টাকার গাছ
jugantor
টাকার গাছ

  মির্জা রিজওয়ান আলম  

২৩ জুন ২০২০, ২২:০০:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

আমার বয়স তখন আর কতই বা হবে! ৫ কি ৬ বছর। আমাদের মূল বাড়ি কুষ্টিয়ায়। আমি আর মা সেখানেই থাকতাম, আর চাকরি সূত্রে টেকেরহাটে থাকতো আব্বু। একবার বেড়ানোর জন্য ফাইনাল পরীক্ষার পর আমি আর মা এলাম টেকেরহাট। ১০ দিনের জন্য বেড়াতে এসে শেষ পর্যন্ত থেকেই গেলাম টেকেরহাট। ভর্তি হলাম এখানকার স্কুলে। একদিন স্কুলের এক বন্ধু বলল, শিউলি ফুল গাছের শিকড় খেলে গায়ে শক্তি হয়!

এদিকে আমিও ছিলাম খুব লিকপিকে। ঠেলা না দিতেই পড়ে যেতাম। ভাবলাম আমার পড়ে যাওয়া নিয়ে সবাই হাসি-ঠাট্টা করে! এবার আমি শিউলি গাছের শিকড় খেয়ে শক্তিশালী হব। অবশেষে একদিন শিকড় জোগাড় করে চিবিয়ে খেলাম। তারপর কেটে গেল সপ্তাহ, মাস, বছর। আমি তো অবাক, আমার শক্তি হচ্ছে না কেন? মাকে বলতেই খেলাম ধমক আর মৃদু পিটুনি। ভাবলাম এবার আমি নিজের টাকায় ফল কিনে খেয়ে শক্তিশালী হব।

আমার টাকা রাখার প্লাস্টিকের ব্যাংক থেকে খাতা সেলাই করার ভোমর দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করলাম একটা ৫ টাকার কয়েন। উদ্দেশ্য টাকার গাছ লাগাবো! সেই গাছে টাকা ধরবে আর সেই টাকা দিয়ে ফল কিনে খেয়ে শক্তিশালী হব। মাটি খুড়ে ৫ টাকার কয়েন লাগালাম। তারপর ভাবলাম ৫ টাকার গাছে আর কতইবা টাকা ফলবে। তাই ৫ টাকা তুলে লাগালাম ৫০ টাকার নোট।

তারপর দিন যায় রাত যায় কিন্তু গাছ তো হয় না! তারপর একদিন মাটি খুঁড়ে দেখি একটা ছোট কাগজের টুকরা, যাতে ৫০-এর ৫-এর কিছু অংশ আর একটা ০ দেখা যাচ্ছে! এ ঘটনায় মিটে গেল আমার টাকার গাছ লাগানোর শখ। ভাবলাম যদি ওই ৫০ টাকা দিয়ে ফল কিনে খেতাম তাও কিছু শক্তি পেতাম গায়ে!

টেকেরহাট পপুলার হাইস্কুল এন্ড কলেজ, টেকেরহাট, রাজৈর, মাদারীপুর।

টাকার গাছ

 মির্জা রিজওয়ান আলম 
২৩ জুন ২০২০, ১০:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আমার বয়স তখন আর কতই বা হবে! ৫ কি ৬ বছর। আমাদের মূল বাড়ি কুষ্টিয়ায়। আমি আর মা সেখানেই থাকতাম, আর চাকরি সূত্রে টেকেরহাটে থাকতো আব্বু। একবার বেড়ানোর জন্য ফাইনাল পরীক্ষার পর আমি আর মা এলাম টেকেরহাট। ১০ দিনের জন্য বেড়াতে এসে শেষ পর্যন্ত থেকেই গেলাম টেকেরহাট। ভর্তি হলাম এখানকার স্কুলে। একদিন স্কুলের এক বন্ধু বলল, শিউলি ফুল গাছের শিকড় খেলে গায়ে শক্তি হয়!

এদিকে আমিও ছিলাম খুব লিকপিকে। ঠেলা না দিতেই পড়ে যেতাম। ভাবলাম আমার পড়ে যাওয়া নিয়ে সবাই হাসি-ঠাট্টা করে! এবার আমি শিউলি গাছের শিকড় খেয়ে শক্তিশালী হব। অবশেষে একদিন শিকড় জোগাড় করে চিবিয়ে খেলাম। তারপর কেটে গেল সপ্তাহ, মাস, বছর। আমি তো অবাক, আমার শক্তি হচ্ছে না কেন? মাকে বলতেই খেলাম ধমক আর মৃদু পিটুনি। ভাবলাম এবার আমি নিজের টাকায় ফল কিনে খেয়ে শক্তিশালী হব। 

আমার টাকা রাখার প্লাস্টিকের ব্যাংক থেকে খাতা সেলাই করার ভোমর দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করলাম একটা ৫ টাকার কয়েন। উদ্দেশ্য টাকার গাছ লাগাবো! সেই গাছে টাকা ধরবে আর সেই টাকা দিয়ে ফল কিনে  খেয়ে শক্তিশালী হব। মাটি খুড়ে ৫ টাকার কয়েন লাগালাম। তারপর ভাবলাম ৫ টাকার গাছে আর কতইবা টাকা ফলবে। তাই ৫ টাকা তুলে লাগালাম ৫০ টাকার নোট।

তারপর দিন যায় রাত যায় কিন্তু গাছ তো হয় না! তারপর একদিন মাটি খুঁড়ে দেখি একটা ছোট কাগজের টুকরা, যাতে ৫০-এর ৫-এর কিছু অংশ আর একটা ০ দেখা যাচ্ছে! এ ঘটনায় মিটে গেল আমার টাকার গাছ লাগানোর শখ। ভাবলাম যদি ওই ৫০ টাকা দিয়ে ফল কিনে খেতাম তাও কিছু শক্তি পেতাম গায়ে!

টেকেরহাট পপুলার হাইস্কুল এন্ড কলেজ, টেকেরহাট, রাজৈর, মাদারীপুর।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন