ধনী মহিলা ও একজন সাহায্যপ্রার্থী
jugantor
ধনী মহিলা ও একজন সাহায্যপ্রার্থী

  আশরাফুল আলম পিনটু  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৪৫:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

দান-দাক্ষিণ্যের জন্য ভদ্রমহিলার খুব নামডাক। ধনী পরিবার। শহরের কমবেশি সবাই চেনেন তাকে। গরিব অসহায় মানুষ আসে সাহায্য নিতে। পারতপক্ষে কাউকেই ফেরান না তিনি। হাত খুলে দান করেন।

এ জন্য মাঝেমধ্যেই ঝামেলায় পড়ে যান। হাতের পার্স খালি হয়ে যায়। নিজের কেনাকাটার নগদ টাকা থাকে না এমনকি যথেষ্ট টাকা জমা থাকে না ব্যাংকেও। তখন ভারি বিপদে পড়তে হয় তাকে। চেক লিখলে ফেরত আসে। ক্রেডিট কার্ডেরও একই দশা হয়।

দোকানদার পেমেন্ট নিতে গিয়ে ফেরত দিয়ে বলেন, ‘ম্যাডাম, আপনার কার্ডে পর্যাপ্ত টাকা নেই।’ সে এক বিব্রতকর পরিস্থিতি। তারপরও অকাতরে দান করতে পিছপা হোন না তিনি।

একদিন সকালে ভাঙাচোরা চেহারার এক লোক এলেন মহিলার কাছে। সঙ্গে ছোট দুটি মেয়ে। যেমন মলিন-জীর্ণ পোশাক তেমনই অসহায় চেহারা।
মহিলা দরজা খুলে দিলেন। জিজ্ঞাসু চোখে তাকাতেই লোকটা বললেন, ‘ম্যাডাম, এই গরিব অসহায় মেয়ে দুটির পরিবারকে কি সাহায্য করতে পারবেন?’

‘কেন, কী হয়েছে ওদের?’ জানতে চাইলেন মহিলা। ‘ওদের বাবার চাকরি চলে গেছে। উপার্জন বন্ধ। মাও খুব অসুস্থ। কাজ করতে পারেন না। কোনো টাকা-পয়সাও নেই ওদের হাতে।’

‘খুবই দুঃখজনক!’ বললেন মহিলা।

‘হ্যাঁ, খেয়ে না খেয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে ওদের।’

‘আহা, কী কষ্ট! কী কষ্ট!’

‘কষ্ট আরও আছে ম্যাডাম। বাড়িভাড়ার টাকা শোধ না করলে এবার তো পুরো পরিবারকে রাস্তায় দিন কাটাতে হবে!’  

‘বলেন কী!’ মহিলা বললেন, ‘খুবই খারাপ অবস্থা দেখছি! কিন্তু জানতে পারি, আপনি কে?’

লোকটা হাত কচলে বললেন, ‘আমি ওদের বাড়িওয়ালা!’

ধনী মহিলা ও একজন সাহায্যপ্রার্থী

 আশরাফুল আলম পিনটু 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দান-দাক্ষিণ্যের জন্য ভদ্রমহিলার খুব নামডাক। ধনী পরিবার। শহরের কমবেশি সবাই চেনেন তাকে। গরিব অসহায় মানুষ আসে সাহায্য নিতে। পারতপক্ষে কাউকেই ফেরান না তিনি। হাত খুলে দান করেন।

এ জন্য মাঝেমধ্যেই ঝামেলায় পড়ে যান। হাতের পার্স খালি হয়ে যায়। নিজের কেনাকাটার নগদ টাকা থাকে না এমনকি যথেষ্ট টাকা জমা থাকে না ব্যাংকেও। তখন ভারি বিপদে পড়তে হয় তাকে। চেক লিখলে ফেরত আসে। ক্রেডিট কার্ডেরও একই দশা হয়।

দোকানদার পেমেন্ট নিতে গিয়ে ফেরত দিয়ে বলেন, ‘ম্যাডাম, আপনার কার্ডে পর্যাপ্ত টাকা নেই।’ সে এক বিব্রতকর পরিস্থিতি। তারপরও অকাতরে দান করতে পিছপা হোন না তিনি।

একদিন সকালে ভাঙাচোরা চেহারার এক লোক এলেন মহিলার কাছে। সঙ্গে ছোট দুটি মেয়ে। যেমন মলিন-জীর্ণ পোশাক তেমনই অসহায় চেহারা।
মহিলা দরজা খুলে দিলেন। জিজ্ঞাসু চোখে তাকাতেই লোকটা বললেন, ‘ম্যাডাম, এই গরিব অসহায় মেয়ে দুটির পরিবারকে কি সাহায্য করতে পারবেন?’

‘কেন, কী হয়েছে ওদের?’ জানতে চাইলেন মহিলা। ‘ওদের বাবার চাকরি চলে গেছে। উপার্জন বন্ধ। মাও খুব অসুস্থ। কাজ করতে পারেন না। কোনো টাকা-পয়সাও নেই ওদের হাতে।’

‘খুবই দুঃখজনক!’ বললেন মহিলা।

‘হ্যাঁ, খেয়ে না খেয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে ওদের।’

‘আহা, কী কষ্ট! কী কষ্ট!’

‘কষ্ট আরও আছে ম্যাডাম। বাড়িভাড়ার টাকা শোধ না করলে এবার তো পুরো পরিবারকে রাস্তায় দিন কাটাতে হবে!’

‘বলেন কী!’ মহিলা বললেন, ‘খুবই খারাপ অবস্থা দেখছি! কিন্তু জানতে পারি, আপনি কে?’

লোকটা হাত কচলে বললেন, ‘আমি ওদের বাড়িওয়ালা!’