ছেলে আর জামাই যায় গরু খুঁজতে

  ড. এনামুল হক ২৯ জুলাই ২০২০, ২১:০০:২০ | অনলাইন সংস্করণ

আমাদের শৈশব বা কৈশোরে কোরবানির ঈদ কাটত অন্যরকম আনন্দে। যে আনন্দের রেশ থেকে যেত বছরজুড়ে। গরু কিনতে আমরা হাটে যেতাম দলবেঁধে। হাটে ঘুরে ঘুরে পছন্দ করে গরু কেনা হতো। মনে পড়ে, গরুর হাটে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতাম। কবে গরুর হাটে যেতে পারব। শত শত গরু একসঙ্গে দেখতে পাব। কবে হাট থেকে গরু কিনে টানতে টানতে বাড়ি আনতে পারব। এ যেন এক মধুর অপেক্ষা!

গরুর হাটে এত ভিড়, এত মানুষ একসঙ্গে, এত গরু-ছাগল, তবুও শরীরে ক্লান্তি আসত না কখনও। কখনও বিরক্ত হতাম না। হাটে গিয়ে আমরা অনেক রকম আনন্দ করতাম। সেই আনন্দের ভাগ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতাম।

একবার গরুর হাটে গিয়েছি। হঠাৎ দেখি চারদিক মানুষ ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছে। গরু নাকি ছুটে গেছে। আমরা কী করব বুঝতে পারছিলাম না। সামনে যাব নাকি পেছনে যাব, নাকি দাঁড়িয়ে থাকব- তাও বুঝে উঠতে পারছিলাম না। পরে জানতে পারলাম কোনো গরু ছুটেনি। হাটে নাকি গরু চোর ধরা পড়েছে এ নিয়ে এত কাণ্ড। এটা মনে পড়লে এখনও হাসি পায়।

কত রকমের ঘটনাই না ঘটত। এখন তো আর সে রকম আনন্দ হয় না। আর এবার তো মহামারীর সময়। গরু কীভাবে কিনব এ নিয়ে ভাবছি কদিন ধরে। যদিও অনেকে অনলাইনে সব সেরে নিচ্ছেন। তবে হাটে গিয়ে গরু কেনার আনন্দটাই অন্যরকম। সেই দিনগুলো খুব মিস করি। সত্যিকার অর্থে এখন ইচ্ছে থাকলেও আর উপায় নেই। নানা কারণে হাটে যাওয়া তো রীতিমতো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঈদের নাটক নিয়েও অনেক মজার ঘটনা আছে। আমাদের প্রডাকশন থেকে একবার একটা নাটক নির্মাণ হল। নাটকে অনেক মজার মজার ঘটনা ঘটে। গরু কিনে আনতে গিয়ে গরু ছুটে যায়। ছেলে আর জামাই যায় গরু খুঁজতে। এক সময় ফোন করে বলি, ‘তোমাদের আর গরু খোঁজার দরকার নেই। বাসায় ফিরে এসো। গরু খুঁজতে গিয়ে আবার তোমাদের যেন হারিয়ে না ফেলি!’ বাড়িতে এ নিয়ে বেশ কলহ। বউ বলে, ‘তুমি কেন ওদের গরু খুঁজতে পাঠালে!’ এ রকম অনেক ঘটনা। অপেক্ষায় থাকি তারা কী খবর নিয়ে আসে। সব মিলিয়ে বেশ মজার কাহিনী ছিল আর কী।

আবার ঈদে নতুন জামা কেনাটাও একটা আনন্দের ব্যাপার ছিল। নতুন জামার জন্য বছর ধরে অপেক্ষা করতাম কবে ঈদ আসবে। তখন তো নতুন জামা পাওয়া ছিল অন্যরকম আনন্দের। তখন একটি কী দুটি জামা পেতাম ঈদে। এখন তো অনেক পাই। বেশি পেলে আবার আনন্দটা কমে যায়। ওই একটি দুটি নতুন জামার মধ্যে যে আনন্দ লুকিয়ে থাকত সেটা এখন আর পাওয়া যায় না। দিনগুলো সব হারিয়ে গেছে!

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত