Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

থাইল্যান্ডে দুই হাজার বছরের সোনার আংটি আবিষ্কার, খোদাই রয়েছে ‘ব্রাহ্মী লিপি’

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

থাইল্যান্ডে দুই হাজার বছরের সোনার আংটি আবিষ্কার, খোদাই রয়েছে ‘ব্রাহ্মী লিপি’

ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলে একটি নতুন আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটে খননকাজ চালানোর সময় প্রায় ২,০০০ বছর পুরোনো দুটি সোনার আংটি পাওয়া গেছে। 

মানুষের হাড় বা কঙ্কালের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া এই আংটিগুলো ওই অঞ্চলে একসময় বসবাসকারী প্রাচীন জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের নতুন মূল্যবান ধারণা দিচ্ছে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

থাই সরকারের চারুকলা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ফেতচাবুরি প্রদেশের ‘দোন ইয়াই থং’ প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটে চলমান খননকাজের সময় কঙ্কালের সঙ্গে এই আংটি দুটি পাওয়া যায়।  

খননকাজে উদ্ধার হওয়া আংটি দুটির মধ্যে একটির গায়ে প্রাচীন ভারতীয় লিখন পদ্ধতি ‘ব্রাহ্মী লিপি’ খোদাই করা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, আংটিতে খোদাই করা লিপিটির উচ্চারণ ‘পুসারখিতাসা’, যার অর্থ ‘পুষ্যা নক্ষত্র বা পুশ্য দ্বারা সুরক্ষিত ব্যক্তি’। ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্রে ‘পুষ্যা’ নক্ষত্রকে অন্যতম অত্যন্ত শুভ একটি রাশি বা নক্ষত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

একই কঙ্কালের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে পাওয়া দ্বিতীয় আংটিটি ছিল সম্পূর্ণ সাদামাটা, যার গায়ে কোনো নকশা বা লেখা নেই।

আংটির মালিক কে ছিলেন?

ফাইন আর্টস ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, আংটি দুটির মালিক প্রাচীন ভারতীয় বর্ণপ্রথার ‘বৈশ্য’ সম্প্রদায়ের কোনো ব্যবসায়ী বা বণিক হতে পারেন। 

যেভাবে সন্ধান মিলল এই প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটের

রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই ‘দোন ইয়াই থং’ প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটটি চলতি বছরের শুরুর দিকে আবিষ্কৃত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা একটি ধানক্ষেতে প্রাচীন ব্রোঞ্জের ড্রামের টুকরো খুঁজে পাওয়ার পর প্রত্নতাত্ত্বিকরা এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে খননকাজ শুরু করেন।

বিশেষজ্ঞরা এই সাইটটিকে থাইল্যান্ডের প্রাগৈতিহাসিক যুগের শেষভাগ অর্থাৎ ‘লৌহ যুগ’-এর বলে নির্ধারণ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই মানব বসতিটি আজ থেকে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ বছর আগের।

সমাদৃত উচ্চবিত্তের সমাধি

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া এই খননকাজে এ পর্যন্ত আটটি মানবকঙ্কাল, ব্রোঞ্জ ও সোনার অলঙ্কার, মৃৎপাত্র এবং অন্যান্য প্রাচীন নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এসব মূল্যবান সামগ্রীর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে এটি সমাজের অত্যন্ত ধনী বা উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষের একটি আনুষ্ঠানিক সমাধিস্থল ছিল।

ফাইন আর্টস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে এই খননকাজ সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পরবর্তীতে এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারগুলো সাধারণ মানুষের প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

সূত্র: সামা টিভি 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .