সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বে সুগন্ধি
আজহার মাহমুদ
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুগন্ধি মানুষের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের এক সূক্ষ্ম বহিঃপ্রকাশ। এটি শুধু শরীরের গন্ধ দূর করে এমনটি নয় বরং রুচির পরিচয়ও বহন করে। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ সুগন্ধি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মিশর, পারস্য ও ভারতবর্ষে নানা প্রাকৃতিক উপাদান যেমন-চন্দন, গোলাপজল, কস্তুরি ইত্যাদি বিভিন্ন উপাদান থেকে তৈরি হতো সুগন্ধি। যদিও আধুনিক যুগে এটি তৈরি হয় বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উপাদানের সংমিশ্রণে।
একটি ভালো সুগন্ধি শুধু ঘ্রাণই নয়, স্মৃতিকেও আজীবন ধরে রাখতে সাহায্য করে। কোনো বিশেষ মানুষের গন্ধ কিংবা কোনো মুহূর্তের অনুভূতি আমাদের মনে গেঁথে যায় এ সুগন্ধির মাধ্যমে। সুগন্ধি ব্যবহারে শারীরিক পরিচ্ছন্নতার প্রকাশ যেমন ঘটে, তেমনি সামাজিক পরিবেশে সৌহার্দের সৃষ্টি করে। তবে এটি সময়, স্থান ও পরিবেশ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।
সুগন্ধি এখন ফ্যাশনের অন্যতম অংশ হয়ে উঠেছে। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ডের সুগন্ধি। তাই একে শুধু প্রসাধনী নয়, এক ধরনের শিল্প বললেও ভুল হবে না। বর্তমানে তরুণ-তরুণীদের নিত্য ব্যবহারিক কসমেটিকসের মধ্যে পছন্দের শীর্ষে আছে সুগন্ধি । কোনো অনুষ্ঠানে বা পার্টিতে যাওয়ার আগে শরীরে সুবাস ছড়িয়ে নেওয়া এখন এক ধরনের রীতিতে পরিণত হয়েছে। সেইসঙ্গে সুগন্ধি সারা দিন মনকে ফুরফুরে, স্নিগ্ধ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে। বর্তমান সময়ে সাজপোশাকের সঙ্গে কমবেশি সবাই সুগন্ধি ব্যবহার করে থাকেন। তবে সুগন্ধি নিয়ে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় থাকেন অনেকে। কেউ দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন আবার কেউ সুন্দর সুগন্ধ নিতে ভালোবাসেন।
সুঘ্রাণ দীর্ঘস্থায়ী রাখার উপায়
সুগন্ধি দীর্ঘস্থায়ীর জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। কিছু জায়গায় ব্যবহার করলে অনেকক্ষণ সুঘ্রাণ ঘিরে রাখবে আপনাকে যেমন-সুগন্ধি দীর্ঘস্থায়ী রাখতে গোসলের ঠিক পরপরই ব্যবহার করবেন। শুকনো ত্বকে ঘ্রাণ বেশি সময় থাকে না। তাই সুগন্ধি লাগানোর আগে ত্বকে সামান্য ভ্যাসলিন বা ময়েশ্চারাইজার মেখে নিতে পারেন। চিবুকের নিচে গলার দুপাশে সুগন্ধি ব্যবহার করলে গন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়। এ ছাড়া কানের পেছনে, কব্জিতে, ঘাড়ে, কাঁধের ভাঁজে এবং কনুইয়ের ভাঁজে, বুকের দুপাশে সুগন্ধি লাগালে তা শরীরের উষ্ণতার কারণে দীর্ঘস্থায়ী হয়। শরীরের পালস পয়েন্টগুলো হচ্ছে সুগন্ধি দেওয়ার জন্য আদর্শ জায়গা। কব্জি, কনুই ছাড়াও হাঁটুর পেছনে, পায়ের গোড়ালি ও নাভির কাছে সুগন্ধি লাগালে ঘ্রাণ স্থায়ী হয় বেশ কিছুটা সময়। সুগন্ধি ব্যবহারের কিছুক্ষণ পরই সুগন্ধ আর থাকে না। অথচ বেশিরভাগ মানুষই দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধি পছন্দ করেন। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধি অনেকেই চেনেন না। কোনটি দীর্ঘস্থায়ী আর কোনটি নয়, এটি নিয়ে নানা রকম দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। বহুবার দামি সুগন্ধি কেনা সত্ত্বেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এমন পরিস্থিতিতেও পড়েছেন অনেকেই। এজন্য যখন সুগন্ধি কিনবেন অবশ্যই এটি ত্বকের যে কোনো জায়গায় স্প্রে করে নিন এবং দশ মিনিটের জন্য রেখে দিন। যদি সুগন্ধ থাকে তবে বুঝবেন এটি দীর্ঘস্থায়ী। এ ছাড়া সুগন্ধি কিনতে গেলে মেয়াদ দেখে কিনুন।
সময়ভেদে সুগন্ধি
বেশিরভাগ সময় দেখা যায় কোনো পার্টি বা অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে সুগন্ধি ব্যবহার করে থাকি। অথচ কোন সুগন্ধি কোথায় ব্যবহার করতে হবে এটাই আমরা অনেকে জানি না। এটি যদি আমরা নিজেদের ব্যক্তিত্ব, স্মার্টনেস ও রুচিবোধ তুলে ধরতে চাই, তাহলে যে কোনো ব্র্যান্ড ব্যবহার করলেই চলবে না। অবশ্যই অনুষ্ঠানভেদে বেছে নিতে হবে সুগন্ধি । সুগন্ধির গন্ধ খুব তীব্র হলে লোকজন আপনার থেকে দূরে সরেও যেতে পারে। আবার সুগন্ধিটা সুন্দর হলে আপনার সঙ্গে কথা বলার জন্য এগিয়েও আসতে পারেন। অতএব, সুগন্ধি লাগানোর আগে তার গন্ধ সম্পর্কে সজাগ থাকা জরুরি। দিনেরবেলায় হালকা, সতেজ ও স্বচ্ছ ঘ্রাণ ভালো মানায়। যেমন-সাইট্রাস, ফ্লোরাল, অকোয়াটিক। এগুলো কর্মক্ষেত্র, অফিস, ক্লাস বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার জন্য উপযুক্ত। সন্ধ্যা বা রাতের পার্টি, ডিনার অনুষ্ঠানে ভারী ও রোমান্টিক ঘ্রাণ মানায়। যেমন-উডি, মাস্কি, অরিন্টোল এসব ঘ্রাণ রোমান্টিক বা ফর্মাল অনুষ্ঠানে আকর্ষণ বাড়ায়। গরমে হালকা ঘ্রাণ ব্যবহার করাই ভালো। এতে অতিরিক্ত গরমে স্বস্তি পাওয়া যায়। বিয়ে, ঈদ, পূজা বা বড় অনুষ্ঠানে আপনার পছন্দমতো একটু গাঢ় ও স্টাইলিশ সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন, যা আপনার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলবে। তাই আবহাওয়া ও মৌসুম অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন আপনার প্রিয় সুগন্ধি।
ব্যবহারে সাবধানতা
অনেকেই চুলে সুগন্ধি ব্যবহার করে থাকেন। যাতে দীর্ঘসময় সুগন্ধ থাকে। কিন্তু এটি করবেন না। কারণ, বাজারের বেশিরভাগ সুগন্ধিতেই অ্যালকোহল থাকে আর অ্যালকোহল চুলকে শুষ্ক করে তোলে। এ ছাড়া আমরা সাধারণত জামা-কাপড়ের ওপরেই সুগন্ধি ব্যবহার করে থাকি। এতে অনেক সময় কাপড়ে দাগ বসে যায়। অন্যদিকে সুগন্ধও অল্প সময়ে মিলিয়ে যায়। তাই কাপড়ের ওপর সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না। সেইসঙ্গে অবশ্যই সুগন্ধি দেওয়ার সময় বোতল শরীর থেকে ৫-৭ ইঞ্চি দূরত্বে রেখে ব্যবহার করতে হবে।
