Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

এনডিটিভির বিশ্লেষণ

যে সামরিক সক্ষমতায় চীনের থেকে ১০ বছর পিছিয়ে ভারত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

যে সামরিক সক্ষমতায় চীনের থেকে ১০ বছর পিছিয়ে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও চীনের মধ্যকার বহুল আলোচিত সামরিক সক্ষমতার ব্যবধান এখন আর কেবল একটি সাধারণ আলোচনার বিষয় নয়, বরং এটি ভারতের জন্য একটি পুরোদস্তুর সামরিক জরুরি অবস্থায় রূপ নিয়েছে। 

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক জার্নাল দ্য ওয়ার জোন-এ প্রবীণ চীন সামরিক বিশ্লেষক আন্দ্রিয়াস রুপব্রেখটের দেওয়া একটি নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য এই আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। তার ধারণা অনুযায়ী, চীনের বিমানবাহিনীতে ইতোমধ্যে তাদের সবচেয়ে উন্নতমানের প্রায় ৫০০টি ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ ফাইটার জেট সক্রিয় রয়েছে। 

যদি এই তথ্য সত্য হয়, তবে তা ভারতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের। কারণ এর আগে এই ফাইটার জেটের সংখ্যা যা ভাবা হয়েছিল, এটি তার দ্বিগুণেরও বেশি। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই তথ্য ইঙ্গিত করে যে চীন বিশ্বের অন্যতম জটিল এই যুদ্ধবিমান তৈরির প্রক্রিয়াকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গেছে। 

ভারতের জন্য কেন এটি একটি বিপৎসংকেত? 

নয়াদিল্লির জন্য এটি একটি গুরুতর সামরিক সতর্কবার্তা। এর পেছনের মূল কারণটি অত্যন্ত রূঢ়—আজকের দিনে ভারতের বিমানবাহিনীতে কোনো সচল স্টিলথ যুদ্ধবিমান নেই। অর্থাৎ, চীনের ৫০০টি অত্যাধুনিক স্টিলথ ফাইটারের বিপরীতে ভারতের সক্ষমতা আপাতত শূন্য।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল যে, তিব্বত সংলগ্ন ভারত সীমান্তের কাছাকাছি অন্তত কয়েকটি চীনা জে-২০ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। এই বিশেষ বিমানগুলো রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। অত্যন্ত সুরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশ করে প্রথম আঘাত হানা এবং অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসাই এদের প্রধান কাজ।

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে স্টিলথ ফাইটারগুলো চালকের ভূমিকা পালন করে। এরা প্রথমে শত্রুসীমার আকাশে প্রবেশ করে প্রতিপক্ষের ফাইটার জেট ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে ধ্বংস করে। এরপর অন্যান্য যুদ্ধবিমানের জন্য নিরাপদে অভিযান চালানোর পথ উন্মুক্ত করে দেয়। 

দীর্ঘসূত্রতা ও ভারতের বিকল্পের সংকট

ভারত আগামী দিনের যুদ্ধগুলো কীভাবে লড়তে চায়, তার কেন্দ্রে রয়েছে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা। কিন্তু চীনের এই অভাবনীয় অগ্রগতির বিপরীতে ভারতের জবাব এখনো অনেক দূরে। 

এএমসিএ: ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মাণাধীন পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার এএমসিএ পুরোপুরি সচল হতে এখনো অন্তত এক দশক সময় লাগবে। 

রুশ সু-৫৭: রাশিয়ার তৈরি এই বিমানটিকে আপৎকালীন আমদানি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এটি ভারতের জন্য আদর্শ স্টিলথ ফাইটার নয়। তাছাড়া এতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। 

ইউরোপীয় এফসিএএস: ইউরোপের ষষ্ঠ প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ রয়েছে। তবে এটি আগামী দশকের পরিকল্পনা, আগামীকাল যদি কোনো যুদ্ধ শুরু হয় তবে এটি কোনো কাজে আসবে না। 

বাস্তবতা হলো, ভারতের এএমসিএ যখন পরিষেবায় আসবে, ততদিনে চীনের হাতে আপগ্রেড প্রযুক্তিসহ প্রায় ১,০০০টি জে-২০ বিমান থাকতে পারে। পাশাপাশি তাদের ষষ্ঠ প্রজন্মের দুটি ভিন্ন যুদ্ধবিমান বহরও তখন আকাশে দাপিয়ে বেড়াবে। 

একমাত্র ভরসা কি অসম প্রতিরক্ষা কৌশল? 

এই বিশাল ব্যবধানের অর্থ এই নয় যে ভারত সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষাহীন। কেবল যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দিয়ে পুরো যুদ্ধ পরিস্থিতি বিচার করা যায় না।

ভারত বর্তমানে স্টিলথ বিমান প্রতিরোধী বিশেষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সেন্সর এবং ডিটেকশন নেটওয়ার্কের ওপর জোর দিচ্ছে। রাডার ফাঁকি দেওয়া বিমানগুলোকে শনাক্ত ও প্রতিহত করার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তিগুলো তৈরি করা হচ্ছে, যা স্টিলথ বিমান না থাকার ঘাটতিকে কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিতে পারে। 

তবে যুদ্ধের ময়দানে সংখ্যার একটি নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। আর সেই মানদণ্ডে ভারত আজ শূন্য থেকে শুরু করছে। 

এটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর কোনো ব্যর্থতা নয়, কারণ তারা এই চ্যালেঞ্জটি অন্য যে কারোর চেয়ে ভালো বোঝে। আসল সমস্যাটি লুকিয়ে রয়েছে দশকের পর দশক ধরে নেওয়া বিলম্বিত সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনার অসঙ্গতি এবং বৃহৎ পরিসরে উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান তৈরিতে ভারতের অভ্যন্তরীণ শিল্পের ব্যর্থতার মধ্যে। দশকের এই শূন্যতা আজ এক বিশাল সামরিক ব্যবধানে রূপ নিয়েছে। 

প্রশ্ন এখন আর এটি নয় যে ভারতের স্টিলথ ফাইটার প্রয়োজন কিনা—এর উত্তর অত্যন্ত স্পষ্ট, ভারতের এটি অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। প্রশ্ন হলো, এই নতুন ও কঠোর বাস্তবতা কি শেষ পর্যন্ত ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সেই জরুরি তাগিদ ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার জন্ম দিতে পারবে, যা এই দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকা ব্যবধানকে কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে? 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .