স্তূপাকৃত সজ্জিত অগণিত বইয়ে জেগে আছেন কবি

  জাহিদ সাদিক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

সদ্যপ্রয়াত কবি আল মাহমুদ
কবি আল মাহমুদ। ফাইল ছবি

কাকডাকা ভোরে আজ ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। কেন উঠে পড়লাম জানেন? ঘরের এক কোণে নারিকেল গাছে একটি কাক আজ অনবরত কা-কা করছে। কাকের কা-কা শব্দে আজ ঘুম ভেঙে গেল।

কেন ভেঙে গেল ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। তবে মনে হয় কোনো দুঃসংবাদ। কাক নাকি দুঃসংবাদ নিয়ে আসে।

এই কথাটি হয়তো অনেকেই বিশ্বাস করবেন না। আমিও অনেকের মতো এসব কুসংস্কার কথায় বিশ্বাস করতাম না।

কিন্তু আজ হয়তো বিশ্বাস না করে পারছি না। তবে আমি প্রথার এক ঘোরবিরোধী। ভোরবেলা থেকেই বুকের ভেতর কেমনজানি চিনচিন ব্যথা করছে। কিছু ভালো লাগছে না।

হাত-পা কেমনজানি অবশ হয়ে আসছে। কোনো কাজকর্মে পা চলছে না। অবশ শরীরটা নিয়ে যখন শোয়ার ঘরে শুতে গেলাম, ঠিক তখনি আমার এক প্রিয় কবির কথা মনে পড়ল।

সেই ছোটবেলা থেকে যার ছড়া ও কবিতা পড়ে বড় হয়েছি তার কথা। কোনোভাবেই মন থেকে তাকে সরাতে পারছি না। ভালোবাসার মানুষের কথা মনে পড়লে বুঝি হৃদয়ের মধ্যে নাড়া দিয়ে উঠে।

তাইতো ভোরবেলা থেকেই বুকের মধ্যে কেমনজানি করছে। বুকের বাঁ-পাশে সেই প্রিয় কবির প্রতি এক অগাধ ভালোবাসা জমে আছে। সুপ্ত এক ভালোবাসা যা সহজে প্রকাশ করা যায় না।

সেই ভালোবাসার মানুষটির একটি বিখ্যাত ছড়াও আমার মনে পড়ে গেল। 'পাখির মতো' সেই বিখ্যাত ছড়াটি ছোটবেলায় বারবার পড়তাম।

আজও সেই ছোটবেলার মতোই এক নিঃশ্বাসে ছড়াটি বার কয়েক বলে ফেললাম। আম্মা বলেন, পড়রে সোনা আব্বা বলেন, মন দে; পাঠে আমার মন বসে না কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।

এই ছড়াটির ছড়াকার আর কেউ নয়, আমাদের সবার পরিচিত প্রিয় কবি আল মাহমুদ। তিনি নাকি চলে গেছেন না ফেরার দেশে? এই বচনটা শুনে আমি সত্যিই বিস্মিত! আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমার কাছে কেন জানি সেটা মিথ্যা মনে হচ্ছে।

তবে সত্যি কি জানতে ভীষণ ইচ্ছে করছে। তিনি মরতে পারেন না। তিনি আকাশের তারা হয়ে বেঁচে আছেন আমাদের মাঝে।

তিনি আমাদের কাছে ঝলঝলে একটা নক্ষত্র। কবি ও সাহিত্যিকরা কখনো মরতে পারে না, কারণ তারা অমর। তারা বেঁচে থাকেন পাঠকের সুপ্ত হৃদয়ে। তেমনি কবি আল মাহমুদ আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। তিনি পাখির কাছে, ফুলের কাছে মন খুলে কথা বলেন।

তিনি অমর একুশে বইমেলায় হাজারো পাঠকের সঙ্গে কথা বলেন। বইমেলার স্টলে স্তূপাকৃত সজ্জিত অগণিত বইয়ের মাঝে তিনি জেগে আছেন। তিনি এখনো বাচিকশিল্পির ঠোঁটে সুর তুলেন।

তিনি বেঁচে আছেন অভিজ্ঞ প্রবীণদের হৃদয়ে দাগ ফেলে, দাগহীন নবীন কিশোরের বুকে ঝড় তুলে। বেঁচে আছেন 'পানকৌড়ির রক্তে', 'লোক লোকান্তরে', 'আরব্য রজনীর রাজহাঁস' এর মতো। তিনি 'দিনযাপন' করেন 'উপমহাদেশ' এ।

তিনি 'সৌরভের কাছে পরাজিত' হননি, সুতরাং তিনি মরেননি। তিনি বেঁচে আছেন বাংলার চির সবুজের মাঝে।

লেখক: মুহা. জাহিদ সাদিক সংস্কৃতি সম্পাদক, যুগান্তর স্বজন সমাবেশ গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ।

ঘটনাপ্রবাহ : ক‌বি আল মাহমু‌দ আর নেই

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×