জ্ঞানগর্ভ আলোচনামুখর একদিন
jugantor
জ্ঞানগর্ভ আলোচনামুখর একদিন

  জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য  

১১ আগস্ট ২০২০, ২১:৩০:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ক্র্যাশ নক দেয় না বলে সর্বদাই ডিপ্রেশনে থাকি। হঠাৎ সে নক দিল। আরও ডিপ্রেশনে চলে গেলাম। কারণটা বলি। প্রথমত আমি বিশ্বাসই করতে পারি নাই ক্র্যাশ আমাকে নক দেবে। খানিকক্ষণ ফোনের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে মুখ ঘুরিয়ে চলে গেলাম। স্বপ্ন! এরকম স্বপ্ন কত দেখি!

একটু পরই আম্মু দরজায় ধাক্কাধাক্কি করতে করতে বলবে, ওঠেন মহারানী ওঠেন! তখনই স্বপ্ন ভঙ্গ হবে। ঘুরে এসে আবার দেখলাম, এখনও মেসেজ দেখা যাচ্ছে। স্বপ্নের ডিউরেশন খুব অল্প হয়। এত সময় তো থাকার কথা না! এতক্ষণে আমার মনে হলো বিষয়টা স্বপ্ন না। চিমটি কেটে দেখলাম ব্যাথা লাগছে!  

আমি ছাদে উঠে বিকট একটা চিৎকার দিলাম। তারপর বাথরুমে ঢুকে ঝরনার নিচে দাঁড়িয়ে যেমন খুশি তেমন নাচো পদ্ধতিতে নাচলাম খানিক্ষণ। তারপর বেরিয়ে এসে বান্ধবীকে ফোন দিলাম। 

‘শোন, দারুণ খবর আছে! ক্র্যাশ আমারে নক দিছে!’

বান্ধবী হাই তুলতে তুলতে বলল, ‘আবার স্বপ্ন দেখছিস!’ 

আমি রেগেমেগে জবাব দিলাম, ‘ফেসবুকে দেখ! স্ক্রিনশুট পাঠাইছি!’

বান্ধবী ফেসবুক দেখে একটা ওয়াও রিঅ্যাক্ট দিয়ে জবাব দিল, ‘এখন কী করবি?’

আমি দুঃখী গলায় বললাম, ‘বুঝতে পারছি না কী করা যায়। কী নিয়ে কথা বলব?’

বান্ধবী খানিক্ষণ ভেবেটেবে জবাব দিল, ‘মানব সভ্যতার বিকাশ নিয়ে কথা বলতে পারিস, ডারউইনের বিবর্তনবাদ বিষয়ে তার মতামতটা জেনে নিলি!’
‘আর?’ 

‘এই যে তুই ওনাকে নিয়ে প্রায়ই স্বপ্ন দেখিস, এটা নিয়েও কথা বলতে পারিস। স্বপ্ন এবং অবচেতন মনের রহস্যময়তা এবং স্বপ্নের জাদুকরী ক্ষমতা এইসব আর কি।’

‘গল্প-উপন্যাস আইমিন সাহিত্য নিয়ে কি কথা বলব? এই যেমন ধর হুমায়ূন আহমেদ, বিভূতি ভূষণ, শরৎচন্দ্র বা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়?’

‘আপাতত না! সে যদি বইপ্রেমী না হয় তাহলে বিরক্ত হবে!’

‘ওকে!’

ক্র্যাশ মেসেজ দিয়েছিল ‘হ্যালো’! তবে এই হ্যালো যে কোনও সাধারণ মানুষের হ্যালো’র থেকে আলাদা। এই হ্যালো’র ফন্টগুলা ড্যান্স করে, এই হ্যালো অনেক মোলায়েম হয়ে অনেকক্ষন কানে বাজে।

আমি কতটা জ্ঞানী সেটা প্রথম বারেই তাকে বুঝিয়ে দেবার জন্য ফরাসি কায়দায় রিপ্লাই দিলাম, ‘বনজুর! আচ্ছা আপনার কী মনে হয়? মানুষ বাঁদর থেকে এসেছে?’ 

ক্র্যাশ মেসেজ সিন করে অনেকক্ষণ পর রিপ্লাই দিল, ‘হোয়াট!’

‘আমি বলতে চাইছি ধরেন আপনার পূর্বপুরুষ তারা কি বাঁদর থেকে এসেছে? তাদের দেখে কখনও আপনার এরকম মনে হয়েছে?’

ক্র্যাশ রিপ্লাই দিল, ‘তাদের দেখে তো মনে হয়নি, তবে তোমাকে দেখে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। বাঁদর  থেকে আসতেও পারে!’ 

‘তার মানে আপনি ডারউইনের বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেন? আমি কিন্তু করি না।’

‘শোনো লাবণ্য!’

‘জি বলেন।’

‘এগুলা কী বলো?’

আমি হড়বড় করে জবাব দিলাম, ‘আপনি মেসেজ দিয়েছেন তো, মাথার ঠিক নাই। আপনাকে প্রায়ই স্বপ্নে  দেখি। আসলে স্বপ্নের ওপর মানুষের হাত নাই। অবচেতন মন যা দেখাবে তাই দেখতে হবে। আমি দেখি আমাদের বিয়ে হইছে, বাচ্চা হইছে দুইটা। বড়টার নাম অনিশ, ছোটটার নাম নবনী। নাম দুইটা আপনার কি পছন্দ হইছে? যদি না হয় বদলে দেয়া যাবে। আপনার ফেভারিট রাইটার কে? তার কোনো চরিত্রের নাম রাখতে চাইলেও আমার আপত্তি নাই।’

ক্র্যাশ মেসেজ সিন করে ‘ধুর পাগল ছাগল’ লিখে মেসেজ ব্লক দিয়ে দিল।

আমার দুঃখ পাবার কথা কিন্তু দুঃখ না পেয়ে বরং খুশী হলাম। ক্র্যাশ মেসেজ দেবার পরপরই দুঃখ  পেয়েছিলাম বেশি। মেসেজ ব্লক খেয়ে খ্শুী হলাম।

ক্র্যাশ থাকবে ক্র্যাশের মতো। ব্লক দিবে, ডে সিন করবে না, কথার জবাব দিবে না। তারা নক দিলে জগৎসংসার উলটপালট হয়ে যায়! ওজন স্তরেও সম্ভবত বড় ধরনের  কোনো পরিবর্তন আসে, গ্রীন হাউস এফেক্ট তৈরি হয়!

এখন আমার একটু রাগ হচ্ছে, দুঃখও লাগছে। ওজন স্তর এবং গ্রীন হাউস বিষয়ে বান্ধবী সাজেশন দিল না। দিলে এটা নিয়ে আরেকটু কথা বলা যেত!

জ্ঞানগর্ভ আলোচনামুখর একদিন

 জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য 
১১ আগস্ট ২০২০, ০৯:৩০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ক্র্যাশ নক দেয় না বলে সর্বদাই ডিপ্রেশনে থাকি। হঠাৎ সে নক দিল। আরও ডিপ্রেশনে চলে গেলাম। কারণটা বলি। প্রথমত আমি বিশ্বাসই করতে পারি নাই ক্র্যাশ আমাকে নক দেবে। খানিকক্ষণ ফোনের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে মুখ ঘুরিয়ে চলে গেলাম। স্বপ্ন! এরকম স্বপ্ন কত দেখি!

একটু পরই আম্মু দরজায় ধাক্কাধাক্কি করতে করতে বলবে, ওঠেন মহারানী ওঠেন! তখনই স্বপ্ন ভঙ্গ হবে। ঘুরে এসে আবার দেখলাম, এখনও মেসেজ দেখা যাচ্ছে। স্বপ্নের ডিউরেশন খুব অল্প হয়। এত সময় তো থাকার কথা না! এতক্ষণে আমার মনে হলো বিষয়টা স্বপ্ন না। চিমটি কেটে দেখলাম ব্যাথা লাগছে!

আমি ছাদে উঠে বিকট একটা চিৎকার দিলাম। তারপর বাথরুমে ঢুকে ঝরনার নিচে দাঁড়িয়ে যেমন খুশি তেমন নাচো পদ্ধতিতে নাচলাম খানিক্ষণ। তারপর বেরিয়ে এসে বান্ধবীকে ফোন দিলাম।

‘শোন, দারুণ খবর আছে! ক্র্যাশ আমারে নক দিছে!’

বান্ধবী হাই তুলতে তুলতে বলল, ‘আবার স্বপ্ন দেখছিস!’

আমি রেগেমেগে জবাব দিলাম, ‘ফেসবুকে দেখ! স্ক্রিনশুট পাঠাইছি!’

বান্ধবী ফেসবুক দেখে একটা ওয়াও রিঅ্যাক্ট দিয়ে জবাব দিল, ‘এখন কী করবি?’

আমি দুঃখী গলায় বললাম, ‘বুঝতে পারছি না কী করা যায়। কী নিয়ে কথা বলব?’

বান্ধবী খানিক্ষণ ভেবেটেবে জবাব দিল, ‘মানব সভ্যতার বিকাশ নিয়ে কথা বলতে পারিস, ডারউইনের বিবর্তনবাদ বিষয়ে তার মতামতটা জেনে নিলি!’
‘আর?’

‘এই যে তুই ওনাকে নিয়ে প্রায়ই স্বপ্ন দেখিস, এটা নিয়েও কথা বলতে পারিস। স্বপ্ন এবং অবচেতন মনের রহস্যময়তা এবং স্বপ্নের জাদুকরী ক্ষমতা এইসব আর কি।’

‘গল্প-উপন্যাস আইমিন সাহিত্য নিয়ে কি কথা বলব? এই যেমন ধর হুমায়ূন আহমেদ, বিভূতি ভূষণ, শরৎচন্দ্র বা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়?’

‘আপাতত না! সে যদি বইপ্রেমী না হয় তাহলে বিরক্ত হবে!’

‘ওকে!’

ক্র্যাশ মেসেজ দিয়েছিল ‘হ্যালো’! তবে এই হ্যালো যে কোনও সাধারণ মানুষের হ্যালো’র থেকে আলাদা। এই হ্যালো’র ফন্টগুলা ড্যান্স করে, এই হ্যালো অনেক মোলায়েম হয়ে অনেকক্ষন কানে বাজে।

আমি কতটা জ্ঞানী সেটা প্রথম বারেই তাকে বুঝিয়ে দেবার জন্য ফরাসি কায়দায় রিপ্লাই দিলাম, ‘বনজুর! আচ্ছা আপনার কী মনে হয়? মানুষ বাঁদর থেকে এসেছে?’

ক্র্যাশ মেসেজ সিন করে অনেকক্ষণ পর রিপ্লাই দিল, ‘হোয়াট!’

‘আমি বলতে চাইছি ধরেন আপনার পূর্বপুরুষ তারা কি বাঁদর থেকে এসেছে? তাদের দেখে কখনও আপনার এরকম মনে হয়েছে?’

ক্র্যাশ রিপ্লাই দিল, ‘তাদের দেখে তো মনে হয়নি, তবে তোমাকে দেখে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। বাঁদর থেকে আসতেও পারে!’

‘তার মানে আপনি ডারউইনের বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেন? আমি কিন্তু করি না।’

‘শোনো লাবণ্য!’

‘জি বলেন।’

‘এগুলা কী বলো?’

আমি হড়বড় করে জবাব দিলাম, ‘আপনি মেসেজ দিয়েছেন তো, মাথার ঠিক নাই। আপনাকে প্রায়ই স্বপ্নে দেখি। আসলে স্বপ্নের ওপর মানুষের হাত নাই। অবচেতন মন যা দেখাবে তাই দেখতে হবে। আমি দেখি আমাদের বিয়ে হইছে, বাচ্চা হইছে দুইটা। বড়টার নাম অনিশ, ছোটটার নাম নবনী। নাম দুইটা আপনার কি পছন্দ হইছে? যদি না হয় বদলে দেয়া যাবে। আপনার ফেভারিট রাইটার কে? তার কোনো চরিত্রের নাম রাখতে চাইলেও আমার আপত্তি নাই।’

ক্র্যাশ মেসেজ সিন করে ‘ধুর পাগল ছাগল’ লিখে মেসেজ ব্লক দিয়ে দিল।

আমার দুঃখ পাবার কথা কিন্তু দুঃখ না পেয়ে বরং খুশী হলাম। ক্র্যাশ মেসেজ দেবার পরপরই দুঃখ পেয়েছিলাম বেশি। মেসেজ ব্লক খেয়ে খ্শুী হলাম।

ক্র্যাশ থাকবে ক্র্যাশের মতো। ব্লক দিবে, ডে সিন করবে না, কথার জবাব দিবে না। তারা নক দিলে জগৎসংসার উলটপালট হয়ে যায়! ওজন স্তরেও সম্ভবত বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসে, গ্রীন হাউস এফেক্ট তৈরি হয়!

এখন আমার একটু রাগ হচ্ছে, দুঃখও লাগছে। ওজন স্তর এবং গ্রীন হাউস বিষয়ে বান্ধবী সাজেশন দিল না। দিলে এটা নিয়ে আরেকটু কথা বলা যেত!