঙ্গে বই প্রকাশ করতে ব্যস্ত হয়ে উঠে প্রতিটা প্রকাশনী। অপরদিকে পাঠকরাও সারা বছর বই ক্রয় না করে বইমেলায় এসে এক ধাক্কায় বহু বই ক্রয় করে ফেলে।

বইমেলার মাস ফেব্রুয়ারি মানুষজনকে বই পড়ার উৎসাহ জুগিয়ে দেয়।

অনেকেই বলেন, বাঙালি বড় অলস জাতি, তারা বই পড়ে সময় ব্যয় করতে চায় না। তারা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তবে যে যাই বলুক আমি বলব, তারা সারা বছর আলসেমি করে বই না পড়লেও এই মাসকে গুরুত্ব দিয়ে বই পড়ে। এই মাসটা তাদের কাছে বই পড়ার মাস।

আধুনিক যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। এই যুগে বিনোদনের জন্য নানা উপকরণ রয়েছে। তাই সম্প্রতিকালে বইয়ের বিনোদন জাতির কাছে তেমন কোনো প্রভাব ফেলছে না। তবে বিনোদনের জন্য যতই নানা উপকরণ থাকুক না কেন বইয়ের সঙ্গে কোনোটির তুলনা হয় না। বই হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিনোদনের অন্যতম একটি উপকরণ।

এই সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বা ফেসবুকের যুগেও আমি সাংঘাতিকভাবে বইপন্থী মানুষ। যতই দিন যাচ্ছে আমি ততই বেশি বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে, একটা মানুষকে পরিপূর্ণ হতে হলে তাকে অবশ্যই বই পড়তে হবে।

মানুষ আর পশু-পাখির মাঝে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে- মানুষ বিমূর্ত চিন্তা করতে পারে, পশু-পাখি পারে না। যত রকম বিমূর্ত চিন্তা আছে, তার মাঝে সবচেয়ে কার্যকর হচ্ছে বই পড়া। কাজেই কেউ যেন মনে না করে বই পড়াটি শুধু একধরনের বিনোদন, এটি তার থেকেও অনেক বড় একটি ব্যাপার।

আমাদের একমাত্র সম্পদ হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্কটি। সেই মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় ব্যায়াম হতে পারে বই পড়া। মস্তিষ্ককে শাণিত করার এর থেকে কার্যকর আর কিছু হতে পারে না। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক জাতীয় আপদের প্রবল আক্রমণের সামনে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হতে পারে বই। তাই আমার মনে হয় রীতিমতো যুদ্ধ করে হলেও আমাদের সবাইকে বইয়ের জগতে নিয়ে যেতে হবে। সে জন্য ফেব্রুয়ারির বইমেলা দেখে আমি এত উত্তেজিত হয়ে যাই।

বইমেলা যে শুধুমাত্র বই ক্রয়-বিক্রয়ের মেলা তা কিন্তু নয়। এই মেলাতে ঘুরে বেড়ালেও জ্ঞান বিকশিত হয়, অজানাকে জানা হয়। আমি আশা করব সকল বন্ধুরা মেলায় আসবেন। মেলায় এসে আপনার প্রিয় লেখকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যদি পারেন তাহলে আপনার প্রিয় লেখকের একটা বই ক্রয় করবেন। এতে আপনার মাঝে সাহিত্যের এক অদ্ভুত চেতনা সৃষ্টি হবে।

লেখক: জাহিদ সাদিক, সংস্কৃতি সম্পাদক, যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ।